পাকিস্তানের আর্মি ও দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রন থেকে সড়ে যাচ্ছে।পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা জিলানী এই রোমাঞ্চকর ঘোষণা দিয়েছেন।তিনি আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনার উদ্দোগের জন্য সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করেন এবং প্রথমবারের মত খোলাখুলি মতামতে বেসামরিক সরকারের রাষ্ট্রের ক্ষমতা হারানোর কথা উল্লেখ করেন।

সামরিক রদবধলের কথা ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছিল যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারী চিকিত্সার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত যান।চলতি সপ্তাহের সোমবার তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসলেও দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিতই থেকে গেল।আসিফ আলী জারদারী অনেকটা গোপনীয়ভাবে স্বদেশে ফিরেছেন এবং তিনি ইসলামাবাদে না গিয়ে পারিবারিক বাসভবন করাচিতে অবস্থান করেন।

যদিও বৃহস্পতিবার দেশের রাষ্ট্রপ্রধান রাজধানীতে ফিরে আসেন,কিন্তু এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা বেসামরিক সরকার পতনের যথেষ্ট ঝুঁকি শনাক্ত করেছেন।এর প্রধান কারণ হল-একদিকে সেনাবাহিনীর কৌশলতা এবং অন্যদিকে সরকারের সাথে প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি অবস্থান।

প্রধান যে কারণটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তা হল নথিপত্র,যেখানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দেশে সামরিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দৃড় সম্পর্ক তৈরীর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিশ্বাষ করছেন যে,আসিফ আলী জারদারী দেশের সাথে আপোষ করছেন।একই সাথে গনমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে বলা হয়,পাকিস্তানের আর্মি ও গোয়েন্দা বিভাগের  শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারী ও সরকারকে অনেকটা শান্তিময় প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বুঝিয়ে দিতে বাধ্য করছে।এ বিষয় রেডিও ভয়েস অব রাশিয়াকে জানিয়েছেন প্রাচ্য –সম্পর্কীয় ইন্সটিটিউটের পাকিস্তান বিভাগের সহকারি বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমীর মাসকালেনকো।তিনি বলছেন,‘সামরিক বাহিনী কর্তৃক দেশের ক্ষমতাগ্রহন এখনই সম্ভব না।এই ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের পরিস্থিতি কোন প্রভাব ফেলছে না।স্বয়ং পাকিস্তান নিজেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়া কোন সুফল বয়ে আনবে না।বিশেষকরে,শরুতেই তাহলে অনেক সমস্যার জবাবদিহিতা করতে হবে।কেনই বা সেনাবাহিনী এ কাজে আসবে।কোন কিছু ছাড়াই তারা রাজনীতিকে  অনেক প্রভাবিত করে।সঙ্গত কারণেই কেউই এর দ্বায়ভার গ্রহন করবে না’।

একই সাথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা জিলানী বিশেষজ্ঞের মতামতের সাথে একই ধারনা পোশন করছেন।সম্প্রতি তিনি বলেছিলেন,যদি আর্মি ও গোয়েন্দা বিভাগ নিজেদেরকে রাষ্ট্রের ভিতরে আবার রাষ্ট্র বলে মনে করে তাহলে তারা ভুল করবে।

যদিও দিনে দিনে পাকিস্তানে সেনা বাহিনীর ভুমিকা অনেক শক্তিশালী হচ্ছে।আগুনে তেল দেয়ার কাজটা করেছে অবশ্য ন্যাটো বাহিনী।সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ব্লক পোষ্টে ন্যাটোর ড্রোন হামলায় একাধিক সেনাবাহিনর সদস্য নিহত হয়।এর উত্তর দিতে পাকিস্তানকে অপেক্ষা করতে হয় নি।পাকিস্তানের ভূখন্ড দিয়ে আফগানিস্তানে ন্যাটোর রসদ সরবরাহের ২টি পথের ১টি বন্ধ করে দেয়া হয়।পশ্চিমা দেশের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়ন ও দেশের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুরো ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করেছে।এমনটি মনে করছেন রেগমেন্ট পোর্টালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টানিসলাভ তারাসোভ।তিনি বলছেন,‘পাকিস্তানের বর্তমান প্রশাসন সামগ্রিক অর্থে পশ্চিমাদের কাছ থেকে অনেকটা দূরেই অবস্থান নিচ্ছে এবং রাশিয়া ও চীনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।এ কারণেই ওয়াশিংটন পাকিস্তানের বর্তমান প্রশাসনের ওপর হয়ত অসন্তুষ্ট  এবং বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।আমাদের সবাইকে এই বিষয়টি খুবই স্বাভাবিকভাবেই নিতে হবে।এই ঘটনা আমাদেরকে পূর্বাভাষ দিচ্ছে যে,এই অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী হতে যাচ্ছে এবং এ থেকে পরিত্রান পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে’।

এখানে উল্লেখ করা যাচ্ছে যে,বর্তমান মন্ত্রীপরিষদের মেয়াদ আগামী ২০১৩ সালে শেষ হচ্ছে।অপেক্ষার পালা শেষ হওয়ার সময় বেশী অবশিষ্ট নেই।দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের কাছ থেকে নেওয়ার প্রক্রিয়া সামরিক বাহিনী তাহলে বৈধ প্রক্রিয়াই এগিয়ে যাচ্ছে।যদিও পাকিস্তান বেশ কয়েকবার সামরিক শাষন কর্তৃক পরিচালিত হয়েছে এবং প্রতিবারই তা একটি বিষয়েরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে এবং হল –অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়া।