সামরিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্টিভেন স্মিথ ও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রধান এ. কে. অ্যান্টনি আলোচনা করবেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

     স্টিভেন স্মিথ ভারতে সফর করার আগে সরকারি ভাবে ক্যানবেরা তাদের উদ্যোগ ঘোষণা করেছে যে, তারা ভারত অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি করতে চায়. জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে থাকা নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তির মতো, যা চিনকে আটকে রাখার লক্ষ্য নিয়ে তৈরী করা হয়েছে. এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে গত মাসের শেষে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী কেভিন রুড বক্তৃতা দিয়েছিলেন. সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাত্কারের সময় তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারতকে "দড়ি বেঁধে চেষ্টা করা হচ্ছে এই ধরনের জোটে টেনে আনার".

    কেভিন রুডের ঘোষণা দিল্লী শহরে খুবই বেদনা দায়ক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে. ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি এই ধরনের সামরিক চুক্তির সম্ভাবনা ও তার মধ্যে ভারতকে ঢোকানোর চেষ্টাকে খুবই জোর দিয়ে অস্বীকার করেছেন. দিল্লী চায় না তাদের মহান প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করতে. বেইজিং নিজেদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরা কে সাবধান করে দিয়েছে যে, এই ধরনের সামরিক চুক্তি নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে, তা পারস্পরিক বিশ্বাস ভঙ্গ করবে ও ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের বিরোধকে চাগিয়ে তুলবে.

    অস্ট্রেলিয়ার দরকার পড়েছে, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও মার্কিন সামরিক চুক্তি সংক্রান্ত নিজেদের প্রস্তাবকে আপাততঃ বন্ধ রাখার. তার মানে অবশ্য এই নয় যে, ক্যানবেরা বা ওয়াশিংটনে এই ধারণা ভুলে যাওয়া হবে. কারণ তা আজ এক বছর ধরে মোটেও শুধু করা হচ্ছে না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত, জাপান অস্ট্রেলিয়া নিয়ে সামরিক জোট তৈরীর একই ধারণা, বেশ কয়েক বছর আগেই প্রকাশ করেছিল, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ আলেক্সেই ফেনেঙ্কো বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি সব সময়েই করা হয়েছে সম্ভাব্য বিপক্ষ নির্ণয় দিয়ে, অর্থাত্ কোন রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোট ক্ষমতা নিয়ে বিপদের কারণ হতে পারে. এর থেকেই চিনকে বেঁধে রাখার নীতি উদয় হয়েছে. যা ক্লিন্টন প্রশাসনের সময়েই বলা হয়েছিল আর এখান থেকেই শুরু হয়েছে চিনের বিপরীতে ভার খোঁজার. প্রথমে আমেরিকার লোকেরা চেষ্টা করেছিল এই ভূমিকায় অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দিতে. কিন্তু যখন পরিস্কার করে বোঝা গেল যে, অস্ট্রেলিয়া একা পেরে উঠবে না, তখন ২০০৫ সালে ভারতের উদ্দেশ্য সহযোগিতা প্রসারের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাকে চিনের বিপরীত ভার হিসাবেও দেখা হয়েছিল. ২০০৮ সালে তারা ভারতের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, ভারতকে বিপুল পরিমানে সামরিক সরবরাহ করা শুরু হয়েছিল.

    আমি বলতে চাই না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চিনের বিরুদ্ধে বিষিয়ে তুলবে, তবে তারা ক্রমাগত তাদের মধ্যে বিরোধ বাধিয়ে যাবে, যাতে এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব রাখা যেতে পারে. এই ক্ষেত্রেই তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা নীতির মূল লুকিয়ে রয়েছে. চিন ও ভারতের সম্ভাবনা যাচাই করে দেখে আমেরিকার লোকেরা মনে করেছে যে, তাদের জন্য চিন বেশী বিপজ্জনক".

    চিনকে বেঁধে রাখার স্ট্র্যাটেজিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকেই যোগ করতে চাইছে না. সমান্তরাল ভাবে কাজ করছে চিনের অন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গেও. খুবই আগ্রহের বিষয় হয়েছে এক সময়ের প্রবল শত্রু হ্যানয়ের সঙ্গে দ্রুত সহযোগিতা ও সামরিক প্রযুক্তি সহায়তার চুক্তি করা দেখে. আরও বেশী দেখার মতো হয়েছে মায়ানমারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা দেখে, যাদের কয়েক বছর আগেই তারা মনে করেছে গুণ্ডার দেশ বলে. ভারত একদিকে চিনের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি দেখে স্নায়ু বৈকল্য রোগে ভুগছে, অন্য দিকে – চেষ্টা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব বেশী ঘনিষ্ঠ হওয়া থেকে দূরে থাকতে, যাতে সরাসরি ভাবে চিনের বিরুদ্ধে এক সামনের সারিতে পরিনত না হতে হয়. এই পটভূমিতে নয়া দিল্লী শহরে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সফর তাঁর ভারতীয় সহকর্মীদের বুঝতে সাহায্য করবে যে, অস্ট্রেলিয়ার নতুন এশিয়া এলাকায় সামরিক জোট সংক্রান্ত চুক্তির নেপথ্যে উদ্দেশ্য কি?