বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার যোগদানের জন্য আলোচনা পর্বে অংশগ্রহনকারীদের কাছে ১৬ সংখ্যাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

চুক্তি সাক্ষার করতে দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে মস্কোর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পাওয়া উচিত।ওই আলোচনায় রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান মাক্সিম মেদভেদকোভ বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার অংশ নেওয়ার ভবিষ্যত সুফল সম্পর্কে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে নিজের মতামত জানিয়েছেন।

বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার অংশ নেওয়ার কথাবর্তা শুরু হয় সেই ১৯৯৩ সালে।ওই সময় প্রথম দিকে আলোচনা পরবর্তিতে রাশিয়ার শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাঝে শ্বাষরুদ্ধ বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয় মূলত ৯০ দশকের শেষের দিকে।এমনটি বলছিলেন মাক্সিম মেদভেদকোভ।তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার অংশ নেওয়া নিয়ে আরও নতুন উদ্দমে আলোচনা শুরু হয় ২০০০ সালে এবং  ২০০৬ সালের মধ্যে আমরা বাজারে পণ্য সরবরাহ ও সেবা প্রদানের যাবতীয় বিষয়ে আলোচনা শেষ করি।ওই সময়ের আলোচনায় প্রধান যে সমস্যাটি আমাদের বানিজ্য সহযোগিরা অনেকবার আলোচনা করেছেন তা হল আমাদের কাছ থেকে অনেক বেশী দায়বদ্ধতা চেয়েছেন।এগুলো বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার সুনির্দিষ্ট শর্তাবালীর বাইরে ছিল।যা ছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ব বাজারে সমতা রাখা এবং এই শর্তটি ছিল আমাদের জন্য অগ্রহনযোগ্য’।

বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় যোগদানের জন্য আলোচনা পর্বে অন্তত ৬০টি দেশ অংশ নেয়।সংস্থার পুরো ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে শীর্ষ  অনুমোদনকরী কমিশন।মাক্সিম মেদভেদকোভ গত ৯ বছর ধরে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।মূলত এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।গত বছরটি আলোচনায় অংশগ্রহনকারীদের জন্য অনেক ইতিবাচক ছিল।রাশিয়া,কাজাকিস্তান,বেলারুশ ও কিরগিজস্তানকে নিয়ে যে একক অর্থনৈতিক এলাকা গঠন করা হয় তার কিছু প্রশ্নের সমাধান করতে হয়েছে।একই সাথে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন মটরগাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চয়তা দিতে হয়েছে’।

বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় অংশ নেওয়ার জন্য রাশিয়ার এখন আর কোন বাঁধা রইল না।প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে,আগামী ২০১২ সালের গ্রীষ্ম মৌসুমে চুড়ান্ত চুক্তিপত্র সাক্ষর করা হবে।বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার পূর্ণ সদস্য হওয়া নিয়ে যদিও বিশেষজ্ঞরা এখনও সংশয় প্রকাশ করছেন, তবে মাক্সিম মেদভেদকোভ  বলছেন,নেতিবাচক দিকের চেয়ে ইচিবাচক আভাস বেশী রয়েছে।তিনি বলেন, ‘অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে,এর মধ্যে প্রধান ২টি হচ্ছে-বিদেশি বাজারে আমাদের পণ্য সহজে প্রবেশের বাধাঁ দূর করা হবে।আমরা বিশ্ব বাজারে খুব দ্রুত নিজেদের স্থান আরও পাকাপোক্ত করতে পারবো।আমাদের অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য রপ্তানি করে থাকে।সব দেশেরই এটি পছন্দ হচ্ছে না।বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী ছাড়াও ওই সব দেশ বিভিন্ন ধরনের শর্তারোপ করছে।আমরা এখন এই সব শর্তাবলী কাটিয়ে ওঠার কাজ করছি।বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা এক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করবে।এটি আরও অনেক বেশী কর্মক্ষেত্র তৈরী করবে এবং আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়িতি আয়ের সহায়তা করবে।২য় যে ইতিবাচক দিকটি রয়েছে তা হল,বিশ্ব বানিজ্যের নিয়মাবলীর কার্যক্রমে নিজেদের অংশগ্রহন।আমাদের ব্যাবসায়িদের স্বার্থে  বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার সহকর্মীদের সাথে  আমরা একত্রে  কাজ করব’।

সত্যিকার ওই সংখ্যা আলোচনায় অংশগ্রহনকারীদেরকে আরও আশাবাদী করে তুলেছে।তবে বিশ্ব বাংক ও বিভিন্ন এনজিওর সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার সদস্যপদ পেতে প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।