রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নিজের সমস্ত দলিল জমা করেছেন. দেশের নেতা নির্বাচন করার কথা ২০১২ সালের ৪ঠা মার্চ. বিশ্লেষকেরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এবারে ফলাফলে যেই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন না কেন তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়াটা সহজ কাজ হবে না.

    ৪ঠা ডিসেম্বর যে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে যে, জনগনের পক্ষ থেকে "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার" প্রতি সমর্থন কমেছে. কিন্তু এটা সেই দলের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার, যারা অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়ে প্রশাসনে ছিল, বলে মনে করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রচার সম্পাদক দিমিত্রি পেসকোভ. বাস্তবে ইউরোপের সমস্ত দলই সঙ্কটের সময়ে তাদের রেটিং এর শতকরা ৮০ ভাগ হারিয়েছে, আর একই সময়ে "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার" পক্ষে সম্ভব হয়েছে পার্লামেন্টে অধিকাংশ আসন দখলে রাখার. আর তার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোন কারণ নেই. তার ওপরে পেসকোভের মতে দলের জনপ্রিয়তা ও ভ্লাদিমির পুতিনের জনপ্রিয়তার মধ্যে কোন সম্বন্ধ নেই: বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীকে দেখা হয়ে থাকে এক স্বাধীন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে. একই সময়ে দেখাই যাচ্ছে যে, জনগন আশা করেছেন নবীকরণ, আশা করেছেন পুতিন কে অন্য এক দ্বিতীয় রূপে দেখতে, এই রকমই মনে করেছেন দিমিত্রি পেসকোভ.

    রাশিয়ার সমাজ আজ প্রশাসনের কাছ থেকে অসাধারণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, এই বিষয়ে পেসকোভের সঙ্গে সহমত হয়ে রাজনীতিবিদ আলেকজান্ডার শ্মেলিয়ভ বলেছেন:

    "ব্যাপার হল যে, সমাজের মনোভাব এখন পাল্টে যাচ্ছে, খুব সম্ভবতঃ, স্ট্যাটাস কো থেকে বার হয়ে যাওয়ার. আর সরকারের প্রয়োজন হবে এই বিপদের প্রতি যথেষ্ট ভাবে প্রতিক্রিয়া করার, সমাজকে কিছু একটা নতুন দেওয়ার চেষ্টা করার. রাশিয়ার আধুনিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রশ্নে, আমার যেমন মনে হয়েছে সরকারের পক্ষে বাকী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন করে কাঠামো গড়ে, নতুন কোন অসাধারণ কোন সিদ্ধান্ত প্রস্তাব করার মধ্যেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর রয়েছে".

    প্রথম বার ভ্লাদিমির পুতিন দেশের সর্ব্বোচ্চ পদ অধিকার করেছিলেন ২০০০ সালে – রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিন তাঁকে নিজের উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেছিলেন. ইয়েলতসিনের জমানার পরে তাঁর জুটেছিল এক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশ, মাফিয়া প্রাধান্য, অলিগার্খ রাজ, আভ্যন্তরীণ বিরোধ, বিচ্ছিন্নতাবাদের মাথা চাড়া, চিচনিয়া রাজ্যে গৃহযুদ্ধ, অপরাধের রাজত্ব, আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গনে মর্যাদা হারানো এক রাশিয়া. আর পুতিন প্রথম কাজের মধ্যে হাতে নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ ও ক্ষমতার উপর থেকে নীচে কাঠামো তৈরীর. প্রশাসনের ব্যবস্থাকে শক্ত করা ছাড়াও, ইতিবাচক ফলের ক্ষেত্রে পুতিনের দুটি দফার নেতৃত্বে থাকার রাজনীতিতে (২০০০– ২০০৮) রাশিয়াতে সামাজিক- রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল হওয়া ও অর্থনৈতিক ভাবে তা শক্ত হওয়ার কথাকে মনে করা হয়. তাছাড়া ভ্লাদিমির পুতিন ২০০৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পেয়েছিলেন শতকরা ৭১ ভাগ রুশ লোকের সমর্থন, যা রাশিয়ার আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে আর কেউ নেই.

    অবশ্যই নেতিবাচক মূল্যায়ণও রয়েছে. পশ্চিমে যেমন প্রমাণ করার বিষয়ে ক্ষান্তি নেই যে, রাশিয়াতে সামাজিক অধিকার ও স্বাধীনতা নেই, গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউট নেই. ভ্লাদিমির পুতিনের নিজের কথামতো, এই ধরনের ঘোষণা রাশিয়ার সেই সমস্ত শক্তিকে সহায়তা করার জন্যই করা হয়ে থাকে, যাদের কিছু পশ্চিমের রাজনীতিবিদ মনে করেন পশ্চিম পন্থী বলে. আর তাদের প্রধান লক্ষ্য হল, রাশিয়াকে বেশী করে সেই সমস্ত প্রশ্নে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা, যার সঙ্গে গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের প্রশ্নের কোন যোগ নেই, বরং রয়েছে নিরস্ত্রীকরণ ও রকেট বিরোধী ব্যবস্থার সঙ্গে.

    নতুন রাষ্ট্রপতি শাসনের কাল দেশের প্রধানের সামনে জটিল প্রশ্নগুলিকে উত্থাপন করবে. সমস্যা জমেছে অনেক, আর শুধু সেই গুলিকে "বাক্স বন্দী" করে রাখা যাবে না, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পাভেল স্ভিয়াতেনকোভ বলেছেন:

    "প্রধান কাজ হল – দেশের অর্থনৈতিক সংশোধন. পুতিন আপাততঃ দেশের অর্থনীতিকে কাঁচামাল রপ্তানীর উপরে নির্ভরতার সমস্যা থেকে কোন সমাধান করতে পারেন নি. আর কাঁচামালের উপরে হেলে থাকা রাশিয়াকে খুব একটা সফল দেশে পরিনত করতে পারছে না. দ্বিতীয়তঃ, দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই, যা এখন প্রত্যেকের মুখে মুখে ব্যঙ্গের মতো ফিরছে. তৃতীয়তঃ, সেনা বাহিনীতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়, পেনশন ব্যবস্থায় সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে. অন্য ভাবে বললে পুতিনের সামনে রয়েছে খুবই জটিল ও গুরুতর সব সমস্যা. আর তাঁর পক্ষে কোন ভাবেই পরিস্থিতিকে "বস্তা বন্দী' করে রাখলে, অথবা শুধু তেল ও গ্যাসের বেশী দামের উপরে নির্ভর করে থাকলে চলবে না".

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রচার সম্পাদক দিমিত্রি পেসকোভের কথামতো, ভ্লাদিমির পুতিনের আভ্যন্তরীণ উত্স রয়েছে, যাতে পরিস্থিতি ভাল করা যেতে পারে, আর রয়েছে বেশীর ভাগ রুশ লোকের তাঁর প্রতি সমর্থন.