রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের শহরগুলিতে গত ১০ই ডিসেম্বর শনিবার হওয়া জন সমাবেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন. বিরোধী পক্ষ রাস্তায় নামিয়ে ছিলেন বহু সহস্র মানুষ. যাঁরা লোকসভা নির্বাচনে তথাকথিত বহুল পরিমানে আইন ভঙ্গের প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন. দিমিত্রি মেদভেদেভ ফেসবুক সামাজিক সাইটের নিজের পাতায় ঘোষণা করেছেন যে. তিনি এই সমস্ত প্রতিবাদ মিছিলের ধারণার সঙ্গে সহমত নন, কিন্তু জানিয়েছেন যে, আইন ভঙ্গ সংক্রান্ত সমস্ত খবর পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন.

    রাশিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া বিরোধী পক্ষ ও রাজনীতিবিদেরা প্রায় এক দিন ধরে অপেক্ষা করেছেন. আর উল্লেখযোগ্য হল যে, দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের মত প্রকাশের জন্য সেই পথই বেছে নিয়েছেন, যা বিরোধীরা বেছে নিয়েছিল মিটিং আয়োজন করার জন্য – অর্থাত্ সামাজিক সাইট. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির মন্তব্য ফেসবুক সামাজিক সাইটে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবে স্বীকৃত পাতায় উঠেছে, রবিবারে সন্ধ্যায়. মন্তব্য খুবই ছোট: "সংবিধান অনুযায়ী রাশিয়ার নাগরিকেরা বাক্ স্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতার অধিকার রাখেন. লোকেরা তাঁদের অবস্থান বলার অধিকার রাখেন, যা তাঁরা গতকাল করে দেখিয়েছেন. এটা ভাল যে, সব কিছুই আইনের আওতায় সম্পন্ন হয়েছে. আমি তাদের মিটিংয়ে দেওয়া স্লোগান বা ঘোষণার সঙ্গে একমত নই. তা স্বত্ত্বেও আমি দায়িত্ব দিয়েছি ভোট গ্রহণ কেন্দ্র গুলি থেকে পাওয়া সমস্ত খবর যাচাই করে দেখার, যেখানে নির্বাচনের আইন পালনের সঙ্গে কোন রকমের সম্পর্ক রয়েছে. রাষ্ট্রপতির লেখা ইতিমধ্যেই দশ হাজারের বেশী মন্তব্য জড়ো করেছে. তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়াকে বড্ড বেশী সংযত বলেছে. আর রাজনীতিবিদ গ্রিগোরী ত্রোফিমচুক বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া ঠিক এই রকমেরই হওয়া উচিত্ ছিল, তাই তিনি যোগ করেছেন:

    "এটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া. সমস্ত আইন ভঙ্গের খবরেরই তদন্ত হওয়া উচিত্. প্রসঙ্গতঃ, একেবারে সব কটি সঙ্কেতই বিশদ করে. এর মানে এই নয় যে, বিরোধী পক্ষের দাবী শোনা হয়েছে. এর মানে হল যে, ব্যবস্থা যে রকম ভোটের আগে, তেমনই ভোটের পরেও কাজ করতে বাধ্য. আমরা– দেশ ও নাগরিক সমাজ হিসাবে- উন্নতির সেই অধ্যায়ে উপস্থিত হয়েছি, যখন বাস্তবেই সমস্ত সঙ্কেত তদন্ত করে দেখতে বাধ্য ও সমাজকে সেই তথ্য জানাতে বাধ্য, কি করে একটি বা অন্য আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে. আমার মনে হয় যে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদ এই পথেই চলতে শুরু করেছে".

    রাজনৈতিক নেতা ও রাজনীতিবিদেরা, সাংবাদিক ও অন্যান্য সাইটের ব্যবহারকারীরা সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভের মন্তব্যের অন্তর্নিহিত কোন অনুক্ত মত খুঁজে বার করতে. সমস্ত আইন ভঙ্গের তদন্ত কথার মধ্যে বিরোধী পক্ষকে কোন সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে কি না, যে তাদের দাবী শোনা হয়েছে? রাজনৈতিক কাঠামোর নকশা অনুধাবন কেন্দ্রের বিশ্লেষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি আবজালভ মনে করেছেন যে, মেদভেদেভের মন্তব্যের অর্থ এই রকম:

    "নির্বাচনের সামগ্রিক ভাবে আইন সঙ্গত হওয়া যথেষ্ট উচ্চ মানের, আর সমস্ত প্রশ্ন, যা আইন ভঙ্গ নিয়ে তোলা হয়েছে, তা আইনগত পদ্ধতি দিয়েই সমাধান হওয়া দরকার, অর্থাত্ আদালতের মাধ্যমে. কিন্তু মেদভেদেভের প্রধান ধারণা এর মধ্যেই রয়েছে যে, প্রশাসন তৈরী আছে পাল্টাতে, কিন্তু কোন রকমের বৈপ্লবিক ঝটকা ছাড়াই. বাস্তবে কথা হচ্ছে রাজনৈতিক উচ্চ মহলের গুরুত্বপূর্ণ নবীকরণের ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সেই ক্ষেত্রে, যেমন সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে".

    দিমিত্রি মেদভেদেভের বক্তব্যের দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির চুরভও. ইউরোনিউস টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি যেমন বিরোধী পক্ষের মিটিং সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন, তেমনই ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের আইন ভঙ্গ নিয়ে ইন্টারনেটে দেওয়া বহু ভিডিও নিয়েও, তারই সঙ্গে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন. তিনি বলেছেন:

    "এর জন্য কোন ক্ষুদ্রতম ভিত্তিও নেই. আমি যত দূর জানি, বহু সহস্রের মিটিং হয়েছে শুধু মস্কো শহরেই. আমাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশী, আর এর থেকে প্রধান সিদ্ধান্ত হল – মস্কোর পুলিশ নিউইয়র্কের পুলিশের চেয়ে অনেক ভাল কাজ করে. নির্বাচনের আয়োজন সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল নির্বাচন খুব ভাল করে আয়োজন করা হয়েছে. সেই সমস্ত সমালোচনা – যা আমাদের জানা আছে, তার সম্মিলিত সংখ্যা রাশিয়ার সমস্ত ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যার হিসাবে শতকরা এক ভাগেরও কম. বৃহস্পতিবার থেকে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আমরা সব কটি ভিডিও তদন্ত করে দেখছি. এখন আমাদের কাছে ৭০টিরও বেশী ভিডিও রয়েছে. সমস্ত তথ্যই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পরে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, তার মধ্যে বিদেশও থাকবে".

    বিগত দশকের মধ্যে সারা রাশিয়া জুড়ে ঘটা সবচেয়ে জনবহুল প্রতিবাদ মিছিল ও জন সমাবেশের পরে রাষ্ট্রপতির ফেসবুক সাইটে প্রকাশিত ঘোষণা ও মন্তব্য আপাততঃ অন্যতম উচ্চপদস্থ সরকারি প্রতিক্রিয়া হয়ে রয়েছে. প্রসঙ্গতঃ "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দল এখনই বিরোধী পক্ষের জন্য জবাব তৈরী করেছে: ক্রেমলিনের দেওয়ালের পাশে মানেঝ স্কোয়ারে আজ দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থকেরা জড়ো হচ্ছেন.