বিখ্যাত রুশ চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা স্তানিস্লাভ গাভারুখিন রাষ্ট্রের সর্ব্বোচ্চ পদের জন্য প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ানো ভ্লাদিমির পুতিনের প্রাক্ নির্বাচনী দপ্তরের নেতৃত্ব করবেন. প্রসঙ্গতঃ এই দপ্তর তৈরী করা হবে "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের মধ্যেই, যে দলের হয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেত চলেছেন, আর তা আবার "সারা রাশিয়া জনতা ফ্রন্টের" ভিত্তিতেও বটে. এই ধরনের ঘোষণা করা হয়েছে মস্কো শহরে হওয়া "সারা রাশিয়া জাতীয় ফ্রন্টের" বৈঠকে, যা পরিচালনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই.

এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বত্ত্বেও, ভ্লাদিমির পুতিন "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের সরকারি ভাবে প্রস্তাবিত প্রার্থী হিসাবেই থেকে যাচ্ছেন ও তাঁর নির্বাচনের ব্যালট পেপারেও এই ভাবেই তাঁর সম্বন্ধে লেখা হবে. আর এর অর্থ হল, তাঁর সহকারীদের কুড়ি লক্ষ স্বাক্ষর যোগাড় করতে হবে না রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী মনোনীত হওয়ার জন্য. নির্বাচন সম্বন্ধে নিজের অবস্থান ভ্লাদিমির পুতিন এই ভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন যে, সারা রাশিয়া জনতা ফ্রন্ট পার্টির উপরের এক কাঠামো ও তা "বিভিন্ন ধরনের মানুষকে ঐক্য বদ্ধ করে".

    সারা রাশিয়া জনতা ফ্রন্টের সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের শুধু বিষয় নিয়েই আলোচনা হয় নি. সেখানে সেই পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা নির্বাচনের পরে দেশে হয়েছে: মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে বিরোধী পক্ষের কাজ কারবার. ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, জন সমাবেশ করা এটা সাংবিধানিক অধিকার, আবার একই সময়ে বিরোধীরা দেশের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারেন না, তিনি বলেছেন:

    "রাস্তায় গণতন্ত্রের যে সমস্ত কাজ কারবার করা হয়ে থাকে, তার প্রতি আমার সম্পর্ক এই ধরনের যদি লোকে আইন অনুযায়ী কাজ করে, তবে তাদের নিজেদের মত প্রকাশের ব্যবস্থা করে দিতে হবে ও আমরা কাউকেই এই নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাই না. যদি কেই আইন ভঙ্গ করে, তবে প্রশাসনের অঙ্গ ও শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আইন সঙ্গত ভাবে তা পালনের দাবী করতেই পারে সম্পূর্ণ ভাবে আইন মেনেই. আমরা সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক লোক, আর সকলেই বুঝতে পারি, যে এই সব কাজ কারবারের যারা আয়োজন করেছে, তারা আগে থেকেই জানা চিত্রনাট্য অনুযায়ী কাজ করছে, তাদের সামনে রয়েছে খুবই ক্ষুদ্র স্বার্থের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য... আমাদের দেশের জনগনের বেশীর বাগ অংশের সমর্থন পেয়ে আমরা বাধ্য তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে, যারা বিরোধী মনোভাব নিয়েছেন, তাদের বলার সুযোগ দিতে হবে, আর শৃঙ্খলা রক্ষা দপ্তর গুলি এই সব আয়োজন করে দিতে বাধ্য বর্তমানে কার্যকর আইন অনুযায়ী ও দেশের সংবিধান মেনেই".

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ একই সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, জন সমাবেশ গণতন্ত্রেরই প্রকাশ্য অংশ, কিন্তু তা হওয়া উচিত্ আইন মেনেই. "মানুষের যেন নিজেদের মনোভাব প্রকাশের উপায় থাকে, আর এটাই স্বাভাবিক" – প্রাগ শহরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারি সফরে গিয়ে বলেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সব কিছুই "ঠিক রূপে হওয়া উচিত্".

    কিন্তু কখনও রাস্তায় জন সমাবেশের সুর শুধু বিরোধী পক্ষের নেতারাই ঠিক করেন না, বরং পশ্চিমের বড় রাজনৈতিক নেতারা. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছিলেন কিছু আগে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির চুরভের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়ে, আর ভ্লাদিমির পুতিন সারা রাশিয়া জনতা ফ্রন্টের বৈঠকের সময়ে বলেছেন:

"আমি আমাদের আমেরিকার সহকর্মীদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখেছি. প্রথমতঃ, পররাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী ক্লিন্টন কি করলেন – তিনি নির্বাচন নিয়ে নিজের মূল্যায়ণ দিলেন. তিনি বলেছেন যে, তা সত্য নির্বাচন নয় ও ন্যায় সঙ্গত নয়. যদিও তিনি এখনও ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদের গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউট ও মানবাধিকার রক্ষা ব্যুরো থেকে রিপোর্টই পান নি. তিনি সঙ্কেত দিলেন আমাদের দেশের ভিতরের কিছু কেজো লোককে. তারা এই সঙ্কেত শুনতে পেয়েছে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তায় শুরু করেছে সক্রিয়ভাবে কাজ কারবার".

    ভ্লাদিমির পুতিন যেমন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, "দেশের ভেতরের রাজনীতিতে যখন দেশের বাইরে থেকে অর্থ ঢালা হয়ে থাকে, তখন তা নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন আছে. বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াতে বিদেশী অর্থ ঢালা চলতে দেওয়া যেতে পারে না".