রাশিয়ার ৭৮টি শহরে শনিবারে “সত্ নির্বাচনের পক্ষে” জনসমাবেশ হয়েছে. এই মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা দাবী করেছেন লোকসভা নির্বাচনের ফল নাকচ করতে ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির চুরভের পদত্যাগ. আইন শৃঙ্খলা রক্ষা দপ্তরের মূল্যায়ণ অনুযায়ী রাস্তায় বেরিয়ে ছিলেন বহু সহস্র বিরোধী পক্ষ সমর্থক. সবচেয় বেশী মানুষের মিটিং হয়েছে মস্কো শহরের কেন্দ্রে. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী এই সমাবেশে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ২০ হাজার সক্রিয় কর্মী. যদিও বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরা বিশ্বাস করেন যে, এই চত্বরে ছিলেন ৬০ হাজারেরও বেশী মানুষ.

       ঘটনাস্থল থেকে “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক পলিনা চেরনিত্সা খবর দিয়েছেন যে, মঞ্চে উঠেছিলেন তথাকথিত বিরোধী সংগঠনের পক্ষের প্রতিনিধিরা ও অসংগঠিত বিরোধী পক্ষের নেতারা. “জন মুক্তি দলের” সহ সভাপতি বরিস নেমত্সভ এই মিটিংয়ে ঘোষণা করেছেন যে, বহুল পরিমানে নির্বাচনের আইন সংক্রান্ত কারচুপি- কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের প্রধানের পদত্যাগের কারণ হতে পারে. লোকসভায় নির্বাচিত না হতে পারা দল “ইয়াবলকার” নেতা সের্গেই মিত্রোখিন সেই সমস্ত লোকের উপরে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে আহ্বান করেছেন, যারা তাঁর মতে, নির্বাচনে কারচুপি করার কাজে অংশ নিয়েছে. আর নথিভুক্ত না হওয়া “জন মুক্তি দলের” সহসভাপতি ভ্লাদিমির রিঝকোভ মস্কো শহরে একই ধরনের প্রতিবাদ মিটিং ও বিরোধ আগামী ২৪শে ডিসেম্বর করার জন্য আহ্বান করেছেন. মিটিং হয়েছে কয়েক ঘন্টা ও কোন রকমের বাড়তি উত্তেজনা ছাড়াই শেষ হয়েছে.

       রাশিয়ার নাগরিক সমাজ আরও বেশী জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বালোতনায়া স্কোয়ারে উপস্থিত থাকা রাশিয়ার সামাজিক সভার সদস্য আনাতোলি কুচেরেনা, তিনি বলেছেন:

       “কোন রকমের প্ররোচনা দেওয়া হয় নি. পুলিশ কর্মীরা নিজেরা উপযুক্ত মর্যাদা সম্পন্ন ভাবেই কাজ করেছেন. সেই সমস্ত নাগরিকেরা, যাঁরা এসেছেন ও কিছু বলতে ও শুনতে পারেন, তাঁরাও নিজেরা উপযুক্ত সম্মানের সঙ্গেই ব্যবহার করেছেন. অনেকেরই মুখে হাসি ছিল. আমার মনে হয়েছে যে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ. যেগেতু আধুনিক রাশিয়াতে আমরা এমনকি রাস্তাতে বেরিয়েও আগে একে অপরকে সম্মানকরতে বাধ্য. এখন সকলেরই সম্ভাবনা রয়েছে প্রশাসন সম্বন্ধে নিজে কি ভাবছেন, তা প্রকাশ করার, রাশিয়ার অবস্থা সম্বন্ধে বলার. আর আমার মনে হয়েছে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ”.

       রাজধানীতে নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য ৫০ হাজারেরও বেশী পুলিশ কর্মী উপস্থিত ছিলেন. রাজধানীর কেন্দ্রে “অ্যাম্বুলেন্সের” দল পাহারা দিয়েছে. কিন্তু চিকিত্সকদের খবর অনুযায়ী কেউই তাঁদের কাছে সহায়তার জন্য আসেন নি.

       সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনে জয়ী “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের একজন নেতা আন্দ্রেই ইসায়েভ যেমন ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর দল বিরোধী পক্ষের মিটিংয়ে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কিছুই রাখে না. “কোন সন্দেহ নেই যে, সেই সমস্ত মানুষেরা যাঁরা নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধিতা করছেন, তাঁরা তা করার অধিকার রাখেন. এই দৃষ্টিকোণ প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তা যেমন সংবাদ মাধ্যম, তেমনই সমাজ ও সরকার পক্ষ শুনবে”.