দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নাগরিকদের নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ সম্পর্কে রাজনীতিতে আরও বেশী করে প্রভাব ফেলার ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা দিতে বাধ্য. রাষ্ট্রপতির বাণী, যা নিয়ে রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের রাষ্ট্রীয় সভার সামনে বক্তৃতা করেছেন, তার এই রকমেরই প্রধান বিষয় ছিল. রাজ্যপালদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা দরকার, আর সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই দেশের পার্লামেন্টে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সহজ করা দরকার.

    রাষ্ট্রীয় সভার প্রতি রাষ্ট্রপতির বাণী – এটা পরিকল্পনা মূলক ঘোষণা, যেখানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় দেশের প্রধান কাজের ধারা. গত বছরে এই বাণীর মূল বিষয় ছিল জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বহু সন্তানের পরিবার গুলিকে দেশের পক্ষ থেকে সহায়তা দানের প্রস্তাব, ২০০৯ সালে – প্রধান বিষয় ছিল রাশিয়ার অর্থনীতির আধুনিকীকরণ.

    বর্তমানে দিমিত্রি মেদভেদেভ যে বক্তৃতা দিয়েছেন, তা তাঁর মেয়াদ কালের মধ্যে শেষ, কারণ তা শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী ২০১২ সালের মে মাসে. নতুন করে দেশের প্রধানের পদের জন্য তিনি প্রার্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছেন না. ষষ্ঠ লোকসভা সদস্যদের জন্য, যাঁরা এর আগেই তাঁদের কাজ শুরু করেছেন, তাঁর বাণী, বরং উল্টো হয়েছে, প্রথম কর্মসূচী শুরুর জন্য পথ নির্দেশ. দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁদের কাছে আহ্বান করেছেন সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের উচিত্ হবে রাজনৈতিক পরিকাঠামো বদলের কাজ শুরু করার. এটা সমাজের দাবী. ডিসেম্বর মাসে লোকসভা নির্বাচনের পরে সারা দেশ জুড়েই নির্বাচনের ফলের সঙ্গে একমত না হওয়া জনগনের গণ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে. দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মনোযোগ ও যোগ্য সম্মান  দিয়ে যে কোন ধরনের ভিত্তি যুক্ত সমালোচনা গ্রহণ করে থাকেন, তিনি বলেছেন:

    "দেশের লোকেদের অধিকার রয়েছে নিজেদের মনোভাব সমস্ত রকমের আইন সঙ্গত পথেই প্রকাশ করার, এই অধিকার – ন্যায্য. কিন্তু রাশিয়ার জনগনের মানসিকতা নিয়ে পছন্দ মতো পাল্টে নেওয়ার চেষ্টা, তাঁদের ভুল ধারণার বশবর্তি করা ও সমাজে বিরোধের আগুণ জ্বালানোর প্রচেষ্টা – গ্রহণযোগ্য নয়. আমরা আমাদের দেশে কোন রকমের প্ররোচনা দাতা বা চরমপন্থীদের নিজেদের হঠকারিতা করার সুযোগ দেবো না. আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরে থেকেও কোন রকমের নাক গলানো সহ্য করবো না. রাশিয়ার প্রয়োজন গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা, কিন্তু মাত্সান্যায় নয়".

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রস্তাব করেছেন রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার সর্বাঙ্গীণ পরিশোধনের, অংশতঃ দেশের অঞ্চল প্রধানদের নির্বাচনকে সরাসরি নির্বাচনে পরিনত করার, সহজ ভাবে রাজনৈতিক দলের নথিভুক্ত হওয়া ও রাশিয়ার লোকসভার নির্বাচন ব্যবস্থাকে বদলানোর, তিনি বলেছেন:

    "আমি তাদের স্বর শুনতে পাচ্ছি, যারা পরিবর্তন কামনা করছেন. আমি তাদের বুঝতে পারি. প্রত্যেক সক্রিয় নাগরিককেই রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া দরকার. তাই আমি মনে করি এই ধরনের কাজ গুলি করা দরকার. রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের সমস্ত রাজ্যের প্রধান নির্বাচন করা দরকার এই অঞ্চলের মানুষদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে. রাজনৈতিক দলের নথিভুক্ত করার জন্য সহজ পদ্ধতি তৈরী করা".

    রাশিয়াতে প্রয়োজন রয়েছে সবচেয়ে বেশী করে ছোট ও মাঝারি মাপের ব্যবসার জন্য প্রসারিত সম্ভাবনা করে দেওয়া, আর উদ্ভাবনী ধারণা থেকে লাভের ব্যবস্থা করে দেওয়া. এটার প্রয়োজন যাতে, প্রাথমিক ভাবে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হয়. এই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য প্রধান শর্ত হল – বৃহত্ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা অর্জন. তিনি বলেছেন:

"আমরা দেশের বাজেটের ঘাটতিকে কম করেই রাখতে বাধ্য ও একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ঋণও. আর রাষ্ট্রের দায়িত্বকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করার জন্য – হওয়া দরকার, প্রাথমিক ভাবে, আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে, যা পাওয়া যেতে পারে অর্থনৈতিক উন্নতির দ্রুত গতির কাছ থেকে, কর ও শুল্ক ব্যবস্থাকে আরও ভাল করে নিয়ন্ত্রণ করে. আর একই সঙ্গে – সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নেওয়া পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে. মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যাঙ্কের সুদের হার – প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কমা দরকার আরও গ্রহণ যোগ্য স্তর অবধি, আইন ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ঝুঁকি কম করে".

আজই বোঝা সম্ভব হয়েছে যে, দেশের সামনে কোন সহজ সময় আসছে না. একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, রাশিয়া শুধু সঙ্কট কালীণ পরীক্ষাই মর্যাদার সঙ্গে পার হয়ে আসে নি, বরং এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে অনেক বেশী উন্নতি করেছে. চার বছরের কাজের ফলের মূল্যায়ণ হিসাবে – রাশিয়া, বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থানের শুল্ক সঙ্ঘের কাজ শুরুও রয়েছে. খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে নতুন রুশ আমেরিকা স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি. রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় বহুমাত্রিক সহযোগিতা বেড়েই চলেছে.

রাষ্ট্রীয় সভার প্রতি উদ্দেশ্য করে দেওয়া বাণী এক ঘন্টার সামান্য বেশী সময় নিয়ে হয়েছে. নিজের বক্তৃতা শেষ করার সময়ে রাষ্ট্রপতি রাশিয়ার নাগরিকদের একে অপরকে শোনার জন্য ও সামাজিক মতকে সম্মান করা জন্য আহ্বান করেছেন. "আর আমরা বাধ্য থাকবো, তা চালিয়ে যেতে, যা শুরু করেছি. রাশিয়ার সমাজের নবীকরণের কাজ চালিয়ে যেতে", এই বলে রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তৃতা শেষ করেছেন.