বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার যোগদান নিয়ে আবেদন পত্র জমা দেওয়ার পরে আলোচনা পর্ব আঠেরো বছর ধরে চলার পরে শেষ হয়েছে. জেনেভা শহরে এই নিয়ে আন্তর্প্রশাসনিক দলিল স্বাক্ষরের পূর্বে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আলোচনাকারী প্রতিনিধি দলের নেতা ম্যাক্সিম মেদভেদকোভ একান্ত সাক্ষাত্কারে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন কি ভাবে রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের সম্বন্ধে আলোচনা হয়েছে.

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদান কারী সমস্ত দেশই, নিজের দেশের আইন ব্যবস্থা বিশ্বের সামগ্রিক মানে নিয়ে আসে. এটা এক রকমের আবশ্যিক হোম টাস্ক, তাই মেদভেদকোভ যোগ করেছেন:

    "আমরা এটা করেছি, প্রধান অংশটি সেই ২০০৪ – ২০০৫ সালেই হয়ে গিয়েছিল. অর্থাত্ আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আইন ব্যবস্থায় বেঁচে আছি আজ প্রায় ৮ বছর ধরেই. অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দ্বিতীয় আবশ্যিক বিষয় হল, পরিষেবা ক্ষেত্রে ছাড়, যে বিষয়ে আমরা আমদানী শুল্কের ক্ষেত্রে আমাদের দায় নথিভুক্ত করতে বাধ্য. আমাদের বর্তমানে গড়ে আমদানী শুল্ক প্রায় ১০, ৫ থেকে ১১ শতাংশ, যা প্রায় দুই ভাগ কমে যাবে".

    যেমন, গাড়ী আমদানীর ক্ষেত্রে আমাদের সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর থেকে সাত বছরের মধ্যে আমদানী শুল্ক কমবে দুই ভাগ. রাশিয়ার গাড়ী তৈরী শিল্পের ক্ষেত্রে এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে যে, তা হবে না, কারণ রাশিয়াতে বর্তমানে বহুল পরিমানে গাড়ী তৈরীর ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বেড়েছে. সাত বছর পরেই এই সমস্ত প্রকল্প তাদের পূর্ব নির্ধারিত উত্পাদন ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছবে. প্রসঙ্গতঃ রাশিয়ার বেশ কিছু শিল্প ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের কোন প্রভাবই পড়বে না – কারণ কিছুই আলাদা করে পরিবর্তিত হবে না.

    অনেকে মনে করেছেন যে, রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের পরে বহুল পরিমানে রাশিয়ার প্রকল্পে বিনিয়োগ আসবে, এই ধরনের ধারণা সত্য, মেদভেদকোভ বলেছেন:

    "দেখা যাক কি হয়েছে অন্যান্য দেশের যোগদানের পরে. চিন যেমন, খুব বড় দেশ, অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী, আর বিনিয়োগের পরিমান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের পর থেকে বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে".

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কোন সর্বরোগহর ওষুধ নয়. এই সংস্থায় যোগদানের ফলে নিজের থেকে কোন বিনিয়োগের ধূম লাগবে না. কিন্তু রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলি যথেষ্ট আগ্রহজনক, আর ভবিষ্যতে দেশ আসা করতেই পারে যে বিনিয়োগ বাড়বে.