বিশ্বের বহু দেশ থেকেই পাকিস্তান জরুরী আলোচনার জন্য নিজেদের রাষ্ট্রদূতদের ইসলামাবাদে ডেকে পাঠিয়েছে. তাঁদের কাছে দেশের নতুন পররাষ্ট্র নীতি সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হবে, যা কিছু দিন আগে ন্যাটো জোটের আকাশ পথে পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে হানা দেওয়ার ফলে ২৪ (২৫) জন সীমীন্ত রক্ষী জওয়ানের মৃত্যুর পরে দেশের পরিস্থিতি লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে. এই বিষয়ে খবর দিয়েছেন দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হেনা রব্বানি খারের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে সের্গেই লাভরভ পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর ক্ষতিতে নিজেদের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানিয়েছেন ও একই সঙ্গে কোন দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন, এমনকি তা যদি সন্ত্রাস বিরোধী কাজকর্মের পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ঘটতে দেওয়া যায় না বলেছেন.

পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকীতে গুলি বর্ষণের ফলে ২৫ জন জওয়ানের প্রাণ নাশ হওয়ার পরে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য যদি ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক ছেদ হয়েছে বলে নাও হয়ে থাকে, তবে তা যে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এই বিষয়ে দ্বিমত হয় নি. কিন্তু এই শনিবারেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হওয়া শুরু হয় নি. বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী ওসামা বেন লাদেনের ধ্বংসের জন্য পাকিস্তানের অ্যাবত্তাবাদে গোপন আক্রমণ পাকিস্তানের সরকার দেখেছে দেশের সার্বভৌমত্বের উপরে আঘাত হিসাবে. আর দেশে মার্কিন অনুরাগী মনোভাবের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই বেশী করে দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজ্য সভার আন্তর্জাতিক নীতি পরিষদের উপ সভাপতি জিয়াদ সাবসাবি বলেছেন:

"এখানে লক্ষ্য করতে হবে যে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত পাঁচ বছরে খুবই পাল্টে গিয়েছে. আজকের দিনে পাকিস্তানের সামাজিক মনোভাব অনেক বেশী মারমুখী, বিশেষ করে পাকিস্তানের জমিতে ওসামা বেন লাদেনের হত্যার পর থেকে. আমি মনে করি যে, এখন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা সমস্ত কিছুই করবেন যাতে, এই ট্র্যাজেডি কূটনৈতিক যুদ্ধে পরিনত না হয়. আগামী বছরে তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ও তাঁর জোটের লোকেদের সঙ্গে বাড়তি সমস্যার কোনও দরকার নেই".

পাকিস্তান শনিবারের গুলি বর্ষণের পরে সম্পূর্ণ ভাব ট্রানজিট করে মাল পাঠানোর রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান দিয়ে আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের জন্য রসদ সরবরাহ করা হয়. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক উল্লেখ করেছেন যে, এটা কোন সাময়িক নয়, পাকাপাকি বন্দোবস্ত. আর পাকিস্তানের সেই সমস্ত কোম্পানী যারা জোটের জন্য আফগানিস্তানে জ্বালানী পাঠাতো, তারাও অদূর ভবিষ্যতে আর না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. তার ওপরে আমেরিকার সেনাবাহিনীকে দাবী করা হয়েছে ১৫ দিনের মধ্যেই বেলুচিস্থান প্রদেশের শামসি বিমান ঘাঁটি থেকে চলে যেতে. পাকিস্তানের এত দ্রুত ও প্রত্যুত্তর দেশের মানসিকতা বিচার করেই করা হয়েছে বলে মনে করে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ ও প্রবন্ধকার নাজির লেঘারি বলেছেন:

"পাকিস্তানের জন সাধারণের খুবই শক্ত বিশ্বাস তৈরী হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির আক্রমণ পাকিস্তানেরই সেনাবাহিনীর উপরে করা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত ব্যাপার. পাকিস্তানের জনতা বিশ্বাস করে যে, এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার, পাকিস্তানের কোন একটা গ্যারান্টি পাওয়া দরকার যে, পাকিস্তানের সেনাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী লোকেরা শাস্তি পাবে. পাকিস্তানের লোকেরা প্রবল ভাবে ক্ষুব্ধ. তাঁরা দাবী করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ও ন্যাটো জোটের সঙ্গে সম্পর্ক আবার করে বিচার করার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ছিন্ন করার দরকার".

পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে, ন্যাটো জোটের তরফ থেকে কোন ক্ষমা প্রার্থনা মানা হবে না. পাকিস্তানের এই আকাশ পথে আঘাতের প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক ভাবে অন্য খেলোয়াড়দের এগিয়ে দিতে পারে. সেনা বাহিনীর রসদ যোগানের জন্য পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তান সবচেয়ে ছোট পথ. সেখান দিয়ে শতকরা ৭০ ভাগ রসদ পাঠানো হচ্ছিল. তা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে একটাই রাস্তা রয়ে গেল – রাশিয়া হয়ে মধ্য এশিয়া দিয়ে. এটাকে কোন বিকল্প বোধহয় বলাই সম্ভব নয়, কারণ তা যথেষ্ট দীর্ঘ পথ ও নানা ধরনের সামরিক ও অসামরিক মালের জন্য আলাদা করে দলিল তৈরীর প্রয়োজন. কিন্তু ন্যাটোর আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রাখার শক্তির পক্ষে আফগানিস্তানের জন্য একমাত্র এই পথই ব্যবহার করতে হবে, যতদিন না ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদ আবার আলাপ জমাতে পারে.