রাশিয়া বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার(ডব্লিউটিও)সদস্য হল।গত ১৬ ডিসেম্বর রাশিয়ার অর্থনীতি উন্নয়ন মন্ত্রী এলভিরা নাবিউল্লিনা ও ডব্লিউটিওর পরিচালক পাসকাল লামি এ সংক্রান্ত একসারি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন।এবার অনুমোদন প্রয়োজন।আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার পরই রাশিয়া বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করবে।আশাকরা হচ্ছে,চুড়ান্ত সময় আসবে ২০১২ সালের জুলাই মাসে।পরিষ্কার মতধারা নিয়েই রাশিয়া বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।এমনটি বলছিলেন,এলভিরা নাবিউল্লিনা।তিনি বলেন,‘আধুনিক সময়ের চাহিদা ও গ্লোবাল উন্নয়নের নীতিমালা অনুসরন এবং বানিজ্যের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী সমর্থন করেই আমরা ডব্লিউটিওতে কাজ করব।বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার ভূমিকা হবে সৃজনশীল’।

রাশিয়া সরব প্রশংসার মধ্যদিয়ে বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় প্রবেশ করেছে।বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার ৮ম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে নাইজেরিয়ার বানিজ্যমন্ত্রী যখন ডব্লিউটিওতে রাশিয়ার সদস্য হওয়ার প্রটোকলটি অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন তখন অংশগ্রহনকারীরা প্রতিকী হিসবে হাতুড়ি দিয়ে টেবিলে শব্দ করে মতামত জানান।ওই মন্ত্রী ডব্লিউটিওতে রাশিয়ার অংশগ্রহেনর অনুমোদনপত্র গৃহিত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।এরপরই অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ডব্লিউটিওর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা হাততালির মধ্যদিয়ে অভিনন্দন জানান।

এরপরই ডব্লিউটিওর পরিচালক পাসকাল লামি উল্লেখ করেন,বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার যোগদানের ফলে সংস্থাটি এখন বিশ্বের ৯৭ ভাগ বিনিজ্য নিয়ন্ত্রন করবে এবং বৃহত পরিবারে রাশিয়াকে তিনি স্বাগতম জানান।এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য হচ্ছে একই নিয়ম ও তা হতে হবে পরিষ্কার।রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইগর শুভালভ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের বার্তা পড়ে শোনান।শুভালভ বলেন,বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে,বিশ্বায়নকে স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংকট থেকে প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।সুসম অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দরকার খোলামেলা ও অভিন্ন নিয়মকানুন।কার্যকরী ও ন্যায্য বানিজ্য পদ্ধতি বৃদ্ধি পাবে এবং অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে।বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার অন্যতম কাজ হবে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা।এই কাজে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে’।

বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় যোগদানের বিষয়টি রাশিয়ার রাজনীতির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি গতিপথ ছিল।গত ২০ বিছর ধরে অনুষ্ঠিত হওয়া আলোচনার দীর্ঘ সময়ে রাশিয়া তার জাতীয় আইনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবর্তন করেছে।ইতিমধ্যে গত ৮ বছর ধরে রাশিয়ার বানিজ্য নীতিমালার অন্তর্গত আইন ‘রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত বহিঃবানিজ্য কার্যক্রম’যা বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার আদলেই পরিচালিত হচ্ছে।

রাশিয়া মনে করে,ডব্লিউটিওতে যোগদানের বিষয়টি যা দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই প্রমান করছে।ঠিক এমনটি বলছিলেন মাক্সিম মেদভেদকোভা, যিনি গত ৯ বছর ধরে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।রেডিও ভয়েস অব রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘ডব্লিউটিও কাউকেই কোন ধরনের সরাসরি সুবিধা দেয় না।উদাহরন হিসেবে বলা যায়,শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চীন ডব্লিউটিওতে যোগদানের পরই অনেক উপকৃত হয়েছে।বিদেশী বিনিয়োগকারির হার কয়েক গুন বেড়ে গেছে।একই সাথে ছোট দেশগুলোর জন্য ডব্লিউটিওতে অংশ নেওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা।রাশিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি হচ্ছে,আমাদের দেশের বাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের  আগ্রহ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্রুতগতি।এখন থেকে রাশিয়ার অর্থনীতি ডব্লিউটিওর নিয়মনীতি মেনেই উন্নয়ন ঘটবে’।

বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে আমদানী পণ্যের শুল্ক হার কমিয়ে আনার জন্য মস্কো ধারাবাহিকভাবে আগামী ৮ বছর কাজ করবে।রাশিয়ার ভোক্তারা আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই সুফল অনুধাবন এবং লাভ হিসেব করতে পারবেন।তবে ডব্লিউটিওতে যোগদানের সবচেয়ে বেশী সুফল পাবে রাশিয়ার রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান।