রাশিয়ায় সদ্য অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর গতকাল শনিবার পুরো রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত জনসভার প্রানকেন্দ্র ছিল মস্কো.বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায়,মস্কোর ক্রেমলিন দেয়ালের কাছে বালোটনায় স্কায়ারে বিরোধী দলের অন্তত ২৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার  জনগন সমবেত হন।গত ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনে কারচুপির হয়েছে বলে উল্লেখ করে  ‘স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে’ উপস্থিত লোকজন স্লোগান দিতে থাকেন।এদিকে গতকালের ওই জনসভার পর রাশিয়ার ক্ষমতাসীন দল একক রাশিয়ার পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রথম ভাইস সেক্রেটারী আন্দ্রেই ইসাএব বলেন,রাষ্ট্র ও সমাজ জনসভায় অংশগ্রহনকারীদের বার্তা বিবেচনা করবে।তিনি বলেন,অবশ্যই,সাধারণ জনগন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া ও এর ফলাফলের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার অধিকার রাখেন।সাংবাদিকদের দেওয়া বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন,নিজের মতামত প্রকাশকে গনমাধ্যম,সমাজ ও রাষ্ট্র অবশ্যই বিবেচনা করবে এবং তা গুরুত্বপূর্ণও বটে।

এদিকে গতকাল মস্কোতে অনুষ্ঠিত হওয়া জনসভায় কোন বড় ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে নি।বার্তা সংস্থা রিয়া নোভাসতি জানায়,ভাল পোশাখ পরিধানকারী,ও  বিচক্ষনতা সম্পন্ন এমন কয়েক হাজার তরুনদের রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রয়েছে।রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন,ওইসব তরুনদের সরকার পরিবর্তন করা মূল উদ্দেশ্য নয় বরং তাদের ইচ্ছা হল,রাষ্ট্র যেন তাদের এইসব কথা শুনতে পায় এবং এ শক্তিকে কোনভাবেই অবহেলা করা ঠিক হবে না।একই সাথে সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের সাথে বৈঠকেও মিলিত হতে পারে।এছাড়া জনসভার বক্তব্য ছিল অনেক সহনীয় এবং রাশিয়ার অধিকাংশ এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশকে তেমন কঠোর ভূমিকা দেখা যায় নি।মস্কোর জনসভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এর মধ্যে প্রধানত হল-নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করা,নির্বাচন কমিশনার(সিইসি) পদ থেকে ভ্লাদিমীর চুরোভাকে অপসরন এবং পুনরায় খোলামেলা নির্বাচন আয়োজন করা।গতকালের জনসভা সম্পর্কে রাশিয়ার মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ভ্লাদিমীর লুকিন নিজের দেওয়া  মন্তব্যে বলেন,’এই জনসভা গনতন্ত্র,শৃঙ্খলা ও উন্মুক্ত সমাজের জন্য ভাল শিক্ষায় পরিনত হয়েছে’ ।