প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর দশম জয়ন্তী সরাসরি সওয়াল জবাব উপলক্ষে মুখোমুখি হয়েছেন সমস্ত রাশিয়ার বাসীর. তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে প্রায় সমস্ত ধরনের বিষয় নিয়েই ও প্রতিটি প্রশ্নেই তিনি উত্তর দিচ্ছেন খোলাখুলি সরাসরি ও সম্পূর্ণ ভাবে. ইন্টারনেট, এস এম এস ও কল সেন্টারের টেলিফোন প্রশ্ন জমা হয়েছে অনেক আগে থেকেই. ভ্রাম্যমান টেলিভিশন স্টুডিওতে বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন বড় শহর থেকে প্রশ্ন করছেন.

    বিগত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল সমাজে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, বিরোধী পক্ষ প্রশাসনকে কারচুপির অভিযোগ করেছে ও প্রতিবাদ মিটিংয়ে সামিল করেছে সহস্র মানুষ. সবচেয়ে বড় জন সমাবেশ হয়েছে মস্কো শহরের কেন্দ্রে ১০ই ডিসেম্বর. আর তাই পুতিন এই পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চুপ করে থাকলেও আজ এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন:

    "মানুষ যে দেশের রাজনীতি অর্থনীতিতে ঘটা ব্যাপার গুলি নিয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন, তা একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়. যতক্ষণ অবধি এই গুলি আইন সঙ্গত ভাবে হবে, ততক্ষণ সব ঠিক রয়েছে. আমি মনে করি যে, এই রকমই চলবে. আমি টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি যে, এখানে বেশীর ভাগই যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, তাঁদের নিজেদের অবস্থান রয়েছে, তাঁরা খুবই স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট করে কথা বলছেন. আর এটা যদি পুতিন প্রশাসনের ফলে হয়ে তাকে, তবে এটা ভাল ব্যাপার. আমি এখানে কিছুই সীমা অতিরিক্ত দেখতে পাচ্ছি না. আরও একবার বলবো: প্রধান বিষয় হল, যাতে সমস্ত সক্রিয় লোক ও সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি আইনের সীমার মধ্যেই থাকে".

    একই সঙ্গে পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার পক্ষে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ সত্য নয় ও তিনি এর সঙ্গে একমত নন. ভ্লাদিমির পুতিন এক চরম ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছেন, যা সমস্ত ইচ্ছুক লোককেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে সাহায্য করবে, তাই তিনি বলেছেন:

    "আমার মনে হয় যে, এটা সত্য যে এই ধরনের আক্রমণ আসলে গৌণ বিষয়. এটার প্রধান লক্ষ্য হল, আগামী নির্বাচন – রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির নির্বাচন. আর যাতে সেখানে কোন সমস্যা না হয়, যাতে সেই সম্ভাবনাকে কম করা সম্ভব হয় যে, এই নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে যাতে অস্বচ্ছ বলা সম্ভব না হয়, যাতে সেই সমস্তদের পায়ের তলা থেকে জমি হঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যারা একেবারেই দেশের প্রশাসনকে আইন বহির্ভূত বলে প্রমাণ করতে চাইছেন, তাদের জন্য আমার একটা প্রস্তাব রয়েছে. আমি প্রস্তাব করছি ও অনুরোধ করছি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদকে দেশের সমস্ত ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ওয়েব ক্যামেরা লাগানোর, আমাদের এই ধরনের কেন্দ্র ৯০ হাজারের বেশী. আর সেই ক্যামেরা গুলি সেখানে সারা দিন রাত কাজ করুক, তা ইন্টারনেটে দেখানো হোক. যাতে দেশ দেখতে পায় যে, কোন একটা নির্দিষ্ট ব্যালট বক্সের কাছে কি হচ্ছে. আর এই নিয়ে যে কোন ধরনের কারচুপির পথই বন্ধ করা হোক. আমি মনে করি যে, বিরোধী পক্ষের উচিত্ সমস্ত কিছুই যা ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের কাছে ঘটছে, তা সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকার. আর এই সমস্ত ক্যামেরা দিয়ে এটা সম্পূর্ণ ভাবেই করা সম্ভব".

    একই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন নির্বাচনে আইন ভঙ্গ যে হয়েছে, সেই নিয়ে অভিযোগ উড়িয়ে দেন নি. কিন্তু মন্ত্রী সভার প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ের মোকাবিলা করা দরকার কোন স্কোয়ারে নয়, তা আদালতে.

    পুতিন স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, প্রশাসন সমাজের দাবী শুনতে পেয়েছে ও বুঝেছে যে, বর্তমানে রাজনৈতিক সংশোধনের ক্ষেত্রেও গুরুতর দাবী উঠেছে. আর সেই গুলি হবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে, আশ্বাস দিয়েছেন পুতিন. অবশ্যই যদি রাশিয়ার নাগরিকেরা তাঁকে দেশ চালানোর বিষয়ে বিশ্বাস করেন, তাই তিনি বলেছেন:

    "তবে, যা করা দরকার, এই সব কাজ একেবারেই অন্য স্তরের. সেই গুলি জটিলতর, এখন অবধি যে সমস্ত সমস্যা নিয়ে কাজ করা হয়েছে, তার চেয়ে. আমাদের প্রয়োজন পড়বে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে মজবুত করার, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মজবুত করার, যাতে মানুষে নিজেদের ক্ষমতার পরিচয় পেতে পারেন নিজেদের বাড়ীর কাছেই স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই, তার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও রাষ্ট্রীয় স্তরে. যাতে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়ে. আর যাতে রাজনৈতিক ব্যবস্থা হয় স্বয়ং সম্পূর্ণ ও স্থিতিশীল... আমাদের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার দরকার ও আধুনিক করার প্রয়োজন রয়েছে. আর দরকার পড়েছে অবশ্যই সামাজিক ব্যবস্থাকে উন্নত ও আধুনিক করার, যাতে কেউই নিজেকে রাষ্ট্রের কাছে অকিঞ্চিত্কর বলে মনে না করেন".

    ভ্লাদিমির পুতিন একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দায়িত্ব ভাগ করার সম্বন্ধে বলেছেন. প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে, রাজনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা বৃদ্ধি করা দরকার, যারা এক দিক থেকে আরও বেশী ক্ষমতা পেতে বাধ্য, আবার অন্য দিক থেকে নাগরিকদের কাছে বাস্তবে যা ঘটছে, তার জন্য জবাবদিহি করতেও বাধ্য.