মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমানবিক বোমা বানানোর থেকে নিবৃত্ত করবার উদ্দেশ্যে যে কোন ধরনের শক্তি প্রয়োগ করবে, তার মধ্যে সামরিক শক্তিও বাদ যাবে না. এই সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন পেন্টাগনের প্রধান লিওন প্যানেত্তা. প্রয়োজনে সাবধান করে দেওয়ার জন্য ইরানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির উপরে আঘাত হানা হতে পারে, হুমকি দিয়েছেন মন্ত্রী.

আমেরিকার লোকেরা সন্দেহ করেছে যে, ইরানের মধ্যে গোপন কারখানা রয়েছে যেখানে পারমানবিক জ্বালানী সমৃদ্ধ করা হচ্ছে. তারই মধ্যে এই ধারণার উপযুক্ত কোন সাক্ষ্য প্রমাণ এখনও পাওয়া যায় নি. এই প্রসঙ্গে যদি আগা ওয়াশিংটন ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র বানাচ্ছে বলে অভিযোগ করতো, তবে এখন তারা প্রথমবার জনসমক্ষে পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ইরানের পারমানবিক বোমা বানানোর জন্য আর মাত্র এক বছর সময় রয়েছে. পেন্টাগনের প্রধান আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা নেবেন যাতে তেহরানের কাছে এই ধরনের অস্ত্র না থাকে.

এখানে সম্ভাব্য সামরিক আঘাত হানা দেওয়া বাদ দেওয়া যায় না, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা স্রেফ চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য প্রচার করছে যে, তারা নিজেদের সন্দেহ সত্য কি না পরীক্ষা করে দেখতে যায় আর শুধু তার পরেই শক্তি প্রয়োগ করতে চায়. একই সময়ে ওয়াশিংটনের কথার সুরে স্পষ্ট কঠোর মনোভাব তেহরানের বর্তমানের প্রশাসনকে হঠিয়ে দেওয়ার জন্য মনোভাব থেকেই করা হচ্ছে. এই ধরনের মত মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য বিভাগের প্রফেসর সের্গেই দ্রুঝিলভস্কি প্রকাশ করে বলেছেন:

"আমেরিকার লোকেদের দরকার দ্রুত সাফল্য – আঘাত, প্রশাসনের পতন ও প্রশাসনে নিজেদের পোষা লোকেদের উত্থান. প্রধান হল – প্রশাসনকে হঠিয়ে দেওয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গলায় এখন তেহরানের প্রশাসন যেন কাঁটার মতো ফুটে রয়েছে. যদি এই ধরনের ঘটনা পরম্পরা নিয়ে ধারণা কর হয়, তবে আঘাত করা হবে ইরানের উপরে, এ নিয়ে কোন সন্দেহই নেই. তাদের পারমানবিক শিল্প দমিয়ে দেওয়া প্রয়োজন নয়, বরং আহমাদিনিজাদ কে হঠিয়ে দেওয়া. কিন্তু আমি আপাততঃ কোন সম্ভাবনাই দেখতে পাচ্ছি না যে, তেহরানের প্রশাসন তাদের উপরে চাপ বৃদ্ধি করলে পতিত হবে বলে. বরং উল্টোটাই. আগে থেকেই ইরানের লোকেদের জানি বলে, তাদের শিয়া ধর্ম মত, শহীদ হওয়ার প্রবৃত্তি, আত্মত্যাগের ইচ্ছার কথা ভাবলে, এর ফলে সম্পূর্ণ উল্টোটাই হতে পারে. যদি আমেরিকার লোকেরা এটা হিসাবের মধ্যে না আনে, তবে নতুন হঠকারিতা তারা করতে যাবে, যা থেকে তারা বহু বছর লাগবে বের হয়ে আসতে".

যাই হোক না কেন, ওয়াশিংটন এক বিপদ সীমা তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এঁকে ফেলেছে. ইরানের থেকে বিপদের আশঙ্কা দূর করার জন্য, তারা ইজরায়েলের সঙ্গে একসাথে হাত মিলিয়েছে. এর ফলে এই অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে, যা প্রাথমিক ভাবে খনিজ তেলের বাজারে প্রাথমিক ভাবে আঘাত হানবে, এই কথা মনে করে পররাষ্ট্র নীতি ও সামরিক রাজনীতি বিশ্লেষণ পরামর্শ সভার বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির আভেরচেভ বলেছেন:

"যুদ্ধ দ্রুত তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে ও বিশ্বের পরিস্থিতিতে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি করবে. ইরান তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হলে খুবই সহজে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে, যার মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের বেশীর ভাগ দেশেরই রপ্তানী করা হয়ে থাকে. খনিজ তেলের বাজারের জন্য এটা এমন একটা পরিস্থিতি হবে, যা বিপর্যয়ের সমান".

আমেরিকার কথার সুর কঠোর হওয়া সম্বন্ধে বিশ্লেষকেরা একই সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্ নির্বাচনী প্রস্তুতির অঙ্গ হিসাবে, যা ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে হবে. রিপাব্লিকান দলের লোকেরা ঐতিহ্য অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটিক দলের লোকেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতার জন্য সমালোচনা করে থাকেন, যখন দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে. এই চাপ বাড়তেই থাকবে ও তার ফলে বারাক ওবামা প্রতিক্রিয়া করতে বাধ্য হবেন. নির্বাচনের আগে তিনি তো মনে হয় না কোন তীক্ষ্ণ পদক্ষেপ নেবেন, তবে পরে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরা কে বাতিল করা যায় না. তার ওপরে এই সময়ের মধ্যেই দেশের গুপ্তচর বিভাগকে দেওয়া সময়সীমা পার হয়ে যাবে – ইরানে পারমানবিক অস্ত্রের চিহ্ন খুঁজে বার করার. একই ধরনের কাজ এক সময় ইরাকের জন্য দেওয়া হয়েছিল, তখন গণ হত্যার অস্ত্র খুঁজে শেষ অবধি পাওয়া যায় নি, কিন্তু যুদ্ধ শুরু করে দেওয়া হয়েছিল. পেন্টাগন একই ধরনের ফাঁদে দ্বিতীয় বার পড়বে কি না – তা সময়ই বলে দেবে.