রবিবারে নিজের সাত হাজার সমর্থকের সামনে অণ্ণা (চাচা) হাজারে এক দিনের সাবধান করে দেওয়ার অনশন করেছেন. ৭৪ বছরের বর্ষীয়ান গান্ধীবাদী সামাজিক কর্মী, গান্ধীর নির্দেশিত পথেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, ভারতের প্রশাসনের কাছ থেকে আরও "কড়া" দুর্নীতি বিরোধী ও দুর্নীতি যারা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন গ্রহণ করতে দাবী করেছেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

    কিসান বাবুরাও হাজারের এটাই প্রথম জন সমক্ষে অনশন নয়. এপ্রিল মাসে তিনি অনশন করেছিলেন, তখন দাবী ছিল দুর্নীতি প্রতিরোধ বিল তৈরীর পরিষদে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ নেওয়া হোক বলে. তাঁর সেটা পাওয়া হয়েছিল. আইন নির্মাণ দলে প্রবেশ করে অণ্ণা ও তাঁর কিছু সহকর্মী দাবী করেছিলেন সেটিকে কঠোর করতে, তাতে বেশ কয়েকটি ধারা প্রণয়ন করার, যা সরকারের প্রতিনিধিরা বাস্তবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন. আগষ্ট মাসে অণ্ণা আবার অনশন শুরু করেছিলেন. ফলে দেশের পার্লামেন্ট সদস্যরা কার্যতঃ তাঁর দাবী মেনে নিয়েছিল.

    ভারতবর্ষ চমকে উঠেছিল. দুটি অনশন দিয়ে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে না নেওয়া লোকপাল বিল মানে দুর্নীতি বিরোধী বিল নেওয়া প্রায় সম্ভব পর হয়েছিল বলে মনে হয়েছিল! কিন্তু এটা শুধু মনে হয়েছিল. আইন এখনও নেওয়া হয় নি. পার্লামেন্টে বিতর্ক চলছে. প্রধান সমস্যা হয়েছে উচ্চ পদস্থ কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা (এখানে প্রধানমন্ত্রী ও সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের কথা হচ্ছে) তথাকথিত লোকপালের আওতায়, যাঁদের দুর্নীতির সঙ্গে সংগ্রামে প্রসারিত ক্ষমতা দেওয়া হবে.

    তারই মধ্যে অণ্ণা হাজারে সরকারের জন্য নতুন দাবীর তালিকা তৈরী করেছেন. এবারে তিনি "নির্বাচনী ব্যবস্থার খামতি সংশোধন" করার পরিকল্পনা নিয়েছেন, নিষ্কর্মা লোকসভা বা রাজ্যসভা সদস্যদের খারিজ করতে ও ভোটের ব্যালট পেপারে "সকলের বিরুদ্ধে" এই অংশ যোগ করতে. ভারত আবার উত্তেজিত: এই নতুন "ব্যুরোক্র্যাসীর বিরুদ্ধে হাজারে" আন্দোলনের নতুন অধ্যায় নিয়ে, আর এটা শুধু দুর্নীতি নিয়েই নয়. এটা হবে সেই নিয়ে যে, কি করে রাস্তা ও মিটিং ব্যবহার করে আরও ভাল করা যায় – অথবা যদি চান, তাহলে বলতে পারেন কি করে গণতন্ত্রের "ইলাজ" করা যায়. অণ্ণা হাজারে মনে হচ্ছে নতুন করে সব দাবী এনেই যাবেন. আর তা কি দিয়ে শেষ হবে তা বলা কঠিন. কিন্তু অহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবারে সরকার শক্তি প্রয়োগ করেছে. কয়েকদিন আগে অণ্ণা হাজারের শাকরেদ বলে স্বঘোষিত বাবা রামদেবের চ্যালাদের প্রতিবাদ মিছিলে সরকার লাঠি পেটা করে লোক তাড়িয়েছে – তাই এটাকে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ মনে করেছেন বিপদ সঙ্কেত বলে ও যোগ করেছেন:

    "সরকার ও সমাজের মধ্যে আলাপের দৃষ্টিকোণ থেকে – এটা খারাপ সঙ্কেত. এর অর্থ হল যে, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সমাজ যে সমস্ত পথ ব্যবহার করে, তার একটি পথ – আর ভারতের অহিংস আন্দোলনের ইতিহাস বহু দিনের – তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে. সাম্রাজ্যবাদী শাসনের সময়ে গান্ধী এই ধরনের আন্দোলনের আয়োজন করেছেন, দেশের অন্যান্য স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বের সাথেই. এখন প্রশাসন শক্তি প্রয়োগ করছে সেই সমস্ত পদ্ধতির বিরুদ্ধেই, যা বলা যেতে পারে যে, একটা মাত্রা ছাড়াচ্ছে. এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলের উপরেই বাজে প্রভাব ফেলতে পারে, তার ওপরে এই দল নিজেই আগে সক্রিয় ভাবে অহিংস আন্দোলনের পথিকৃত ছিল. এখন তারাই একই ভাবে কাজ করছে, যা এক সময়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরা করেছে, যখন তারা মিটিং ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে".

0    বিগত সময়ের দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যাণ্ডাল গুলি  ভারতের ভিতরে রাজনৈতিক অবস্থাকে খুবই তীক্ষ্ণ পরিস্থিতিতে এনে ফেলেছে. বিরোধী পক্ষ সরকারকে দোষ দিচ্ছে ও শাসক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে দেশের সমস্ত সমস্যা – মুদ্রাস্ফীতি, মূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দুর্নীতির মাত্রাতিরিক্ত প্রসারের কারণ বলে উল্লেখ করছে. আরও ঘনঘন আওয়াজ তোলা হচ্ছে যে, ২০১৪ সালের অপেক্ষায় থেকে লাভ নেই, এখনই পার্লামেন্ট ইলেকশন করা দরকার. এই পরিস্থিতিতে অণ্ণা হাজারের আন্দোলন শুধু নতুন ঝামেলাই বাড়াবে, অগ্নিতে ঘৃতাহুতি করারই মতো...