রাশিয়ার প্রতিবেশী মধ্য এশিয়ার দেশ গুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে. ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণে ওয়াশিংটনকে বাধ্য হতে হয়েছে আফগানিস্তানে ও সেখান থেকে মালপত্র ও রসদ সরবরাহের জন্য অন্য পথের সন্ধান করার. এর জন্য সবচেয়ে ভাল সম্ভাবনা দিতে পারে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের প্রজাতন্ত্র গুলি – কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্থান.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক পরিষদ এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আফগানিস্থানে রসদ যোগান দেওয়ার জন্য মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকে ব্যবহার সম্বন্ধে. সেখানে আফগানিস্থানে অপারেশনের সাফল্যের জন্য এই অঞ্চলের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বকে খুবই মূল্য দেওয়া হয়েছে. উদাহরণ হিসাবে পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে যে, এই বছরে উজবেকিস্থান হয়ে পাঠানো হয়েছে শতকরা চল্লিশ ভাগ রসদ, আর বাকী গিয়েছে পাকিস্থান হয়ে. বিগত সময়ে ইসলামাবাদ দুইবার ট্রানজিট বন্ধ করে দিয়েছিল. শেষবার – নভেম্বর মাসে, ন্যাটো জোটের তরফ থেকে পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চৌকি আক্রমণের পরে. যদিও রিপোর্টে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আবার স্থিতিশীল হবে, তাও ইসলামাবাদের মনোভাবের কাছে বন্দী হয়ে থাকতে সেনেট চায় নি. এই প্রসঙ্গে রিপোর্টে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সক্রিয় ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা করার.

যতক্ষণ পর্যন্ত এই সহযোগিতা মানবিক কারণে করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মস্কোর এই নিয়ে কোনও আপত্তি নেই, এই কথা মনে করে "ফরগনা" আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক দানিল কিসলভ বলেছেন:

"রাশিয়া প্রথম দেশ যারা আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সহকর্মীদের নিজের এলাকা ও আকাশ সীমা আফগানিস্তানে ও সেখান থেকে মালপত্র আনা নেওয়া করতে স্বীকৃতী দিয়েছিল, যখন সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বাল হয়েছিল. এখানে বিরোধের কোন ভিত্তি নেই. অন্ততঃ যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট ঘোষণা না করছে যে, তারা উজবেকিস্থান, তাজিকিস্থান ও কিরগিজিয়াতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কোন নতুন সামরিক ঘাঁটি বা কেন্দ্র তৈরী করতে চায়."

আর এই ধরনের পদক্ষেপ একেবারেই বাস্তব. এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ২০০৪ সালে উজবেকিস্থান সম্বন্ধে নেওয়া সামরিক সহায়তা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার ও উজবেকিস্তানকে সেই সমস্ত সমর সম্ভারের বাড়তি অংশ দিয়ে দেওয়ার, যা আফগানিস্তানের যুদ্ধে ব্যবহার আর হবে না. এর পরেই যুক্তিসঙ্গত ভাবে সেখানে সামরিক ঘাঁটি খোলা হতে পারে, আর তারপরে সরকারি ভাবেই এই এলাকাকে নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ জড়িত অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হতে পারে. এর থেকে কি হতে পারে, তা আমরা এখনই জানি, নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার উদাহরণে, এই কথা উল্লেখ করে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ গবেষণা ইনস্টিটিউটের এশিয়া বিভাগীয় প্রধান আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেন:

"নিয়ম অনুযায়ী, এর পরেই এই অঞ্চলের দেশে নানা রকমের সমস্যা শুরু হয় যেমন রাষ্ট্রের জন্য, তেমনই সেখানের জনগনের জন্যও. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে কি করে এই এলাকার কোন না কোন দেশে উন্নয়ন হওয়া দরকার তা ঠিক করার নামে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনগনের মতামত নিয়ে খুব কমই পাত্তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে. বর্তমানে পাঁচটি মধ্য এশিয়ার দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ প্রশাসন তাও খুবই দুর্বল, যদি তাদের সেই নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলির সঙ্গেও তুলনা করে দেখা হয়. তাই যে কোন ধরনের বাইরে থেকে নাক গলানো, যা এই অঞ্চলের খুবই অস্থিতিশীল আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে ভারসাম্য করে দিতে পারে ও যা ফলে প্রচুর বিরোধের উত্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে".

প্রসঙ্গতঃ বিরোধ, তা যেমন ভিতরে, তেমনই বাইরেও হতে পারে. নিজেদের রিপোর্টে সেনেটের পরিষদ মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, এই ক্ষেত্রে উল্লেখও করেছে যে, এটা আঞ্চলিক ভাবে বৃহত্ শক্তি রাশিয়া ও চিনের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের দেশ গুলিতে নিজেদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জড়িত বলে করা ঘোষণা মনে তো হয় না যে, এই দেশ গুলি বা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশ গুলির তরফ থেকে কোন রকমের ভাবলেশহীণ ভাবে দেখা হতে পারে, যারা মধ্য এশিয়াতে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত অবস্থায় নিজেদের দেখছে, তাদের পক্ষ থেকেও. এই কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেন:

"মধ্য এশিয়াতে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হয়ে যাদের রয়েছে, তাদের একটি দেশও আমেরিকার তরফ থেকে এই ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে একমত হতে পারে না. সকলেই এটার বিরুদ্ধাচরণ করবে. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের বিরোধের জন্য ব্যবহার করা হবে, খুবই বিভিন্ন রকমের পদ্ধতি ও মাধ্যম".

তার ওপরে রাশিয়ার জন্য মদ্য এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক – শুধু ব্যবসা বা রাজনীতির প্রশ্ন নয়. রাশিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, উজবেকিস্থান এই সব দেশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মানুষের এক সংযুক্ত ঐতিহাসিক বিধিলিপি আছে. আর দূরে কোন সাত সমুদ্রের পারে না হয়ে, যা একেবারে নিজেদের সীমান্তের পাশেই করা হচ্ছে, তা দেখেও মুখ ফিরিয়ে থাকতে রাশিয়া পারে না.