ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে সাইবার আক্রমণের ফলে দূর্ঘটনা সম্বন্ধে সাবধান ও ত্রাণ করার জন্য কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছে. এই বিষয়ে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের বিপ্লব প্রহরার আকাশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান জেনেরাল গোলাম রেজা জালালি জানিয়েছেন. তেহরানে মনে করা হয়েছে যে, সাইবার আক্রমণ, যা ইরানের উপরে নিয়মিত ভাবে করা হচ্ছে, তা মোটেও তথাকথিত কম্পিউটার বদমাশদের কাজের ফল নয়, বরং তা পশ্চিম ও ইজরায়েলের অঘোষিত যুদ্ধের অংশ. কিন্তু ইরান ইতিমধ্যেই উত্তর তৈরী করছে.

    বিগত সময়ের ঘটনা দেখিয়েছে যে, তেহরানের বিপক্ষ আরও বেশী করে নতুন ধান্ধা তৈরী করছে দূর থেকে গোপন প্রভাব ফেলছে ঐস্লামিক রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে. অংশতঃ, এখানে সাইবার আক্রমণের কথা হচ্ছে ইরানের সামরিক ও পারমানবিক ক্ষেত্রের উপরে. যেমন, ২০১০ সালে পারমানবিক কমপ্লেক্স নাথাঞ্জে স্টাক্সনেট নামের কম্পিউটার ভাইরাস ছড়ানো হয়েছিল, যার ফলে প্রায় দশ শতাংশ সেন্ট্রিফিউজের বেহাল অবস্থা হয়েছিল. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, স্টাক্সনেট সাইবার আক্রমণের ফলে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা অনেক দূর পেছিয়ে পড়েছে. জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    "বিগত বছর গুলিতে ইরান ইন্টারনেট ব্যবহার করে আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে. এমন সব ঘটনা ঘটেছে যা শিল্প ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের পরিকাঠামো নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে ও বাস্তবে প্রযুক্তি গত যন্ত্রপাতি খারাপ করে দেওয়ার জন্য করা হয়েছে. সাইবার হুমকি আজ আরও বেশী করে যুদ্ধ ঘোষণা না করেই সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে. মনে করা হয়েছে যে, এই ধরনের আক্রমণ আরও বাড়বে".

    ইরানের কম্পিউটার বিশেষজ্ঞরা নতুন কেন্দ্র তৈরীর অপেক্ষা না করেই নিজেদের সাইবার আক্রমণের অস্ত্র বানাচ্ছেন. এই রকমের খবর পাওয়া গিয়েছে যে, আমেরিকার পাইলট বিহীণ সামরিক বিমান সেন্টিনেল (অর্থাত্ প্রহরী) ইরানের লোকেরা তার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কোড ব্যবহার করেই নামিয়েছেন. আমেরিকার লোকেরা  এটা অস্বীকার করেছেন. কিন্তু বাস্তব এই রকম যে, প্রহরী, যাকে ঠিক হত গুপ্তচর নাম দিলে, তা ধরা পড়েছে.

    ইরানের লোকেদের হাতে ধরা পড়া পাইলট বিহীণ বিমান: এই ধরনের যন্ত্রের সর্বাধুনিক রূপ, যা স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে. তার পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জটিল, তথ্য পাওয়া, বৈদ্যুতিন যোগাযোগ ও রেডিও দিক নির্দেশের ব্যবস্থাও জটিল. এই পাইলট বিহীণ মহাকাশ যান এই কারণেই তৈরী করা হয়েছে যে, তা দিয়ে এলাকার ছবি তোলা সম্ভব হয়, পরিবেশে বিকীরণের পরিমান ও হাওয়ার নমুনা সংগ্রহ সম্ভব হয়. তাই ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    "পাইলট বিহীণ বিমানের প্রভূত ব্যবহার বিগত বছর গুলিতে আমেরিকাকে সম্ভাবনা দিয়েছে অন্য দেশে গুপ্তচর বৃত্তির, যার মাধ্যমে তারা সামরিক বিষয়ে খুবই অনন্য তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে. দেখাই যাচ্ছে যে, সেই বিমান, যা আজ ইরানের হাতে পড়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে যত না পেন্টাগনের, তার থেকেও বেশী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সি আই এ সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিল".

    দূর থেকে গোপন যুদ্ধের আরও একটি পদ্ধতি হতে পারে বহুল পরিমানে পাইলট বিহীণ বিমানের ব্যবহার. পাইলট বিহীণ বিমানের উপরে শুধু গুপ্তচরের কাজই নয়, বেশী করে দেওয়া হচ্ছে বোমা বর্ষণের কাজ – বর্তমানের প্রযুক্তি ব্যবহারে এটা সম্ভবও হচ্ছে. কিছু দিন আগে ইজরায়েল বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাইলট বিহীণ বিমান তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করেছে, নাম এইতান (দুটি ডানার প্রান্তের মধ্যে দূরত্ব ২৬ মিটার, উড়তে পারে ৫ টন ওজন সমেত). এটা আকারে যে কোন বিমানের সমান, শুধু তাতে পাইলট নেই. এইতান পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশী উড়ে যেতে পারে ও তা মাটি থেকে সাড়ে তেরো হাজার কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতা থাকায় একে দিয়ে বড় যুদ্ধের কাজও করানো যায়. অংশতঃ, ধারণা করা হয়েছে যে, এই ধরনের বিমান দিয়েই ২০০৯ সালে ইজরায়েল সুদানের দেশের মধ্যে পাচার হওয়া অস্ত্রের গাড়ীর উপরে আঘাত হেনেছিল.

0    শুধু এইতান নয়, তার চেয়ে অনেক ছোট পাইলট বিহীণ বিমান থেকেও মাটির উপরের যে কোনও জায়গায় রকেট নিক্ষেপ করা সম্ভব. আর কিছু বিশেষজ্ঞ সন্দেহ করেছেন যে, ইরানে গত দুই বছরে হঠাত্ করেই অনেক গুলি বিপর্যয় ঘটে নি, যেগুলির কোন যোগাযোগ ছিল না প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে. এই বিপর্যয় গুলি ইরানের রকেট ও পারমানবিক পরিকল্পনার অগ্রগতির উপরে খুবই প্রভাব ফেলেছে. এই প্রসঙ্গে এই ধরনের ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ইরানের পক্ষ বা তাদের বিপক্ষের দিক থেকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না – যা সত্যিকারের যুদ্ধের সময়ে করা হয়ে থাকে. আর কখনও এই ধরনের দূর থেকে করা যুদ্ধ সত্যিকারের যুদ্ধে পরিনত হবে কি না – এটা এখন অন্য প্রশ্ন.