রাশিয়ার নির্বাচনের তথাকথিত স্বাধীন পর্যবেক্ষকেরা "ভয়েস" বা "কন্ঠস্বর" নামক সংস্থার লোক, আর তাদের দেখা গেল মাইনে দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংস্থার কর্ণধারগণ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের জন্য মার্কিন সংস্থা ইউ এস এইড এর লোকেদের মধ্যে পত্রালাপ, এই সম্বন্ধে আলোকপাত করেছে. পত্রালাপ দেখে মনে হয়েছে যে, আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে নিয়মিত সোজা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ও আমেরিকা থেকে পাওয়া প্রতিটি কোপেক, অথবা প্রতিটি সেন্টের জন্য ভয়েস সংস্থাকে কাজের বিবরণ দিতে হয়েছে.

    ইন্টারনেট সংবাদপত্র লাইফ নিউস সংস্থার সাংবাদিকদের কাছে প্রায় ৬০ মেগা বাইট তথ্য রয়েছে. এই সব তথ্যের মাঝে খুবই ইন্টারেস্টিং সব দলিল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা থেকে টের পাওয়া গিয়েছে, কি করে তারা তথাকথিত স্বাধীন "ভয়েস" সংস্থার উপরে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে. যেমন, দেখা যেতে পারে "ভয়েস" সংস্থার কাজ নিয়ে সমালোচনা, যা এসেছে ইউ এস এইড সংস্থা থেকে, আর তার সঙ্গেই অর্থ যোগান নিয়ে কাজ কর্মের বিশদ বর্ণনা, যা এই সংস্থার পক্ষ থেকে করা হয়েছে. "ভয়েস" সংস্থায় প্রতিটি শব্দের আলাদা করে দাম জানা আছে. এটা দেখা যাচ্ছে এই সংস্থার এক সক্রিয় কর্মী আন্দ্রেই সুভোরভের চিঠি থেকে. "আরও একবার আমাদের বর্তমানের কাজের শর্ত যাচাই করে নিতে চাই. সেই কাজ যেমন আগেই আমরা ঠিক করেছি, হবে কাজ সাপেক্ষ. কত পরিমান অর্থ দেওয়া হবে একটি সম্পূর্ণ রকমের ভোট কারচুপির বিপক্ষে জানানীর জন্য খবর দেওয়া হলে"? – চিঠিতে এই কথাই লেখা হয়েছে.

    ভয়েস সংস্থা অবশ্য লুকোনোর চেষ্টা করেনি যে, তারা বাইরে থেকে অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকে. কিন্তু প্রশ্ন হল, এটাকে কি করে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, এই প্রসঙ্গে "স্ট্র্যাটেজি – ২০২০" তহবিলের প্রধান ও জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজোভ বলেছেন:

    "নিরপেক্ষ মতাদর্শ, অগ্রিম ধারণা মুক্ততা, স্বাধীন ভাবে নির্বাচনের সময় নজরদারি করার সঙ্গে এই বাইরে থেকে বিনিয়োগ বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত, তা প্রশ্নের বিষয়. সব মিলিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক চরিত্রের ও তা নির্ভর করে আমরা কিভাবে সেই সমস্ত আমেরিকার সংস্থার উদ্দেশ্য বুঝবার চেষ্টা করব, যারা এই ধরনের প্রকল্পের জন্য অর্থ যোগান দিয়ে থাকে, তার উপরে. আমার কাছে এই ধরনের সংস্থার কাজ কারবার মনে হয় অগ্রিম উদ্দেশ্য প্রণোদিত আর তা একেবারেই সত্ প্রতিযোগিতার ধারণা নিয়ে তৈরী হয় নি, বরং করা হয়েছে বিভিন্ন দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানোর জন্য ব্যবস্থা রাখা জন্যই. আর গণতন্ত্র সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই ভাবে প্রায়ই নানা ধরনের মান গ্রহণ করে থাকে, তা যেমন মানবাধিকারের প্রশ্নেও হয়ে থাকে".

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন খোলাখুলি ভাবেই ঘোষণা করেছে যে, ৪ঠা ডিসেম্বরের লোকসভা নির্বাচনকে "স্বাধীন ও স্বচ্ছ" করার জন্য তারা ৯০ লক্ষ ডলারেরও বেশী রাশিয়ার বেসরকারি সংস্থা গুলিকে দিয়েছে. পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি মার্ক টোনের উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের অর্থ দেওয়া হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের বিশেষ প্রকল্প অনুযায়ী. সুতরাং, দেখাই যাচ্ছে যে, "ভয়েস" তথাকথিত "পশ্চিমের সহকর্মীদের" জন্য রাশিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর জন্য "প্রবেশ বিন্দু" হয়ে দাঁড়িয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপ সভাপতি সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

    "এটা আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা, তার মধ্যে নির্বাচনের কোন না কোন ফলকে ব্যবহার করে. সকলেরই যথেষ্ট জানা আছে যে, অনেকেই পশ্চিমে খুবই অসন্তুষ্ট পুতিনের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রার্থী পদে দাঁড়ানো নিয়ে. তারা এমনকি এটা লুকিয়েও রাখছে না. তার ওপরে কিছু আমেরিকার রাজনীতিবিদ নিজেদের দিক থেকে এমনকি রাশিয়াকে আরও একটি বিপ্লবের ভয়ও দেখিয়েছে. তাই যারা "ভয়েস" সংস্থার মতো কাজ করছে, তারা না বুঝে পারে না যে, তারা কাদের হয়ে খেলছে. এমনকি যদি এর মধ্যে সরাসরি যোগ নাও থাকে, তাহলেও এটা না বোঝা সম্ভব নয়".

     মনে করিয়ে দিই, "ভয়েস" সংস্থা রাশিয়ার লোকসভা নির্বাচনের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট প্রকল্প তৈরী করেছে "আইন ভঙ্গের মানচিত্র" নামে. এই সংস্থার সক্রিয় কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের আইন ভঙ্গ নিয়ে খবর পাঠাতে বাধ্য ছিল. কিছু বিশেষজ্ঞ এদের কাজ কর্মকে ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া দলের উপরে আক্রমণ বলে খোলাখুলি ভাবেই বলেছেন. কিন্তু অসন্তুষ্ট দের মধ্যে "ন্যায় বাদী রাশিয়া" ও রুশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রতিনিধিরাও ছিলেন. ৩০শে নভেম্বর রাশিয়ার প্রধান অভিশংসক দপ্তরে সম্মিলিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছিল ভয়েস সংস্থার কাজ কর্ম পরীক্ষা করে দেখতে, কারণ লোকসভা সদস্যদের কাছে তথ্য ছিল যে, এই সংস্থা রাশিয়ার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে. রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির চুরভের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী "ভয়েস" সংস্থা ৪০ হাজার নকল সাংবাদিক পরিচয় পত্র তৈরী করেছিল, নিজেদের পর্যবেক্ষকদের জন্য.

    সাংবাদিকেরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, "ভয়েস" সংস্থার কর্মীদের তাদের "কর্মদাতা" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লোকেদের সঙ্গে চিঠি পত্রের বিষয় প্রকাশ চালিয়ে যাবেন.