পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী (এই সপ্তাহের শুরুতে তাঁর মস্তিষ্কে হাল্কা রক্তক্ষরণ জনিত অসুখ হয়েছে) চিকিত্সার কারণে দুবাই গিয়েছেন ও তা নিয়ে পাকিস্তানে ও দেশের বাইরে অনুমান শুরু হয়েছে আসলে কি হয়েছে, কেউ মনে করেছেন দেশে কোন রাষ্ট্র বিপ্লব হয়ে যায় নি তো?

    ব্যাপারটা এতদূর গড়িয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনকে এই বিষয়ে মুখ খুলতে হয়েছে, তিনি বলেছেন যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির অসুখের চারপাশ ঘিরে কোন রকমের স্পেকুলেশন করার দরকার নেই, তিনি আশা করেন যে, রাষ্ট্রপতি শীঘ্রই ভাল হয়ে উঠবেন ও নিজের কাজে যোগ দেবেন. তবুও রাশিয়ার জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের বরিস ভলখোনস্কি ভেবেছেন যে, এই বিষয় নিয়ে তাঁরও কিছু বক্তব্য রয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "পাকিস্তানের সমস্যা অনেক, বিগত সময়ে যতদিন জারদারী এই পদে বহাল রয়েছেন, ততদিনে তিনি কোনটারই সমাধান করে উঠতে পারেন নি, দেশের মানুষ বিরক্ত ও তাঁর অসুস্থ হওয়াটাকে তাই সেখানে দেখা হচ্ছে ক্ষমতা বদল হিসাবেই. তার ওপরে মাত্র কয়েকদিন আগেই মেমোগেট বা আমেরিকার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নিরাপত্তার আবেদন করা নিয়ে স্ক্যাণ্ডাল মাথার রক্তচাপ বাড়ানোর কারণ হতেই পারে.

0পাকিস্তানের ক্ষমতা বদলের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন যে, তা আদতে ২০১৩ সাল অবধি হওয়ার কোনও কারণ নেই. কারণ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বর্তমান নেতৃত্ব, ইচ্ছা থাকলেও দেশের ক্ষমতা বাধ্য না হলে নিতে চাইবে না, কারণ সমস্যা এত বেশী যে, সমাধান প্রায় অসম্ভব, মাঝের থেকে শাসন ভার হাতে নিয়ে দল, প্রজাতি, ধর্ম ইত্যাদির উপরে ন্যায়ের প্রতীক হওয়ার মতো যে মোহ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর রয়েছে, তা অবিলম্বেই ঘুচে যেতে পারে. তার ওপরে জেনেরাল আশফাক কিয়ানি খুব ভাল করেই মনে করে দেখতে পাচ্ছেন তাঁর পূর্বসুরিদের ভাগ্য. জেনেরাল জিয়া উল হক আজও অজানা এমন এক কারণে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন আর জেনেরাল পারভেজ মুশারফ বর্তমানে পরবাসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন. যদিও ৬৭ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে দুর্ভাগ্য ক্রমে পাকিস্তানে প্রায় অর্ধেক সময়েই সামরিক প্রশাসনে থাকা ছাড়া পথ ছিল না, তবুও বর্তমানের পাকিস্তানে বুঝতে পারা গিয়েছে যে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কোথাও যায় নি, আর তারা এখনও পাকিস্তানকে মনে করে নিজেদের পোষা দেশ বলেই. ইচ্ছামতো সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে দেশের শাসন ব্যবস্থা আর পাল্টানো যাচ্ছে না, তার কারণ ইচ্ছা নেই বলে নয়, স্রেফ শাসন করার মতো আর কোন অবস্থাই নেই বলে. বোধহয় দরিদ্র পাকিস্তান আজ এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপ্রয়োজনীয় হয়ে গিয়েছে. আফগানিস্তান যে ইরানের ও নিকট প্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ার তেল ও গ্যাসের বেশী কাছে. ভারত পাকিস্তানের মতো আমদানী কারক দেশ সম্পত্তির কারণে মার্কিন দের আর দরকার নেই. জারদারী সুস্থ হয়ে উঠলে ভাল, না হলেও আপাততঃ বোধহয় বড় ক্ষমতার হাত বদল ঘটতে যাচ্ছে না".