রাশিয়া ভারত সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভাবে এক আচমকা পরীক্ষার সামনে পড়েছে. সোমবারে ভারতীয় লোকসভার একদল সদস্য অধিবেশন ভণ্ডুল করে দিয়েছিল তার পরে ভারতের নানা জায়গায় রাশিয়ার কূটনৈতিক ভবন গুলির সামনে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়েছে. কারণ হয়েছে রাশিয়ার তোমস্ক শহরের আদালতে "ভগবত্ গীতা – যেমন", নামের প্রভুপাদ লিখিত ইংরাজী বইয়ের রুশী অনুবাদকে চরমপন্থী সাহিত্য বলে উল্লেখ করা ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক বলে এক মামলার শুনানী শুরু হওয়াতে.

    যথারীতি ভারতবর্ষের আবেগ তাড়িত মানুষ সত্যি ঘটনা কি না জেনেই লাফ দিয়ে পড়েছেন ধর্মের প্রতি তাঁদের কি ভীষণ শ্রদ্ধা, তা বিশ্ব সমাজকে জানাতে. বাধ্য হয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে ভারতে বোঝাতে হয়েছে যে, এই মামলা আদৌ ভগবত্ গীতা নিয়ে নয়, যার প্রকৃত অনুবাদ আধুনিক সময়ে রুশ ভাষায় হয়েছে ১৯৫৬ ও ১৯৮৫ সালে রুশী ভারত বিশারদ বরিস স্মিরনভ  ও ফ্সিয়েভোলদ সেমেনত্সভ কর্তৃক, আর যে বইকে মনে করা হয়েছে মানব জাতির সম্পদ বলেই, সংরক্ষণও করা হয়েছে রুশ ভারত চর্চার স্বর্ণ তহবিলে.

    ইসকন নামক ১৯৯৬ সালে তৈরী হওয়া সম্প্রদায়, রাশিয়া যখন সোভিয়েত দেশ ভেঙে পড়ায় দুর্বল অবস্থানে ছিল, তখন এই দেশে মার্কিন অর্থ প্রয়োগ করে সমাজের সবচেয়ে অক্ষম লোকেদের কাছে প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিল, এক শ্রেনীর ভারত থেকে আসা নিম্ন রুচির গুজরাতি, বিহারী ইত্যাদি জাতের মানুষ এদের এখনও সহায়তা করে থাকে, কারণ এই সংস্থার মাধ্যমে তারা খুঁজে পায় রাশিয়ায় ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা দূর করার জন্য দরিদ্র রুশ মধ্য বয়স্ক মহিলাদের, যাদের ঘর সংসার নেই, আর তাদের সাহায্য নিয়ে ছদ্ম বিবাহের মাধ্যমে রাশিয়াতে থাকার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের ব্যবস্থা করে. এদের জন্য ইসকন সংস্থা রাশিয়ার নানা জায়গায় ধর্ম প্রচারের নামে দরিদ্র লোক খুঁজে বার করে. ভারতের সম্পর্কে ধারণা, যা বহু দিন ধরে বহু পরিশ্রমে ভারতীয় ও রুশী গুণী মানুষেরা তৈরী করেছেন, সেই মহান ধারণাকে ব্যবহার করে মার্কিন মুলুকের মতই প্রভুপাদ, শ্রী চিন্ময় এই জাতের মানুষেরা সন্দেহ জনক সব ধান্ধা করে গিয়েছেন রাশিয়াতে. মাঝে মধ্যে এদের আড্ডায় ধরা পড়েন ভারত থেকে পাঠানো রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য গুণী লোকেরাও. প্রভুপাদের ভগবত্ গীতা বলে যেটি এই দেশে চালানো হয়, তার অনুবাদের কাজও করেছিল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে অর্ধ শিক্ষিত বা অশিক্ষিত লোকেরা. তাই এই বই সম্বন্ধে না জেনেই ভারতীয় গুণী মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত্ হবে না কিছু বলার. তার ওপরে যদি গীতাটি ঠিক হত, তাহলেও গীতা নিয়ে মামলা হয়েছে বলে চীত্কার করার কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ যখন মার্কিন মুলুকে পাগল টেরি জোনস কোরান পুড়িয়েছিল, তখন কোন সুস্থ মানুষ এর জন্য মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করার কথা ভাবেন নি. তোমস্ক শহরের পণ্ডিতেরা এখনও এমনকি এই বাজে অনুবাদ করা বই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত করেন নি, আর মামলা যারা দায়ের করেছে, তারাও বিষয়টি নিয়ে খুব একটা ভেবে দেখেন নি, কারণ বইয়ের চেয়েও বেশী মামলার কারণ ছিল, এই বই যারা লোকের মাঝখানে বিলি করে বেড়াচ্ছে, তাদের আসল উদ্দেশ্য একেবারেই অন্য বলে জানতে পারায়. গরীব ঘরের মহিলাদের কু পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও, নানা ধরনের আইন বিরুদ্ধ কাজ কারবার, এরা করেই যাচ্ছে. সেন্ট পিটার্সবার্গ আর মস্কো শহরের রামকৃষ্ণ মিশন ও এই ধরনের বদমাশদের কাজের জন্য আজ অবধি একটি হিন্দু হিসাবে প্রার্থনা করার জায়গা রুশ সরকারের কাছ থেকে পায় নি. এখান থেকে অবিলম্বে সমস্ত বদমাশ ভারতীয় ও ভিন দেশী লোকেদের তাড়িয়ে দিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত হবে, যারা ভারতের সুন্দর ছবির আড়ালে কুকর্ম করছে.