রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের আরও একটি যুদ্ধ জাহাজ দল চলেছে আডেন উপসাগরে প্রহরায়. বিশাল যুদ্ধ জাহাজ প্রতিরোধক জাহাজ অ্যাডমিরাল ত্রিবুত্স, পেচেঙ্গা নামের ট্যাঙ্কার ও সামুদ্রিক ত্রাণের গাধা বোট এম বি – ৩৭, প্রস্তুতি নিয়েছে দূরের যাত্রায় যাওয়ার ও ১০ ই ডিসেম্বর ভ্লাদিভস্তক থেকে আফ্রিকার শৃঙ্গের দিকে যাওয়ার পথ নেবে.

    অ্যাডমিরাল ত্রিবুত্স জাহাজের নাবিকেরা এর মধ্যেই জলদস্যূদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রাখে. ২০০৯ সালের জুন মাসে তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের তৃতীয় দল ছিল, যারা ভারত মহাসাগরের এই অশান্ত অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রেখেছিল. তখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের নাবিকেরা নিজেদের ঘর বাড়ীর থেকে দূরে ছিলেন ১৪০ দিন. বর্তমানের প্রহরাও বেশ কয়েক মাসের জন্য হিসেব করেই করা হচ্ছে, এই কথা জানিয়েছেন এই নৌবহরের তথ্য প্রচার বিভাগের প্রধান, প্রথম সারির ক্যাপ্টেন রোমান মার্তভ. তিনি বলেছেন

    "এটা হিসাব অনুযায়ী সপ্তম দল, যাদের জলদস্যূ মোকাবিলার জন্য পাঠানো হচ্ছে. এই পাহারার কাজে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের নাবিকেরা নিজেদেরই বহরের নাবিকদের বদলী হবেন, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে বড় জাহাজ বিধ্বংসী যুদ্ধ জাহাজ অ্যাডমিরাল পানতেলেয়েভ, যা এখন নিরাপত্তা করিডর দিয়ে অসামরিক জাহাজ দল পার করে দিচ্ছে".

    বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের নজর দারী চালানো হচ্ছে সেই সমস্ত এলাকায়, যেখান দিয়ে রাশিয়া, লাইবেরিয়া, হং কং, নরওয়ে, ভারত ও ইতালির জাহাজ যাওয়া আসা করছে. এই সময়ের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের আডেন মহাসাগরে আন্তর্জাতিক অপারেশনে পার করে দেওয়া বিদেশী জাহাজের সংখ্যা ২৬ টি দেশের ১২০টিরও বেশী. তার একটিও জলদস্যূদের হাতে পড়ে নি.

    আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলের নিরাপত্তা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক অপারেশন করা হচ্ছে ২০০৮ সাল থেকে. মনে করা হয়েছে যে, সামরিক বাহিনীর লোকেদের পক্ষে শতকরা ৯৫ শতাংশ জলদস্যূ আক্রমণ আটকানো সম্ভব হয়েছে. তার মধ্যে যদি ২০১০ সালে ডাকাতদের জন্য চারটের মধ্যে একটা আক্রমণে লাভ হয়েছিল, তবে এই বছরে প্রতি চোদ্দটি আক্রমণের একটা সফল. কিন্তু জলদস্যূদের লোভ বাড়ছে. এই বছরের শুরু থেকে সোমালির জলদস্যূরা জাহাজ, মাল ও নাবিকদের মুক্তিপণ হিসাবে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার আদায় করেছে. গত ২০১০ সালে তাদের লাভ হয়েছিল প্রায় ৮০ লক্ষ ডলারের মতো.

    আজ সোমালির উপকূলে জলদস্যূ মোকাবিলা বিশ্বের আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কেন্দ্রীয় বিষয়ের একটি হয়ে রয়েছে.