বিশ্বের মানচিত্রে এক নতুন অর্থনৈতিক জোটের সৃষ্টি হয়েছে. তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে একক অর্থনৈতিক ক্ষেত্র বিষয়ক নিয়মাবলী নিয়ে দলিল গুলিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, তাঁর বেলোরাশিয়ার সহকর্মী আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ও কাজাখস্থানের প্রধান নুর সুলতান নাজারবায়েভ স্বাক্ষর করেছেন. একই সঙ্গে তৈরী করা হয়েছে বিশেষ পরিষদ, যা নতুন জোটকে নিয়ন্ত্রণ করবে. এই ভাবে তিনটি দেশ (রুশ রূপকথায় তিন ঘোড়ায় টানা রথ, "ত্রোইকা") আরও ঘনিষ্ঠ সমাকলনের মনোভাবকেই সমর্থন করেছে.

রাশিয়া, বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থান এর মধ্যেই শুল্ক সঙ্ঘে যুক্ত. কাজ শুরু করেছে সঙ্ঘ এই বছরের জুলাই মাস থেকে. শুল্ক সংক্রান্ত বাধা প্রত্যাহার করে তিনটি দেশ একক বাজার তৈরী করেছে. ফলে পারস্পরিক ভাবে বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধি হয়েছে একের তৃতীয়াংশ. ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, যা আগামী বছরের ১লা জানুয়ারী থেকে আইনত ভাবে চালু হবে, তা সম্ভাবনা করে দেবে আরও বেশী করে শুধু জিনিষই নয়, বরং পরিষেবা, বিনিয়োগ ও কর্মী বিনিময়েরও.

তিনটি দেশের সীমানার মধ্যে অর্থনৈতিক রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করা, আর তারই সঙ্গে বাইরের থেকে আসা আহ্বানে প্রতিক্রিয়া করবে ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক পরিষদ. এর সভাপতি হিসাবে রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী ভিক্তর খ্রিস্তেঙ্কো নিয়োজিত হয়েছেন. নতুন কাঠামোয় তিনটি দেশেরই প্রতিনিধিরা রয়েছেন, এই কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

"এটা আমাদের তিনটি দেশের প্রথম রাষ্ট্রোর্ধ সংস্থা, যেটিকে আমাদের দেশ গুলি বাস্তবে নিজেদের সার্বভৌমত্বের কিয়দংশ দিয়েছে. এর অধিকার সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধ পাবে. এখানে মুখ্য বিষয় হল: আমাদের ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক পরিষদের কাঠামোর মধ্যে যে কোন দেশেরই প্রাধান্যকে অস্বীকার করা হয়. আমি মনে করি যে, এটা একে অপরের প্রতি এগিয়ে আসার জন্য এক ঘুরে দাঁড়ানোর মতো মুহূর্ত, তা প্রতিফলিত করে আমাদের সম্মিলিত ভাবে বিশ্বের সবচেয়ে সফল অভিজ্ঞতাকে হিসাবের মধ্যে রেখে সম্মিলিত সম্পর্ক গঠনের ইচ্ছাকেই. আর শুধু বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতাই নয়, বরং বিশ্বের নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকেও এক্ষেত্রে বিচার করা হয়েছে, কারণ সব সময়েই সমস্ত কিছুকেই হিসাবের মধ্যে রাখা উচিত্, যা ঘটছে, সমস্ত, যা আমাদের সমাকলন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটেছে, সব কিছুই, যা ঘটেছে ও ঘটছে, বলা যাক, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সংগঠনের ক্ষেত্রেও".

যে কোন জোট – এটা সম্ভাবনা ও ঝুঁকির সমাহার. কিন্তু শেষ অবধি রাষ্ট্র গুলি, যারা সমাকলন প্রক্রিয়াতে অংশ নেয়, তাদের জয়ই হয়, এই বিশ্বাস নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বলেছেন:

    "ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই তিনটি দেশে থাকা মানুষদের জন্য, এখানে সব কিছুই যথেষ্ট সহজ. সম্মিলিত বাজার নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে: নতুন অর্থনৈতিক প্রকল্পের সৃষ্টি হবে – এটা নতুন করে কর্ম সংস্থানের সম্ভাবনা, এটা অর্থনীতির উন্নয়ন, এটা বর্তমানের খুবই জটিল ও পরস্পর বিরোধী অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বৃদ্ধির কেন্দ্র ও স্থিতিশীলতার দ্বীপ তৈরী করবে. আমি বিশ্বাস করি যে, খুবই কঠিন সময়, যার মধ্যে দিয়ে আজ বিশ্বের অর্থনীতি চলেছে, যাকে এর মধ্যেই গত শতকের "তিরিশের দশকের চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রত্যাবর্তন" বলে তুলনা করা হয়েছে, তার মধ্যে আমরা টিকে থাকতে পারবো, শুধু সেই ক্ষেত্রেই, যদি আমরা সক্রিয়ভাবে সমাকলন প্রক্রিয়ায় অংশ নিই. শেষ হিসাবে, রাষ্ট্র, যারা সমাকলন প্রক্রিয়ায় জোট তৈরী করবে, তারাই শুধু সেই কারণেই লাভ করবে যে, অর্থনীতির পরিমান বাড়বে. একই সঙ্গে বাড়বে সামাজিক অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানেরও সম্ভাবনা".

    দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, জোট নতুন অংশীদারদের জন্য উন্মুক্ত. এখানে সর্ব প্রথমে কথা হচ্ছে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ ও ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক জোটের সহকর্মী দেশ গুলির জন্য, যেখানে রাশিয়া, বেলোরাশিয়া, কাজাখস্থান ছাড়া রয়েছে কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, আর তার সঙ্গে পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে আর্মেনিয়া, মলদাভিয়া ও ইউক্রেন. আমরা তৈরী রয়েছি কি করে জোট সংলগ্ন হওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনার জন্য, উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি. প্রত্যেকের জন্যই, যেই চাইবে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করতে, তৈরী করা হবে নিজস্ব কাজের পরিকল্পনা. এই সম্বন্ধে কথা হবে আগামী মার্চ মাসে মস্কো শহরের ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ সম্মেলনে.

    মঙ্গলবারে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের অঙ্গ রাজ্য ও বর্তমানে রাষ্ট্র গুলির প্রধানদের বৈঠক সাত পক্ষের উপস্থিতিতে করা হবে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার কাঠামোর মধ্যে. সন্ধ্যায় স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের ২০ বছরের জয়ন্তী উপলক্ষে বেসরকারি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে.