আশা করা হয়েছিল যে, এই বারের ভারত রাশিয়া শীর্ষ বৈঠকের সবচেয়ে মধুর সমাপ্তি হবে দক্ষিণ ভারতের কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য আরও দুটি অর্থাত্ তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর ব্লক সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর দিয়ে. কিন্তু সেই মধুর ঘটনাটি ঘটে নি, দেখা গেল আমের মধ্যে আঁটি রয়েছে. বিশদ করে এই সম্বন্ধে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    রাশিয়া ও ভারত মস্কো শহরের শীর্ষ বৈঠকে স্থির করেছে ভারতের দক্ষিণে তামিলনাডু রাজ্যে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মীয়মান কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য দ্বিতীয় দফার তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর ব্লক নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর পেছিয়ে দেওয়ার. এই দলিল স্বাক্ষর করা সম্ভব হয় নি স্থানীয় জনগনের বিক্ষোভের কারণেও. একই কারণে পেছিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রথম দুটি তৈরী হয়ে যাওয়া ব্লকের চালু করাও. জাপানের ফুকুসিমা ১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বিপর্যয়কে তামিলনাডু রাজ্যের জনমত গঠনের কাজে সার্থক ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে, যদিও যেমন ভারতের পক্ষে পারমানবিক শক্তি থেকে অস্বীকার করে পেছিয়ে যাওয়া বা বিশেষজ্ঞদের এই নতুন কেন্দ্রের ভরসা যোগ্যতা নিয়ে কোন রকমের প্রশ্নের অনুপস্থিতি বর্তমানে সন্দিগ্ধ করে তুলেছে স্থানীয় জনতা ও তার নেতৃত্বের বাস্তব উদ্দেশ্য সম্বন্ধে. ভারত সরকার তবুও জনগনের অভিমত বলা যা চালানো হচ্ছে, তার প্রতি গুরুত্ব দিয়েই ভদ্র ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সকলকে বোঝাতে যে, এই ধরনের প্রকল্পের কোন বিকল্প নেই. এই প্রসঙ্গে মস্কোর শক্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

    "ভারতে বর্তমানে জনমতের আবেগ তাড়িত উদ্দীপনকে শান্ত করার জন্য এক রাজা সলোমনের মতো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে. কেন্দ্রের কাজ পেছিয়ে দেওয়া ও নতুন চুক্তি স্বাক্ষর না করাও এই জন্যই করা হয়েছে. যদিও বিভিন্ন মহলে কারণ হিসাবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই নতুন দুটি রিয়্যাক্টর রাষ্ট্রীয় ঋণ হিসাবে ভারতকে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরী বা সদ্য নেওয়া পারমানবিক দায়িত্ব সংক্রান্ত ভারতীয় আইনের সঙ্গে রাশিয়ার এই বহু দিনের পুরনো ১৯৮৮ সালের চুক্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের অভাব রয়েছে বলে. এক হিসাবে মন্দের ভাল হয়েছে, কুদানকুলামের বিশেষজ্ঞ ও কর্মীদের সময় জুটেছে পরীক্ষা করে নিজেদের কাজকে একেবারে ত্রুটি মুক্ত করার ও সমাজকে ভরসা যোগ্যতা নিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার. রাজনৈতিক কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিজেদের রাজ্যের জনগনকে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে রাখার পরিবর্তে রাজনৈতিক ভাবে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন ও এমনকি সহজ ঋণ হিসাবে তাঁদের কাছে সমাধানের ব্যবস্থা নিয়ে গেলেও তাঁরা বাতিল করে দিচ্ছেন শুধু জাতীয় রাজনীতিতে তাঁদের প্রভাব বিস্তারের আশায়. এই ধরনের খামখেয়ালীপণার উত্তর কিন্তু হবে ভয়ঙ্কর, এই জনগনই একদিন লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফির মতো এই ধরনের স্বৈরাচারী নেত্রীদের দেওয়ালে পিঠ দিয়ে দাঁড় করাবে, ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে. ভারতের বর্তমানে মন্দা দেখা দিয়েছে জাতীয় উন্নতির হারেও ও এমতাবস্থায় দেশকে সম্ভাব্য শক্তি সরবরাহের বিষয়ে আরও ক্ষতিগ্রস্থ করে লাভ কার হচ্ছে তা বুদ্ধির অগম্য".

ভারতের বৈজ্ঞানিক ও বিশেষজ্ঞরা এমনকি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিও ওই ধরনের মূর্খ নেতাগিরি দেখে চুপ করে থাকতে পারেন নি. তাঁরা নিজেরা জনগনকে বোঝাচ্ছেন যে, ফুকুসিমাতে যে পারমানবিক চুল্লী ছিল, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশ বছর আগের প্রযুক্তিতে তৈরী ও তার যথোচিত রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিষেবা সময়মতো করাই হয় নি, তার ওপরে ওই ধরনের রিয়্যাক্টরে পারমানবিক জ্বালানীর সঙ্গে তাপ পরিবাহক জলের সরাসরি যোগ থাকায়, সেগুলিকে বলা হত ফুটন্ত রিয়্যাক্টর ও বর্তমানে এই ধরনের রিয়্যাক্টর ব্যবহার করাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে. রাশিয়া থেকে আমদানী করা রিয়্যাক্টর ভরসা যোগ্যতার প্রশ্নে বিশ্ব সেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখানে বিশ্বের সর্বাধিক. এমনকি ভারতের এই পারমানবিক কেন্দ্রে সামুদ্রিক জীব জন্তু থেকে জল পরিশ্রুত করার যে ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে তাও বিশ্বের একমাত্র, এই ব্যবস্থা যেমন রিয়্যাক্টরকে বাইরের প্রভাব থেকে তেমনই পারমানবিক বিকীরণের হাত থেকে পরিবেশকে মুক্ত রাখার জন্য করা হয়েছে.

0 ভারত ও রাশিয়া গত বছরের মার্চ মাসে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত পথ নির্দেশ চুক্তি মেনেই কাজ করবে এই কথা রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে সাক্ষাত্কার ও আলোচনার সময়ে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ. তিনি আরও বলেছেন য়ে, ভারত সরকার কুদানকুলাম পারমানবিক কেন্দ্রের বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই কেন্দ্র চালু করার ব্যবস্থা করবে.