তিনটি স্বর্ণ ও তিনটি রৌপ্য পদক দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রাশিয়ার স্কুল পড়ুয়ারা নিয়ে ফিরেছে. সেখানে তরুণদের জন্য অষ্টম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অলিম্পিক শেষ হয়েছে. দলগত ভাবে রাশিয়ার তরুণরা শুধু তাইওয়ান থেকে আসা স্কুলের ছেলেদের কাছে হেরেছে ও এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান নিয়েছে. অলিম্পিকের প্রতিযোগিরা মনে করেছে "ফল ভালই হয়েছে, কিন্তু এখনও লক্ষ্য পূরণের জায়গা রয়েছে".

    ডারবান শহরে রাশিয়ার হয়ে গিয়েছিল ছয় জন. তারা বিভিন্ন শহর থেকে – ইয়ারোস্লাভল, সেন্ট পিটার্সবার্গ, ভোলগদা, পেঞ্জা নভসিবিরস্ক ও বাশকির রাজ্যের নেফতেকামস্ক শহর থেকে. এই প্রতিযোগিতায় তারা অবশ্য হঠাত্ করেই হাজির হয় নি: প্রত্যেকেই সারা রাশিয়ার স্কুল ছাত্রদের অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অংশ আগে নিয়েছিল. তাদের এক করেছে বিজ্ঞানের প্রতি ভালবাসা, যা তারা জোর দিয়ে মনে করেছে যে, "সবচেয়ে আগ্রহের আর যুক্তিসঙ্গত". যেমন, এই অলিম্পিয়াডের সব দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন দশম শ্রেনীর ছাত্র আইনুর মাকসুতভ, যে তার সমস্ত প্রতিদ্বন্দীদের পয়েন্টে হারিয়ে দিয়েছে, সে জীববিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করে, আর তাদের দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ম্যাক্সিম দিদিন – সে একেবারে জন্ম থেকেই পদার্থবিদ্ ও অঙ্কে পারদর্শী.

    এই প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা ১৫ বছরের বেশী বয়সের হতে পারবে না, কিন্তু প্রতিযোগিতার বিষয় গুলি স্কুলে পড়ার সম্ভাবনার চেয়ে অনেক এগিয়ে, এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন এই দলের প্রশিক্ষক ও মস্কোর পদার্থ বিদ্যা ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ভালেরি স্লবোদিয়ানিন:

    "অনেক কিছুই আলাদা করে শিখতে হয়েছে, যা আমাদের দেশের স্কুলে শেখানো হয় না. যেমন, আমাদের দলের ছেলেরা সকলেই প্রায় দশম শ্রেনীর ছাত্র. ম্যাক্সিম দিদিন – নবম শ্রেনীর. আর সেখানে প্রশ্নগুলি, বলা যাক, সেই ধরনের, যেমন ডপলার এফেক্ট, এ সি কারেন্ট. এটা আবার আমাদের স্কুলের দশম শ্রেনীর শেষে অথবা এগারো ক্লাসে পড়ানো হয়ে থাকে. তাই অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির সময়ে এই ধরনের প্রশ্নের জন্য আমরা আলাদা করে আমাদের ইনস্টিটিউটে তৈরী হয়েছি".

    বিজ্ঞানের অলিম্পিয়াডের প্রধান বিষয় ছিল তিনটি – পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যা. প্রতিযোগীদের তিনটি ধাপ পার হতে হয়েছে: পরীক্ষা, তাত্ত্বিক জ্ঞান ও হাতে কলমে পরীক্ষা. আমাদের দলের ছেলেরা মনে করেছে যে, প্রতিযোগিতার প্রশ্ন গুলি প্রস্তুতির সময়ের প্রশ্ন গুলির তুলনায় সহজ ছিল. কিন্তু তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশী পড়তে হয়েছে বলে দুঃখিত নয়. যেমন বলা হয়ে তাকে যে, অনুশীলনের সময়ে কষ্ট হলে তবেই প্রতিযোগিতার সময়ে সহজ হয়! আর তারা তাদের যোদ্ধার মনোভাব প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে: রসায়নের দুই ধরনের জ্বালানীর পার্থক্য নিয়ে এক পরীক্ষার সময়ে যাতে তাদের দ্রবণের তাপমাত্রা সঠিক মাত্রা অবধি ওঠে তার জন্য তারা নিজেদের শরীর দিয়ে আগুন আড়াল করে রেখেছিল, যাতে জানলা দিয়ে আসা বাতাস বিঘ্ন না সৃষ্টি করে. এটা প্রতিযোগিতার অন্য সমস্ত প্রতিযোগিদের মধ্যে হর্ষ ও সম্মানের কারণ হয়েছিল. রাশিয়ার দলের প্রশিক্ষক ভালেরি স্লবোদিয়ানিন মনে করেছেন যে, তাঁর আজ্ঞাবহরা সমস্ত কিছুই করেছে, যা করা সম্ভব.

    "আমরা আমাদের ফলে খুশী, যদিও আমাদের উপরে ওঠার জন্য এখনও লক্ষ্য রয়েছে. আমাদের দল তিনটি সোনা ও তিনটি রূপোর পদক জিতেছে, কিন্তু আরও ভাল করা যেতে পারে. বলা যাক, তাইওয়ানের দলের ছেলেরা এই অলিম্পিয়াডের আসরে পেয়েছে ছয়টি সোনার পদক. কিন্তু তাইওয়ান চিরকালই আমাদের প্রধান প্রতিযোগী ছিল, তারা খুবই মেধাবী সব ছেলে. যদি একটা দুটো রূপোর পদক ভাগ্যে জোটে, তাহলে তা ওদের কাছে ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়ায়".

    চল্লিশটি দেশের মধ্যে, যারা ডারবান শহরের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, রাশিয়া – দ্বিতীয় স্থানে. আর এটা সত্যই সাফল্য. প্রসঙ্গতঃ এখন এই সাফল্যের আনন্দে কাটানোর সয় কিন্তু ছেলেদের নেই: তাদের এখন থেকেই তৈরী হতে হবে নতুন পরীক্ষা সারা রাশিয়ার স্কুল ছাত্র অলিম্পিয়াডের জন্য, যা ২০১২ সালের বসন্ত কালের শুরুতে হবে.