বিশ্বে খাদ্য বস্তুর দাম বিগত পাঁচ মাস ধরেই ক্রমাগত কমে যাচ্ছে. এটা ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য সংস্থার রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে. মূল্য হ্রাসে অনেক প্রভাব ফেলেছে রাশিয়ার তরফ থেকে আবার খাদ্য শষ্যের বাজারে প্রত্যাবর্তন.

    ২০১১ সালে এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও রাশিয়াতে খাদ্য শষ্যের ভাল ফলন এবং ২০১২ সালের জন্য পূর্বাভাস খুব ভাল হওয়াতে গত বছরের নভেম্বর মাসের চেয়ে এই বছরের নভেম্বরে দাম কমেছে প্রায় এক শতাংশ, এই কথা উল্লেখ করা হয়েছে খাদ্য সংস্থার রিপোর্টে. শষ্য বিশ্বের খাদ্য বস্তুর অধিকাংশ জায়গা নিয়ে রয়েছে, এই কথা ব্যাখ্যা করে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষক মারিয়া কাতারানোভা বলেছেন:

    "খাদ্য শষ্য হল প্রধান উত্স, যার উপরে অন্যান্য খাবার জিনিষ তৈরী করার উত্পাদকেরা লক্ষ্য রেখে দাম স্থির করে থাকেন. তা ছাড়া, দানা শষ্য নিজেই আহার্য্যের বিষয়ের এক বড় অংশ দখল করে থাকে, তা আবার অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে কাঁচামালও, অংশতঃ পশু পালনের ক্ষেত্রে".

    প্রসঙ্গতঃ, দাম কমার দিকে লক্ষণ থাকা স্বত্ত্বেও, দানা শষ্য এখনও যথেষ্ট দামী জিনিষ হয়েই রয়েছে. শেষ বার বিশ্বের খাদ্য শষ্যের বাজারে দামের আচমকা বৃদ্ধি হয়েছিল গত বছরের খরার কারণে, তার ফল হিসাবে অনেক শষ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া. রাশিয়াকে এমনকি দানা শষ্যের রপ্তানীর উপরে নিষেধাজ্ঞা নিতে হয়েছিল, যাতে দেশের ভিতরের বাজারকে অনাহারে রাখতে না হয়. ফলে দেশে অবশ্যই কেউই অনাহারে ছিলেন না, কিন্তু বিশ্বে দানা শষ্যের অভাব যথেষ্ট দেখা গিয়েছিল. এই বছরের গরমে রাশিয়া থেকে রপ্তানী আবার শুরু করা হয়েছিল, আর গ্রাহকেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছেন. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার দানা শষ্য সঙ্ঘের সহ সভাপতি আলেকজান্ডার করবুট বলেছেন:

    "আমাদের প্রত্যাবর্তন বাস্তবে খুবই লক্ষ্যনীয় ও শক্তিশালী কারণ হয়েছে. আরও বেশী করে প্রতিযোগিতার মধ্যম তৈরী হয়েছে, গ্রাহকদের উপরে সরবরাহ কারীদের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা কমেছে. কারণ রাশিয়া বিশ্বের বাজারে – শুধু বড়ই নয়. বরং খুব বড় এক ক্রীড়নক. এখন রাশিয়া ও কৃষ্ণ সাগর তীরের তিনটি দেশ – রাশিয়া, ইউক্রেন ও কাজাখস্থানের দখলে রয়েছে বিশ্বের খাদ্য শষ্যের মধ্যে গমের বাজারের প্রায় শতকরা ২০ ভাগ".

    কিন্তু, যথেষ্ট বেশী পরিমানে এখন সরবরাহের প্রস্তাব থাকা স্বত্ত্বেও, দানা শষ্যের চাহিদা অনেক. অংশতঃ, পশু পালকেরা গত বছরে তাদের পালিত পশুদের ভুট্টা খাওয়াতে বাধ্য হলেও, এখন দ্রুত নিজেদের গুদামে সস্তায় কেনা গম ভর্তি করতে ব্যস্ত. কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে ২০১২ সালে রাশিয়া ও অন্য কয়েকটি দেশে ভাল ফলনের পূর্বাভাস স্বত্ত্বেও বিশ্বের বাজারে দানা শষ্যের অতিরিক্ত যোগানের সম্ভাবনা নেই. তাই তার দামের কোন গুরুতর রকমের কমে যাওয়ার কথা এখন নেই.