রাশিয়া ও ভারতের বর্তমানে অনেকগুলি আগ্রহজনক ও বহু সম্ভাবনাময় প্রকল্প সহযোগিতার ক্ষেত্রে রয়েছে. বিশদ বিবরণ – রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের মস্কো সফরের প্রাক্কালে দিয়েছেন ভারতবর্ষে অবস্থিত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন.

    আলেকজান্ডার কাদাকিন বলেছেন যে, ভারতের দক্ষিণে কর্নাটক রাজ্যে রাশিয়ার একটি বৃহত্ ইস্পাত উত্পাদক সিয়েভেরস্তাল কোম্পানী বর্তমানে পরিকল্পনা করেছে ইস্পাত ঢালাইয়ের এক কারখানা তৈরীতে বিনিয়োগ করার. এটা ভারত ও রাশিয়ার একটি নতুন সম্মিলিত প্রকল্প, যা বছরে ৩৫ লক্ষ টন ইস্পাত উত্পাদন করতে সক্ষম. ভারতের তরফ থেকে এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে এনএমডিসি লিমিটেড. এই প্রকল্পের জন্য রাশিয়া থেকে ভারতে বিশাল পরিমানে কয়লা সরবরাহ করার কথাও হয়েছে.

    খনিজ তেল ও গ্যাস শিল্পের ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করে বলেছেন যে, - কয়েকদিন আগে রাশিয়ার গাজপ্রম কোম্পানী ও তিনটি ভারতীয় কোম্পানীর মধ্যে যেমন গেইল, জিএসপিসি ও পেট্রোনেট এক অভিপ্রায় সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. এখানে কথা হয়েছে বছরে ৭৫ লক্ষ টন পেট্রোলিয়াম গ্যাস ২০১৬ সাল থেকে সরবরাহের জন্য.

    রাশিয়ার বিনিয়োগ কর্পোরেশন "সিস্টেমা", যারা বর্তমানে ভারতের এক কোটি তিরিশ লক্ষ লোককে মোবাইল টেলিফোন পরিষেবা দিচ্ছে, তারা ভারতে নিজেদের বিনিয়োগ বাড়ানোর কাজ প্রসারিত করছে ও ভারতে খনিজ তেল পরিশোধন কারখানা তৈরী করতে চেয়েছে.

    রাশিয়া- ভারত শীর্ষ বৈঠকের সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ বিশেষ করে মনোযোগ দেবেন নতুন জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে – এই কথা উল্লেখ করেছেন রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন.

    রাশিয়ার সহায়তায় ভারতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে অভিপ্রায় আলোচনা করা হবে, - আলেকজান্ডার কাদাকিন বলেছেন. – যদিও আমাদের প্রথম যৌথ প্রকল্প কুদানকুলাম ঘিরে পরিস্থিতি এখন খুব ভাল নয়, কারণ স্থানীয় জনগন "ফুকুসিমা" দূর্ঘটনার পরে বিরোধ সৃষ্টি করেছে, তাও ভারতের প্রশাসন জনগনকে দেশের জন্য পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ জীবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যাখ্যা করে চলেছেন. কারণ ভারতের দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনীতির জন্য জ্বালানী শক্তির প্রয়োজন বাড়ছে জ্যামিতিক অগ্রগতির হারে. আর রাশিয়া ভারতীয় বন্ধুদের জন্য এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে আধুনিক ও ভরসাযোগ্য প্রযুক্তি দিতে তৈরী আছে.

    অর্থনৈতিক প্রকল্প গুলির সঙ্গে আগামী শীর্ষ বৈঠকের সময়ে পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রশ্ন নিয়েও আলোচনা করা হবে. রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত গোপন করেন নি যে, বর্তমানের বাণিজ্যের হার দুই দেশের ক্ষমতা ও ইচ্ছার সঙ্গে তুলনীয় নয়. তবুও...

    আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, বলছেন আলেকজান্ডার কাদাকিন, - রাশিয়া ভারত যৌথ বাণিজ্যের পরিমান ছিল পাঁচশো কোটি ডলারের সমান. বর্তমানে তা নয়শো কোটি ডলারের সমান. আমাদের দেশের নেতারা সামনে লক্ষ্য রেখেছেন ২০১৫ সালের মধ্য এটা দুই হাজার কোটি ডলারের সমান করার. সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রের মধ্যে দুই দেশ রেখেছে ঔষধি নির্মাণ শিল্পকে, যেখানে ভারত বিশ্বের একটি নেতৃত্ব স্থানীয় অবস্থানে রয়েছে. বেশ কয়েকটি রুশী ও ভারতীয় কোম্পানী বর্তমানে সম্মিলিত প্রকল্প তৈরীর জন্য আলোচনা করছে. আলোচনা চলছে সম্মিলিত ভাবে কৃষির জন্য সার, খনিজ উত্পাদন, বস্ত্র শিল্পে ও কৃষিতে কাজ করা নিয়ে.

    কিন্তু শুধু খাবার দিয়েই মানুষ বেঁচে থাকে না! রাশিয়া ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক অংশ ছাড়াও, বাণিজ্য অর্থনীতির প্রসঙ্গ ছাড়াও, যথেষ্ট উল্লেখ যোগ্য জায়গা সব সময়েই ছিল সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যোগাযোগের. তা নিয়েও মস্কো শহরের আগামী শীর্ষ বৈঠকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে.

    আমাদের দেশের নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, - বলেছেন রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন, - ২০১২ সালে ভারতে রাশিয়ার সাংস্কৃতিক উত্সব করা হবে. অনেক প্রদর্শনী, রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দল এখানে অংশ নেবেন.

    আগামী বছরে, রাষ্ট্রদূত যোগ করেছেন, - এক বিশিষ্ট বছর পালিত হতে চলেছে – স্বাধীন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ৬৫ বছর. ভারতীয়রা এই বিষয়কে বিশেষ করে মূল্য দিয়ে থাকেন যে, আমাদের দেশ ভারতবর্ষে সরকারি ভাবে ঘোষণার কয়েক মাস আগেই ভারতের স্বাধীনতা স্বীকার করেছিল!

   রাশিয়া ও ভারতবর্ষ, - বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন, - স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার বিরল বন্ধনে একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ.

    বিশ্বের কোন একটি দেশের সঙ্গেও রাশিয়ার কখনও এত পরম্পরা মেনে স্থিতিশীল, সৌহার্দ্র্যের ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না, - আলেকজান্ডার কাদাকিন যোগ করেছেন. – সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আমাদের দুই জাতির মধ্যে অনেকদিন আগেই ঐতিহ্যের ভিত্তি স্থাপন করতে পেরেছে.

    ভারত মহান রাষ্ট্রের সরকারি স্বীকৃতির পথে খুবই সবল পদক্ষেপে চলেছে. বাস্তবে তা সব সময়েই ছিল. আর রাশিয়া এটা স্বীকার করেছে. বর্তমানে ভারত বিশ্বের এক অন্যতম বৃহত্ দেশ বলে আরও বেশী শক্তি অর্জন করছে. আমরা এই প্রক্রিয়া দেখে আনন্দ বোধ করছি ও আমাদের সমস্ত ধরনের সম্পর্ককে আরও গভীর করার কাজ করে চলেছি, - বলেছেন রাষ্ট্রদূত.

    ১৫ – ১৭ই ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের মস্কো সফরের সময়ে রাশিয়া ও ভারতের সমস্ত সম্পর্ক ও সম্ভাবনাময় দ্বিপাক্ষিক প্রকল্প গুলি নিয়ে দুই দেশের নেতাদের সাক্ষাতে আলোচনা হবে.