রাশিয়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাকে, যার কাজে আফগানিস্তান ও তার সমস্ত প্রতিবেশী দেশ অংশ নিচ্ছে, তাকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় এক উপযুক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ বলে মনে করে. এই প্রসঙ্গে বন শহরের আফগানিস্তান সংক্রান্ত সম্মেলনে অংশ নিতে এসে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান সের্গেই লাভরভ. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    আফগানিস্তান বর্তমানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ নয়, কিন্তু কাবুলকে এই সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা দেওয়ার জন্য প্রাক্ প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে মস্কো মনে করেছে. বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে পরিস্থিতি অচল হওয়া, সামাজিক – অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় সাফল্যের অভাব, শেষমেষ আমেরিকার সেনা বাহিনীর এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা, এই দেশের নেতৃত্বকে প্রতিবেশী দেশ গুলির কাছে সহায়তা খোঁজার জন্য বাধ্য করেছে. এই বিষয়ে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ গুলিও আগ্রহী. সেই সমস্ত বিপদ গুলি, যা আফগানিস্তানের এলাকা থেকে উত্পন্ন হতে পারে, তার সঙ্গে একলা লড়াই করতে হওয়ার সম্ভাবনা তাদের সামনে বর্তমানে এক সাথে শক্তি প্রয়োগ করে আফগানিস্তানকে এমন এক দেশে রূপান্তর করার কাজ উপস্থিত করেছে, যে দেশ তার প্রতিবেশী দেশ গুলিকে আর কোন বিপদের সামনে ফেলবে না ও এই অঞ্চলকেও মুক্তি দেবে. এটা হতে পারে রাশিয়া ও তার মধ্য এশিয়ার প্রতিবেশী দেশের চারপাশ জুড়ে "শান্তির এলাকা" তৈরী করা. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করে রাশিয়ার এশিয়া সমস্যা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

    "সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এক ঐক্য তৈরীর সংস্থা, যা বাস্তবেই এশিয়ার সমস্ত বৃহত্তম দেশ যেমন রাশিয়া, চিন ও চারটি মধ্য এশিয়ার দেশের সংযোগে তৈরী হয়েছে, যারা এই সংস্থার সম্পূর্ণ সদস্য দেশ, ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান – পর্যবেক্ষক দেশ এবং সকলে মিলে নিজেদের উপরে এই ভার বা দায়িত্ব নিতেই পারে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি পরিবর্তনের সময়ে বিশেষ করে যখন অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ক্ষেত্রে চিন বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, আর রাশিয়া এশিয়ার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি দ্রুত বৃদ্ধি করছে, তখন খুবই বড় ভূমিকা নিতে পারে".

    আফগানিস্তান – সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সমস্ত বড় অনুষ্ঠানের স্থায়ী অংশীদার. আফগানিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকল্প করা হয়েছে. অংশতঃ বন শহরের সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ আহ্বান করেছেন আফগানিস্তানের এলাকা দিয়ে "CASA – 1000" বিদ্যুত পরিবহন ব্যবস্থা ও "তাপী" (তুর্কমেনিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতবর্ষ)  গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর কাজকে দ্রুত সমাধা করতে, যা এই অঞ্চলের বহু দেশকে তাদের জ্বালানী শক্তি সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে. "আগ্রহ দেখলে আমরা বহু লক্ষ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে রাজী আছি. আমরা স্বাগত জানাচ্ছি সেই সমস্ত আঞ্চলিক নয় অথচ এমন সমস্ত দেশকে, যারা আফগানিস্তানের অর্থনীতির উন্নতির জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে চায়, তার মধ্যে সেই সমস্ত অর্থ ও বিনিয়োগ ব্যবহার করে, যা আফগানিস্তান থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের ফলে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে", - ঘোষণা করেছেন সের্গেই লাভরভ.

    যে কোন রকমের ব্যাপারেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বাড়বেই. বড় অর্থনৈতিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নেতৃস্থানীয় দেশ গুলির অংশ গ্রহণে ও ভারতবর্ষের সহায়তায় "আফগানিস্তানের গ্রন্থি" উন্মোচনে সাহায্য করতে পারে.