রাশিয়াতে গত শুক্রবারে প্রকাশিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা চলছে. বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যেমন আগেই বলা হয়েছিল যে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মামলা করা হবে. কিন্তু আদালতে মামলা পার্লামেন্টে শক্তি গুলির স্থান বদলানোর ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না, এই বিষয়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সম্প্রচার সম্পাদক দিমিত্রি পেসকোভ আস্থা রাখেন. এই ধরনের মূল্যায়ণের সঙ্গে বিশেষজ্ঞরাও একমত.

ভোটের ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট বিরোধী পক্ষ বর্তমানে নতুন করে রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল মিটিং করার পরিকল্পনা করছে. সরকারি ক্ষমতাসীন পক্ষ আপাততঃ যা ঘটছে, সেই বিষয়ে নির্বিকার. সংবাদ মাধ্যম ও ইন্টারনেট জুড়ে প্রচুর কোলাহল করা স্বত্ত্বেও সম্মিলিত ভাবে যে কটি অভিযোগ জমা হয়েছে, তার সংখ্যা বেশী নয়. প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের তথ্য সম্প্রচার সম্পাদক দিমিত্রি পেসকোভ ফ্রান্স প্রেস সংবাদ এজেন্সীকে ঘোষণা করেছেন যে, পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে সমস্ত খবর সামগ্রিক ভোট সংখ্যা শতকরা দেড় শতাংশও নয়. আর এর অর্থ হল, এমনকি যদি সমস্ত মামলার রায় আদালত প্রতিবাদী পক্ষের জন্য দেয়, তাহলেও "তা ভোটের সামগ্রিক ফলাফলের উপরে কোনও প্রভাব ফেলবে না". এই ধরনের ধারণার সঙ্গে সহমত হয়ে রাজনীতি তহবিলের সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন:

"কোন না কোন নির্বাচনী কেন্দ্রের পরিষদের কাজকর্মের উপরে যে সংখ্যায় অভিযোগ জমা পড়েছে, তা সমস্ত ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা হিসাবে শতকরা এক শতাংশেরও কম. প্রসঙ্গতঃ সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, সত্যই এই সব কেন্দ্রে কারচুপি হয়েছিল, তার দায়িত্ব আদালতের. আপাততঃ যত খানি আমার জানা রয়েছে যে, সমস্ত অভিযোগ আলাদা করে দল গুলির পক্ষ থেকে করা হয়েছে. তা সব মিলিয়ে এই বারের নির্বাচনে গৃহীত ভোটের সঙ্গে তুলনায় একেবারেই তুচ্ছ".

ভোট গ্রহণ সংক্রান্ত সরকারি ফল অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দল "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" পেয়েছে শতকরা ৪৯ শতাংশ ভোট. তিনটি দল, যারা নিজেদের বিরোধী পক্ষ বলে ঘোষণা করেছে, তারাই বাকী অর্ধেক ভোটের বেশীর ভাগই তিন দলের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে. প্রসঙ্গতঃ এই বারে তারা আগের বারের ভোটের তুলনায় অনেক বেশী ভাল ফল করেছে. রুশ কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে শতকরা ১৯ শতাংশ ভোট, "ন্যায় বাদী রাশিয়া" পেয়েছে ১৩ শতাংশ ও রুশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দল পেয়েছে শতকরা ১২ শতাংশ ভোট. কিন্তু এর মধ্যেই এমনকি ভোট গ্রহণের দিনেই ইন্টারনেটে বহু ভিডিও দেখতে পাওয়া গিয়েছে, যেন ব্যালট বক্সে বাড়তি ব্যালট ফেলা হয়েছে ও অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের দৃশ্য. কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির চুরভ ঘোষণা করেছেন যে, এর মধ্যে কিছু ভিডিও ছিল কৃত্রিম ভাবে তোলা. তা স্বত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন সমস্ত অভিযোগই খুঁটিয়ে দেখার জন্য.

লক্ষ্যনীয় হল যে, বিরোধী পক্ষের দল গুলি সেই সমস্ত অঞ্চলেই ভোটের ফল নিয়ে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছুক, যেখানে তারা খুবই খারাপ ফল করেছে. আর সেখানে, যেখানে তারা ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে, সেখানে তারা কোন আইন লঙ্ঘণ দেখতে পাচ্ছে না.

রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের প্রধান আলেক্সেই মুখিন মনে করেন যে, রাশিয়া প্রশাসনের বর্তমানে ঘটমান বিষয়ের প্রতি প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট, তাই তিনি বলেছেন:

"খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল যে, সরকার নির্বাচনে কারচুপির সম্ভাবনা স্বীকার ও তা অবলুপ্ত করার জন্য কতখানি তৈরী থাকবে নাগরিক সমাজের মুখোমুখি দাঁড়ানোর. আর এখানে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, সর্ব্বোচ্চ প্রশাসন এগিয়ে আসতে প্রস্তুত. আর এটা সম্পূর্ণ ভাবেই সম্ভব যে, আলাদা করে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ফলাফল আবার করে বিচার করে দেখা হবে".

রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে আজ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমায় বিজয়ী হওয়া সমস্ত দল ও তাদের মধ্যে বিরোধী পক্ষের নেতারাও বিগত নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন.