বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশের নাগরিকদের প্রাথমিক সমস্যা বেকারত্ব. এই ধরনের তথ্য বিশ্বের ২৩টি দেশে জনমত গ্রহণের পরে প্রকাশ করা হয়েছে. ১১ হাজার উত্তর দাতার মধ্যে প্রায় শতকরা পঁচিশ ভাগ লোক উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা নিজেদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাজ হারানো নিয়ে আলোচনা করেছেন. ২০০৯ সালের এই রকমের একটি মূল্যায়ণের সঙ্গে এই সংখ্যার পার্থক্য বর্তমানে ছয় গুণ. দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে মূল্যায়ণ অনুযায়ী দুর্নীতি ও দারিদ্র.

    বিগত দশ বছরের মধ্যে ২০০৭ – ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কট এক সব থেকে বড় সঙ্কট ছিল. বিশ্বের অর্থনীতি, তার পরিনাম পার হতে না পেরেই, আবার নতুন করে মন্দায় পড়তে চলেছে. বিশ্ব ব্যাঙ্ক বিশ্বের সম্মিলিত বার্ষিক উত্পাদন হ্রাসের কথা পূর্বাভাসে দিয়েছে. এখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, বেকারত্ব ও দারিদ্রের সঙ্গে যুক্ত বিষয় প্রাথমিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে. কিন্তু বলা যেতে পারে না যে, এই সমস্ত সমস্যা মানব সমাজকে শুধু বিগত বছর গুলিতেই উদ্বিগ্ন করেছে, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে "রোমির" অনুসন্ধান হোল্ডিং এর নেতৃস্থানীয় পরামর্শদাতা ইগর বেরেজিন বলেছেন:

    "লোকেদের সব সময়েই আগ্রহ রয়েছে একই ধরনের সমস্যা সম্বন্ধে. প্রাথমিক ভাবে সেই সমস্ত সমস্যা যা দৈনন্দিন জীবনে তাঁদের স্পর্শ করে. এটা মুদ্রাস্ফীতি, যা সমস্ত লোককেই ছুঁয়ে যায়, - ধনী, দরিদ্র, যুব বা খুব একটা অল্প বয়সী নয়, এমন সকলকেই. তা লোকের ক্রয় ক্ষমতা, তা যেমন বর্তমানের আয় থেকে তেমনই জমানো অর্থের ক্ষেত্রে  "খেয়ে ফেলে". সব সময়েই এই বিষয় বিশ্বের সমস্ত দেশের লোকেদের জন্যই খুব বাস্তব হয়ে থাকে. আর এখানে অর্থনৈতিক সঙ্কট নতুন কিছু মাত্রা যোগ করে নি. একই ধরনের সমস্যা বেকারত্ব. বাস্তবে এই দুই তিনটি অর্থনৈতিক বিষয়: আয়, কর্ম সংস্থান, মুদ্রাস্ফীতি  - সবসময়েই মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে, তা দুই, তিন বা দশ বছর আগেও লোককে উদ্বিগ্ন করেছে".

    অন্য দিক থেকে মতামতের ফলাফল জনগনের মনোভাবের গতি প্রকৃতি সম্বন্ধে বাস্তব প্রতিফলন দিয়ে তাকে, আর তা প্রাথমিক ভাবে ইউরোপীয় দেশ গুলির ক্ষেত্রে. যেমন, স্পেনে, যারা গ্রীস ও ইতালির পরেই আগে কখনও হয়নি, এতটা বাজেট কম করতে বাধ্য হয়েছে, সেখানে বেকারত্বের বিষয় নিয়ে শতকরা পঞ্চাশ ভাগ মতামত দাতা উল্লেখ করেছেন. এই প্রসঙ্গে সামাজিক মতামত তহবিলের নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞা ল্যুদমিলা প্রেসনিকোভা মন্তব্য করে বলেছেন

    দেখাই যাচ্ছে যে, বস্তু সংক্রান্ত সমস্যা সঙ্কটের পরে বেশী করে উদ্বিগ্ন করেছে. বেকারত্বের ক্ষেত্রে – এই পরিস্থিতি বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে একে বারেই আলাদা রকমের. যে সঙ্কট হয়েছে, তার একটি প্রধান সমস্যাই ছিল বেকারত্ব. তাই দেখা যাচ্ছে যে, এই সমস্যা এখন শীর্ষ স্থানে রয়েছে.

    ২০১১ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই মূল্যায়ণ করার সময়ে ১১ হাজারেরও বেশী লোককে মতামত দিতে বলা হয়েছিল. ঘোষিত হয়েছে যে, এই ফল সব মিলিয়ে বিশ্বের সামগ্রিক ভাবে মানুষের মতামতের প্রতিফলন.

    রাশিয়ার ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে, তা হল এই মূল্যায়ণে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, রাশিয়ার লোকেদের জন্য প্রধান সমস্যা হল আহার্য বস্তুর দাম. কিন্তু ল্যুদমিলা প্রেসনিকোভা জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাঁদের তহবিলের তথ্য অনুযায়ী – যারা এই দেশের একটি নেতৃস্থানীয় সামাজিক মূল্যায়ণ সংস্থা – এই ধরনের সূচক আশ্চর্য জনক. তিনি যোগ করেছেন:

    "যদি বলা হয় যে, রাশিয়ার জনগনকে কি সমস্যা সব চেয়ে বেশী উদ্বিগ্ন করেছে, তাহলে আমরা এই ধরনের প্রশ্ন প্রতি ত্রৈমাসিকেই বেশীর রুশ এলাকায় করে থাকি. আর আমাদের বেছে নেওয়ার মতো ভিত্তিও অনেক বেশী, যা এই প্রকাশিত মূল্যায়ণে বলা হয়েছে, তার চেয়ে, কারণ আমরা ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষকে মত দিতে বলে থাকি. প্রথম বাস্তবিক সমস্যার স্থলে রয়েছে – দেশের বাসস্থান ও পরিষেবার পরিস্থিতির খারাপ অবস্থা. এই প্রসঙ্গে ২০০৮ সাল থেকেই  লোকে আরও কম বলতে শুরু করেছেন আয় বৃদ্ধি বা মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে. তখন এই সমস্যা গুলি বেশী করে মনোযোগের কারণ ছিল".

    অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের উন্নতিশীল দেশ গুলিতে প্রথম বিষয় হয়েছে – দুর্নীতি – এই রকম মনে করা হয়েছে ভারত, পাকিস্থান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়াতে . লাতিন আমেরিকাতে – অপরাধ. এখানে লক্ষ্য করার মতো হয়েছে যে, সব মিলিয়ে বেশী বিপদ মতামত দাতাদের কাছে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে সেই ধরনের সমস্যা, যে গুলি মাঝারি বা দীর্ঘস্থায়ী মেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে. কিন্তু যেমন, পরিবেশ পরিবর্তনের বাস্তবতা নিয়ে প্রায় কেউই কিছু বলেন নি.