পাকিস্তানের পদাতিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রধান আশফাক কিয়ানি ও আই এস আই সংস্থার প্রধান আহমেদ পাশা দেশের হাইকোর্টে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন, যাতে কুখ্যাত মেমোগেট কেলেঙ্কারিতে রাষ্ট্রপতি জারদারীর অংশগ্রহণ প্রমাণিত হয়. পাকিস্তানে স্ক্যাণ্ডাল বেড়েই চলেছে, অসামরিক প্রশাসন ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে তীক্ষ্ণ বিরোধে সম্বন্ধে আরও নতুন সাক্ষ্য প্রমাণ জুটে যাচ্ছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্তানের শক্তি প্রয়োগ বাহিনীর প্রধান জোর দিয়ে বলছেন যে, গোপন ইচ্ছাপূরণ পত্রের সততা তাঁদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করছে না. তাঁরা মনে করেছেন যে, এই দলিল, রাষ্ট্রপতি জারদারী নিজের বিশ্বস্ত লোকের হাত দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে, চেষ্টা করেছিলেন খুবই গুরুতর ভাবে পাকিস্তান ও তার সামরিক বাহিনীকে অপমান করার ও বাহিনীর মানসিক জোর ধ্বংস করতে. অসামরিক প্রশাসন উত্তর দিয়েছেন একই সুরে. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানি প্রকাশ্যে সামরিক নেতৃত্বের প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁরা সামরিক বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন. প্রধানমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর ঘোষণা বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে হওয়া কানাকানি সমর্থন করেছে এই বিষয়ে যে, পাকিস্তানে শীঘ্রই সামরিক শাসন ফিরে আসতে চলেছে.

    রাশিয়ার রাজনীতিবিদেরা অবশ্য এই বিষয়ে একমত নন. কয়েকদিন আগেই রুশ রাজনীতিবিদ পিওতর তোপীচকানভ বলেছিলেন যে, বর্তমানের প্রশাসন সামরিক বাহিনীকে প্রায় স্বাধীন ভাবেই পাকিস্তানের ভিতরে রেখেছে, তারা নিজেরাই এখন ন্যাটো জোট ও মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে সহায়তা আদায় করে, তাদের সঙ্গেই নানা বিষয়ে দেশের প্রশাসনকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে. আর এটা তাদের খুব পছন্দ. যদি সামরিক কুদেতা করা হয়, তাহলে দেশের দায়িত্বও নিতে হবে, আর এটা তাদের একেবারেই প্রয়োজন নেই. তাছাড়া সামরিক বাহিনীকে কেউই এখন বিরক্ত করছে না, বর্তমানের সরকার কোন ভাবেই তাদের অধিকার খর্ব করতে চায় না. চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা বিফল হয়েছে. তাই সামরিক বাহিনীর লোকেরা জারদারীকে হঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে রাজী নন.

    পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের হাতে এই জন্য দেশের সংবিধানই রয়েছে. যদি প্রমাণিত হয় যে, জারদারী এই মেমোগেট কেলেঙ্কারির প্রধান ক্রীড়নক, তবে তাঁকে এমনিতেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে, তাই রুশীদের মতে, সামরিক কুদেতা পাকিস্তানে এখন হবে না.