রাশিয়ার সমাজের সবচেয়ে ভাল অংশ নিজেদের প্রতি সম্মানের দাবী করেছে. "যাঁরা রাস্তায় বেরিয়ে ছিলেন, তাঁরা সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হলেও, তাঁদের মতামত উন্নাসিক ভাবে তুচ্ছ করে দেওয়া যায় না. আর খুবই ঠিক কাজ হয়েছে যে, এই বিষয়ের প্রতি প্রশাসনের দিক থেকে শুভেচ্ছা নিয়েই প্রতিক্রিয়া করা হয়েছে", - এই রকম মন্তব্য প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির পরিচালন বিভাগের প্রথম সহকারী প্রধান ভ্লাদিস্লাভ সুরকোভ, তাঁর দেওয়া "ইজভেস্তিয়া" সংবাদপত্রে এক সাক্ষাত্কারে, যেখানে তিনি রাশিয়ার লোকসভা নির্বাচনের পরে দেশ জুড়ে ঘটে যাওয়া প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন. তাঁর মতে, সমাজের সক্রিয় লোকেদের ন্যায্য দাবী মেনে পথ ছেড়ে দেওয়া কোন বাধ্য হয়ে করা ব্যাপার নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায়িত্ব ও সাংবিধানিক ঋণ.

দেশে পরিবর্তন শুধু হতে চলেছেই নয় – তা হয়ে গিয়েছে, উল্লেখ করেছেন সুরকোভ. রাষ্ট্র ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই পাল্টে গিয়েছে. "লোকসভা নির্বাচনের ফল দেখুন, বালোতনায়া স্কোয়ারে মিটিং দেখুন, ইন্টারনেটে বিতর্ক দেখুন, ১৫ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি টেলিভিশনে কথা বলা লক্ষ্য করুন, রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের জাতীয় সভার উদ্দেশ্য ভাষণ শুনে দেখুন. বাকী রয়েছে শুধু এই ধরনের পরিবর্তন আইন সঙ্গত ভাবে কাঠামো দেওয়ার, অর্থাত্ আইন গ্রহণ করা সরাসরি রাজ্যপাল নির্বাচন ও রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করার জন্য নিয়ম শিথিল করা, আর প্রযুক্তিগত ভাবে নির্বাচনের কেন্দ্র গুলিকে ওয়েব- ক্যামেরা দিয়ে জনসমক্ষে আনা ইত্যাদি".

এই ধরনের কিছু সিদ্ধান্তের গতি প্রভাবশালী লোকেরা চেষ্টা করছেন শ্লথ করে দিতে, ধারণা করেছেন ভ্লাদিস্লাভ সুরকোভ, কিন্তু এটা প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারবে না. "সমাজের মূল ভিত্তি প্রস্তরে গতি সঞ্চার হয়েছে, সামাজিক বুনোট নতুন গুণ লাভ করেছে. হতে পারে ভবিষ্যত খুব শান্ত থাকবে না. ঘূর্ণি এমনকি তা প্রবল হলেও, - কোন বিপর্যয় বলা যায় না, আর এটাই স্থিতিশীলতার একটা রূপ মাত্র".

নিজের মত ভ্লাদিস্লাভ সুরকোভ এই বিষয়েরই উপরে ভিত্তি করে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার সমাজের সেরা অংশ দাবী করেছে তাদের সম্মান করার. অবশ্যই, সুরকোভ উল্লেখ করেছেন, সমর্থন করে বলা যেতে পারে যে, যাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন – এঁরা সংখ্যালঘু. এটা তাই. কিন্তু এঁরা কি রকমের সংখ্যালঘু তা দেখতে হবে! যদি বিষয়টা বোঝা হয়, বর্তমানের গণতন্ত্রকে জটিল, বহু বিভক্ত শ্রেণী সম্পন্ন সমাজে – সংখ্যালঘুর গণতন্ত্রই বলা যেতে পারে. "যদি আপনি স্ট্র্যাটেজিক ভাবে চিন্তা করেন, সংখ্যালঘুদের বক্তব্য শোনেন – তাঁদের মধ্যেই আগামী দিনের নেতৃত্বকে খুঁজে পাবেন".

একই সঙ্গে ভ্লাদিস্লাভ সুরকোভ বাদ দেন নি যে, ভীড় অযৌক্তিক দাবী দাওয়া করতে পারে, আর পারে প্ররোচনা যারা দিচ্ছে, তাদের অনুসরণ করতে. কিন্তু প্ররোচনা দাতাদের জন্য রয়েছে আইন, রাষ্ট্রের ঋণ হল দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার ভিত্তিকে রক্ষা করা, মনে করিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির পরিচালন বিভাগের উপ প্রধান.

কিছু দিন আগে পর্যন্তও প্রশাসন যে মানসিক সুবিধা ভোগ করতো, তার কিছু অংশ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়েছে. আর রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবিত সমস্ত পরিকল্পনা, - এই অর্থে খুবই সঠিক. আধুনিকীকরণ করে ফেলা, খোলা, সত্ এবং মানুষের বোধগম্য রাজনৈতিক ইনস্টিটিউট গুলি এতটাই দামী যে, তাদের জন্য লড়াই করা চলে, সেগুলিকে রক্ষা ও নিরাপদ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে.

এখন মুখ্য হল, যাতে এই সমস্ত ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয়, সিদ্ধান্ত হিসাবে বলেছেন সুরকোভ. "আর তা না হলে এমনও হতে পারে যে – পরবর্তী সমাবেশে জনসংখ্যা কম হতে পারে, ইন্টারনেটে জোরালো প্রতিবাদ নীরব হতে পারে, আর কারও মনে হতে পারে যে, কিছুই করার দরকার নেই, শুধুশুধুই চিন্তা করা হচ্ছিল. আর আবার সব ঢিমে তেতালায় চলবে, সংশোধনকে ফেলে রাখা হবে দূরের কোন ভাল দিন দেকে করার জন্য, যা আগেও হয়েছে, অথবা তা পৌরুষহীণ করে দেওয়া হবে. তবুও আমরা আশা করবো যে ভালই হবে – ঈশ্বর করুন, যাতে রাস্তাও শান্ত হয়, আর রাজনৈতিক সংশোধনও সম্পন্ন হয়".