মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাইলট বিহীণ বিমান ব্যবহার করে আকাশ থেকে আঘাত হানার জন্য কারণ দর্শাতে বাধ্য. এই ধরনের দাবী নিয়ে আমেরিকার মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা "হিউম্যান রাইটস ওয়াচ" রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার কাছে জবাবদিহি দাবী করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমাজের কাছে কারণ দর্শাতে হবে যে কেন্দ্রীয় গুপ্তচর সংস্থা সি আই এ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিয়ম মানে ও কৃত কর্মের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য দেয়, মানবাধিকার কর্মীদের চিঠিতে এই রকমই লেখা হয়েছে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

সি আই এ পাইলট বিহীণ বিমান দিয়ে প্রতিদিনই সারা বিশ্ব জুড়ে আঘাত হানছে. আফগানিস্তান, সোমালি, ইয়েমেন, আরব দেশ গুলি ও পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ শহর এবং গ্রামে এই আঘাত করা হচ্ছে রোজ. আমেরিকার লোকেরা এটাকে ব্যাখ্যা করছে তালিব জঙ্গীদের, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের, নানা ধরনের চরমপন্থীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে. বেশীর ভাগ আক্রমণই লেসার রশ্মি ব্যবহার করে লক্ষ্য স্থির করে রকেট ও বোমা নিক্ষেপ করে করা হচ্ছে, কিন্তু এর ফলে শান্তিপ্রিয় মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কম হচ্ছে না. মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা বারাক ওবামার মনোযোগ এই দিকে আকর্ষণ করে বলেছেন যে, খুব কমই জানা যাচ্ছে, কাদের এই ভাবে পাইলট বিহীণ ড্রোন পাঠিয়ে হত্যা করা হচ্ছে বলে. পাকিস্তানে যেমন, বিগত কয়েক বছরে প্রায় হাজার শান্তিপ্রিয় মানুষ মারা গিয়েছেন – তাদের মধ্যে মহিলা, শিশু আর বৃদ্ধরাও রয়েছেন. প্রসঙ্গতঃ প্রতি বছরেই এই ধনের ড্রোন আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে আঘাত হানার পরিমানও বেড়েছে. এই বছরে ড্রোন আক্রমণে পাকিস্তানে দুই হাজারেরও বেশী লোক মারা গিয়েছেন, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ইউলদুজ হালিউলিন বলেছেন:

"বিগত সময়ে পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমে ড্রোন আক্রমণের সংখ্যা বাড়ায় তা যেমন পাকিস্তানের মধ্যে, তেমনই পাকিস্তানের বাইরেও উদ্বেগ সঞ্চার করেছে. বিভিন্ন মূল্যায়ণ অনুযায়ী এই অঞ্চলে মারা গিয়েছেন বহু সহস্র মানুষ. তাঁদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন তালিবদের প্রভাবশালী নেতা, বেশীর ভাগই পাকিস্তানের সাধারন মানুষ".

ড্রোন আক্রমণকে স্থানীয় জনতা সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেই মনে করেন, কিন্তু তা করা হচ্ছে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে. তাঁরা জঙ্গী সন্ত্রাসবাদী ও আমেরিকার ড্রোন হামলার মধ্যে কোন রকমের তফাতই দেখতে পাচ্ছেন না, কারণ একদল বোমা নিয়ে হামলা করছে যেখানে মানুষ জীবনের প্রয়োজনে জড়ো হন, যেমন, বাজার, আদালত, স্কুল- কলেজ, সিনেমা হল, আর অন্যরা এই সব জায়গাতেই আকাশ থেকে বোমা ও রকেট ছুঁড়েছে. জঙ্গী সন্ত্রাসবাদী আর আমেরিকার সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর নেতৃত্বের মধ্যে কোন পার্থক্যই নেই, দুই দলই সমান বিতৃষ্ণা ও ক্রোধের সঞ্চার করে সাধারন মানুষের মনে.

পাকিস্তানের সরকার, দেশের রাষ্ট্রপতি এই প্রসঙ্গে বহুবার একাধিকবার সরকারি ভাবে প্রতিবাদ পত্র আমেরিকার নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছেন, কিন্তু কিছুই পাল্টায় নি. বরং বারাক ওবামা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তা আরও বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে. ফলে পাকিস্তানের সরকার বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন বিমান ঘাঁটি শামসি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মার্কিন ড্রোন বিমানের ঘাঁটি ছিল, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে যে, এরপর থেকে পাকিস্তানের উপরে যে কোন ধরনের বিমানকেই ধ্বংস করা হবে.

"হিউম্যান রাইটস ওয়াচ" সংস্থার মানবাধিকার কর্মীরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শুধু মানুষের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই কারোর উপরে মরণ আঘাত হানা চলতে পারে. মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে সি আই এ কৃত আঘাত করা হচ্ছে মারার উদ্দেশ্য নিয়ে, সে সম্বন্ধে তথ্য স্পষ্ট না থাকায়, ভাবতে বাধ্য করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের আন্তর্জাতিক ভূমিকা আইন সঙ্গত ভাবে পালন করছে না, সন্দেহেরই সৃষ্টি করেছে.