রাশিয়া সিরিয়াতে আগে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে নি, কারণ এই দেশে অস্ত্র সরবরাহ করা নিয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই. এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা পরিষেবার ভাইস ডিরেক্টর ভিয়াচেস্লাভ ঝিরকাল্ন.

    এই নিকট প্রাচ্যের দেশটিতে যা ঘটছে, তা দেখে রাশিয়া ও সিরিয়ার ভবিষ্যতের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা খুবই সাবধানে কথা বলছেন. এরই মধ্যে সিরিয়া রাশিয়ার সামরিক অস্ত্রের এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় আমদানী কারক দেশ. সোভিয়েত দেশের পতনের পরে দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি সংযোগে কিছুটা ছেদ পড়েছিল, কিন্তু ১৯৯৬ সালে যোগাযোগ আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল, তখন দাম দেওয়ার ব্যাপারে সহজে বিনিময় যোগ্য বিদেশী মুদ্রা ব্যবহার সংক্রান্ত প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছিল. এই সময়ের পর থেকেই যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছিল, তা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ কনস্তানতিন মাকিয়েঙ্কো বলেছেন:

    "তারা খুব একটা সক্রিয় ছিল না, কারণ সিরিয়া আর্থিক ভাবে খুব একটা ধনী দেশ নয়. তা স্বত্ত্বেও প্রত্যেক বছরে সিরিয়া রাশিয়া থেকে একশ মিলিয়ন ডলার অর্থের অস্ত্র ব্যবস্থা কিনে যাচ্ছিল, আর তা প্রত্যেক বছরেই বাড়ছিল. বর্তমানে সিরিয়া বোধহয়, অস্ত্র কেনার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে পঞ্চম আমদানী কারক দেশ, যারা বছরে ৩, ৫ থেকে ৩, ৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনে থাকে. সবচেয়ে বড় সিরিয়ার বায়না সম্বন্ধে উল্লেখ করতে গেলে বলা উচিত্ ২৪টি মিগ "২৯ এম ২" যুদ্ধ বিমানের একটি বাহিনী কেনার কথা. কিন্তু তা এখনও সরবরাহ করা শুরু হয় নি, চুক্তি অনুযায়ী তা করার কথা ২০১২- ২০১৩ সালে. পশ্চিমের, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও ইজরায়েলের চাপে পড়ে না করা একটি চুক্তির কথাও তোলা যায়, তা হল "ইস্কান্দের" ধরনের রকেট সরবরাহ".

    আর যা বাস্তবে করা হয়ে গিয়েছে, তা হল প্রায় শেষ হয়ে আসা চুক্তি যুদ্ধ জাহাজ বিধ্বংসী কোস্ট গার্ড রকেট কমপ্লেক্স "ব্যাস্টিওন" – শব্দাতীত গতি সম্পন্ন রকেট ব্যবস্থা "ইয়াহন্ত" সমেত. প্রসঙ্গতঃ এই ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা চলতে পারে না, এই কথা উল্লেখ করে কনস্তানতিন মাকিয়েঙ্কো বলেছেন:

    "যা এই রকেট সম্বন্ধে বলা যেতে পারে, তা হল রকেট ব্যবস্থা সম্বন্ধে যে ভিত্তি মূলক বাধা রয়েছে, তাতে ৩০০ কিলোমিটারের বেশী দূর পাল্লার রকেট সরবরাহ করা বারণ."ব্যাস্টিওন" ব্যবস্থার পাল্লা ২৮০ কিলোমিটার, সুতরাং তা কোনও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে না".

    সিরিয়াতে এছাড়া পাঠানো হয়েছে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী রকেট "করনেট" ও "মেতিস". এর মধ্যেই শেষ করা বৃহত্তম চুক্তি গুলির মধ্যে রয়েছে – ৩৬টি যুদ্ধ বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা "পানশির এস". সিরিয়ার সমস্ত মিগ – ২৯ বিমান ও ট্যাঙ্ক টি – ৭২ এর আধুনিকীকরণ.

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ সিরিয়াতে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন ও আহ্বান করেছেন লিবিয়ার থেকে শিক্ষা নেওয়ার, যেখানে নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করা হয়েছিল শুধু তখনকার সরকারের নিয়মিত সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে. বিশেষজ্ঞদের মতে রাশিয়া ও সিরিয়ার পরবর্তী কালের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ভবিষ্যত নিয়ে কল্পনা করা কঠিন. তা স্বত্ত্বেও রাশিয়া নিজেদের দিক থেকে সমস্ত দায়িত্ব পালন করবে, যা যে কোন রকমের সন্দেহের উর্দ্ধে.