রাষ্ট্রীয় সভায় প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া বানী যা আগামী নতুন রাজনৈতিক নীতিমালা সম্পর্কে ধারনা দিয়েছে.রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সামাজিক গবেষকরা দিমিত্রি মেদভেদেভের বক্তব্যের অতি জরুরি বিষয়বলীর গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন.

এদিকে রাষ্ট্রীয় সভায় মেদভেদেভের সর্বশেষ বানী যে এতটাই উল্লেখযোগ্য হবে সে সম্পর্কে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের আগাম কোন ধারনা ছিল না.কারণ হিসেবে উল্লেখ করাই যেতে পারে যে,দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাষ্ট্রীয় সভায় এটাই ছিল মেদভেদেভের সর্বশেষ বানী.প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে মেদভেদেভের কাজের প্রতিবেদন ও নির্বাচন পরবর্তী বিক্ষোভ সম্পর্কে মতামত শোনার জন্য সবাই অপেক্ষায় ছিলেন.মেদভেদেভ বলেছেন,পরবর্তি বিষয়টি আমি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি.রুশ ফেডারেশনের জেলা পর্যায়ে জননেতা নির্বাচনে ওই সব অঞ্চলের অধিবাসীরা  সরাসরি ভোট প্রদান করবেন.পার্টির নিবন্ধন কাজের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অবলম্বন করতে হবে.আঞ্চলিক আইন কর্তৃপক্ষ দুমার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সাক্ষর সংগ্রহের কার্যক্রমের জটিলতা বাতিল করতে হবে.রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ৩ লাখ ও পার্লামেন্টের অন্তর্গত না এমন দলের প্রার্থীর জন্য ১ লাখ সাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে.

প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের বানী অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল.যে সব রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা পূ্র্বেই মেদভেদেভের বানীর মূল বিষয়বলী নির্ধারন করে রেখেছিলেন তাদেরকে সেখানে পরিবর্তন আনতে হয়েছে.এ্যাপ্লাইড পলিট্যিকাল ইন্সটিটিউটের পরিচালক অলগা ক্রিশতানোভস্কায়া নিজের মন্তব্যে বলেন, ‘মনে রাখার মতই.৪ বছর মেয়াদি মেদভেদেভের প্রেসিডেন্ট আমলে এটিই ছিল অন্যতম চুড়ান্ত বানী.রাজনৈতিক পদ্ধতির সাথে জড়িত সব কিছুই ছিল অপ্রত্যাশিত.এক অর্থে হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন অবস্থান থেকে যে সব মন্তব্য আসছিল,এখন তা শোনা যাচ্ছে.মেদভেদেভ আমাদের রাজনৈতিক পদ্ধতির এই সব বিষয়বলী শনাক্ত করেছেন  এবং বলেছেন যে,তা সংশোধন করা হবে.এটি সত্যিই আনন্দের.যদিও সত্যিই তা করা হয় তাহলে বিরোধী পক্ষের অনেকেরই হাতের তুরুপের তাস ফসকে যাবে’.  

 প্রেসিডেন্ট তার বানীতে সংলাপ অনুষ্ঠানের সংকেত দিয়েছেন.এমনটি মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিওনিদ রাদজইকোবস্কী.তিনি বলেন, ‘পুতিন তাঁর সম্মেলনে যে প্রক্রিয়াটি শুরু করেছেন এখন তা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে.মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন,যে কোন ধরনের সংঘর্ষে না গিয়ে বিরোধী পক্ষের কথা শুনতে হবে.একে অপরের প্রতি যৌথ কার্যক্রমের চেষ্টা বলবত থাকবে.ইউরোপীয় দেশের অভিজ্ঞতা আমরা নিতে পারি.কিভাবে এই কাজ এগিয়ে যাবে তা বলা কঠিন.অধিকাংশ মধ্যভিত্ত শ্রেনীর ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি সন্তোষজনক.তবে পরিস্থিতিকে পুতিন ও মেদভেদেভ যে সহনশীলভাবেই গ্রহন করেছেন তা প্রকাশ পেয়েছে’.

সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই অনুষ্ঠিত হওয়া বিরোধী দলের সমাবেশ ও রাজনৈতিক বক্তব্যই মূলত প্রেসিডেন্টের বানীতে বিশেষ প্রভাব রেখেছে.এখানে উল্লখ্য যে,মেদভেদেভ তার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে নতুন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন.

একই সাথে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা প্রেসিডেন্টের বানীর পর্যালোচনায় বলেছেন,আগামী ২০১২ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজনীতির সংস্কারের কাজ স্থগিত রাখা হবে.মূলত তখনই দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হবে.

যদিও  মেদভেদেভের রাষ্ট্রীয় সভার বানী দেওয়ার পরের দিনই দুমায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা সংক্রান্ত পরিবর্তন আনা হয়.

রাজনৈতিক দলের নতুন নিবন্ধন আইন ও প্রার্থীতা হওয়ার যোগ্যতা সংক্রান্ত নীতিমালা আগামী ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর হবে.রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন যে,বর্তমান রাজনৈতিক সংষ্কার আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করবে.৫ বছর পরে পরবর্তি পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে