লোকসভা নির্বাচন যা এখনও রাশিয়ার সংবাদপত্রের প্রথম পাতা,ইন্টারনেট এবং সড়ক পথের জনসভার প্রধান আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।যদিও পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয় গত ৪ ডিসেম্বর ও চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা  হয় ৯ ডিসেম্বর,কিন্তু তা এখনও অতীতে পরিনত হয় নি।প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদেভেদেভ এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত শান্তভাবেই নিয়েছেন।তাঁর ভাষায়,জনসভা হচ্ছে গনতন্ত্রের পূর্ণবিকাশ।

রাশিয়ার লোকসভা নির্বাচনের চুড়ান্ত ফলাফল গত শুক্রবার ঘোষণা করা হয়।পার্লামেন্টে মোট ৪টি দল স্থান পাচ্ছে।নির্বাচনে একক রাশিয়া পেয়েছে ৪৯ ভাগ ভোট,কমিউনিষ্টরা পেয়েছে ১৯ ভাগ, ন্যায্য রাশিয়া পেয়েছে ১৩ ভাগের কিছুটা বেশী এবং লিবেরাল ডেমক্রাটিক দল প্রায় ১২ ভাগ ভোট পেয়েছে।এছাড়া অন্য ৩টি দল আপেল,সঠিক কাজ ও দেশপ্রেম রাশিয়া ৭ ভাগেরও নিচে ভোট পাওয়ায় পার্লামেন্টে স্থান পায় নি।

নির্বাচনে যে এই ধরনের ফলাফল হবে তা পূর্বে সমাজবিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেছিলেন।যদিও ভোটগ্রহন শেষ হওয়ার সাথে সাথে এই আলোচনাটা শুরু হয়।বিরোধীদল নির্বাচনে বিধিনিষেধ ভঙ্গ হয়েছে এই মর্মে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদী জনসভা করেছে।রুশ প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই জনসভা সম্পর্কে নিজের মতামত জানিয়েছেন।তিনি বলেন,‘কিছু লোক আছে যারা খুবই হতাশ এবং কিছু লোক আছে যাদের নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য নেই।জনসভা হচ্ছে গনতন্ত্রের পূর্ণবিকাশ।তবে এখানে একটি কথা অবশ্যই বলা দরকার,জনসভা রাশিয়ার সুনির্দিষ্ট আইন অনুসারে অনুষ্ঠিত হতে হবে।একই সাথে জনগনের নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে’।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগ করা হয়।এই ধরনের যদি কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এর তদন্ত করা হবে বলে মেদভেদেভ উল্লেখ করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন মতামত পাওয়া যাচ্ছে।নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনেক দেশ রাশিয়ার প্রশংসা করেছে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন রাশিয়ার নির্বাচনে স্বাধীন ও স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তোলেন।এর উত্তরে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন হিলারী ক্লিনটনকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহবান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের ওই অভিমতে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদেমীর পুতিনও মন্তব্য করেছেন।তিনি উল্লেখ করেন,যুক্তরাষ্ট্রের ওই ধরনের বিবৃতি যা রাশিয়ার বিরোধী দলের জন্য বিক্ষোভ কর্মসূচি সূচনার সংকেত প্রদান করেছে।একই সাথে পুতিন বিরোধীদলের সাথে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা ও জনসভাকে গনতান্ত্রিক অধিকার বলে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন,‘যদি জনগন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়,তাহলে তাদেরকে অবশ্যই নিজের অভিমত প্রকাশের সুযোগ করে দেয়া উচিত।আমরা কারো নাগরিক অধিকার সংকুচিত করার ক্ষমতা রাখি না।যদি কেউ আইন ভঙ্গ করে তাহলে আইনরক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ এর যথাযথ ব্যবস্থা নিবে’।

১০ ডিসেম্বর জনসভা আয়োজনের জন্য বিরোধী দল রাজধানী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পায়।চলতি সপ্তাহে যা ছিল সবচেয়ে জনবহুল কোন সামাজিক অনুষ্ঠান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তথ্যমতে,মস্কোর একটি কেন্দ্রীয় স্কায়ারে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়।কর্মসূচির আয়োজকরা ধারনা করেছিলেন অন্তত ৬০ হাজার মানুষ উপস্থিত হবেন।উল্লেখ্য,জনসভার আয়োজক ও আইনরক্ষী বাহিনী উভয় পক্ষই অত্যন্ত সফলতার সাথে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।ওই দিন বড় ধরনের  কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি।

কিন্তু টেলিভিশন সম্প্রাচারে অবশ্য কৌতুহলী ভুল ছিল।মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজ তাদের প্রচারিত সংবাদে সড়কে পাল্ম গাছ সম্বলিত চিত্র দেখিয়েছেন।যেখানে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করছেন এবং ওই ভিডিও খন্ড চিত্রের শিরোনাম ছিল ‘মস্কোতে পুলিশ কর্তৃক বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ’ ।কিন্তু প্রচারের পর জানা যায়,ওই ভিডিও ফুটেজটি ছিল এথেন্সের।ফক্স নিউজ কর্তৃপক্ষ পরে অবশ্য এটি ভুল বলে স্বীকার করেছেন।

দিমিত্রি মেদভেদেভ নির্বাচনের পর নিজের দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন,একক রাশিয়া পার্র্টির যা প্রাপ্য ছিল নির্বাচনে ঠিক তাই পেয়েছে।তবে পার্লামেন্টে দলের পক্ষে অধিকাংশ আসন না পেলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে এবার অন্যান্য বিরোধী দলের সহকর্মীদের সাথে আপোষে পৌঁছাতে হবে।সুতরাং রাশিয়ায় রাজনৈতিক ধারা আরও সক্রিয়া হয়ে উঠবে।একক রাশিয়া ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে জনসাধারণের সাথে সরাসরি কথা বলা শিখতে হবে।