রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার নির্বাচন, যা রবিবারে সম্পন্ন হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মান ও রাশিয়ার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন মেনেই করা হয়েছে. এই ধরনের মূল্যায়ণ ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচন নিয়ে করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা. আইন অনুযায়ী ভুল ভ্রান্তি ও ভঙ্গ খানিক হয়েছে, তবে তা এমন নয় যে, নির্বাচনের ফলাফলের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে.

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা কয়েকটি উদাহরণের কথা কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদে উল্লেখ করেছেন, যেমন ভ্লাদিভস্তকে একটি কেন্দ্রে ভোটের ব্যালট বাক্সের ঘরের আয়তন এতই ছোট ছিল যে, ব্যালট টি বাক্সে ফেলার সময়ে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও দেখতে পাওয়া গিয়েছিল, কাকে ভোট দিয়েছেন ভোটার. সাইবেরিয়ার ওমস্ক শহরে এক কেন্দ্রে দেওয়ালে ঝুলেছিল রাজনৈতিক দলের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, যদিও তা শনিবারেই খুলে নেওয়ার কথা ছিল. এই ধরনের আইন ভঙ্গ খুব একটা গুরুতর নয়, যাতে ভোটের ফলই পাল্টে যেতে পারে, বলে মন্তব্য করেছেন পর্যবেক্ষকেরা. এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা নিজেদের কাজ কিন্তু করেছেন খুবই মনোযোগ দিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে লাতভিয়ার বেসরকারি সংস্থা "রাজনৈতিক উদ্যোগের" সভাপতি সের্গেই ব্লাগোভেশ্যেনস্কি বলেছেন:

    "আমি পর্যবেক্ষক হিসাবে হাজির ছিলাম ইয়ারোস্লাভল শহর ও ইয়ারোস্লাভল এলাকায়. আমার জন্য আগ্রহের বিষয় ছিল, ভোটার কোন রকমের চাপ বা প্রভাব ছাড়া নিজে থেকে নির্বাচন করতে পারে কি না আর নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারে কি না. আমি মনে করি যে, নির্বাচন হয়েছে যথেষ্ট গণতান্ত্রিক ভাবেই. এর একদিন আগে আমরা রাজনৈতিক দল গুলির প্রাক্ নির্বাচনী দপ্তর গুলিতে গিয়েছিলাম, সেখানে প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথাও বলেছি. আমরা নিজেদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় তাদের জানিয়ে ছিলাম, যাতে কোন রকমের আইন ভঙ্গ হতে দেখলেই, তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন. কোন একটিও আইন ভঙ্গের বিষয় লক্ষ্য করা যায় নি, কেউ আমাদের ফোনও করে নি".

    "গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউট ও মানবাধিকার রক্ষা ব্যুরো" ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি দপ্তর ও তারা ঐতিহ্য মেনেই রাশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করে থাকে, তাই এবারেও তারা সমালোচনা করেছে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে. তাদের মতে, কিছু দলকে নথিভুক্ত হতে না দেওয়াতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, তারাও উল্লেখ করেছে ইতিবাচক দিক গুলি নিয়ে – টেলিভিশনে বিতর্ক, যেখানে সমস্ত অংশগ্রহণকারীরাই সমান পরিস্থিতির মধ্যে বিতর্কে যোগ দিতে পেরেছেন. আর ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে তা হল যে, এখানে ইউরোপের লোকেদের কোন কিছুতেই খুঁত ধরার মতো কিছু ছিল না. এই ব্যুরোর প্রতিনিধি হাইডি তালিয়াভিনি নির্বাচনের উন্নত আয়োজন সম্বন্ধে বলেছেন:

    "প্রথমতঃ, উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে যে, নির্বাচনের প্রস্তুতি ভাল ছিল, সমস্ত আয়োজনের বিষয় গুলি আগে থেকেই লক্ষ্য রাখা হয়েছিল. এটা খুব একটা সোজা কাজ নয়, যদি রাশিয়ার আয়তনের কথা মাথায় রাখা যায়. কিন্তু নির্বাচন – এটা এক দিনের ঘটনাই নয়. এটা প্রক্রিয়া, যাতে সরকার, বিভিন্ন সংস্থা, ভোটার সকলেই জড়িত. নির্বাচন নিয়ে মাত্র এক দিনের বিচার করলেই ঠিক হবে না ও তা সম্বন্ধে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না".

    ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যুরো তাদের সম্পূর্ণ রিপোর্ট পেশ করবে ছয় সপ্তাহ পরে, কিন্তু এখনই বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা বলছেন যে, নির্বাচনের সময়ে বড় মাপের কারচুপি কিছু হয় নি. জার্মানীর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর, রাজনীতিবিদ এবেরহার্ড শ্নাইড্যের যেমন ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ফলাফল নিয়ে কারচুপি করা সম্ভব নয়, তাই যোগ করেছেন:

    "আমি প্রায়ই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হয়ে যাই. আমি জানি, কি করে এটা করা হয়. নির্বাচনের দিনেই কারচুপি করা কঠিন. কারণ যখন ভোট গণনা করা হয়, তখন সমস্ত পর্যবেক্ষকেরাই চারপাশ ঘেরে দাঁড়িয়ে থাকে. তারা গণনা শেষের ফলের প্রোটোকলের কপি পেয়ে থাকেন. আর যদি আপনাদের বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক বিভিন্ন কেন্দ্রে থাকে, তবে আপনি নানা প্রোটোকল পেতে পারেন ও নিজেই হিসাব মিলিয়ে দেখতে পারেন".

    কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" পেয়েছে প্রায় পঞ্চাশ ভাগ ভোট. তাদের লোকসভার সাড়ে চারশো আসনের মধ্যে প্রাপ্য হবে ২৩৮. দ্বিতীয় স্থানে রুশ কমিউনিস্ট পার্টি – কুড়ি শতাংশের সামান্য কম – এটা ৯২টি আসন. ১৩ শতাংশের বেশী পেয়েছে "ন্যায় বাদী রাশিয়া". এই দল পেতে পারে লোকসভায় ৬৪টি আসন. রুশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের – ৫৬ টি আসন. আর তিনটি দল – "ইয়াবলকা", "উচিত কাজের দল" ও "রাশিয়ার দেশপ্রেমী" দল শতকরা সাত শতাংশের বাধা পার হতে পারে নি.

    কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবে ১৯শে ডিসেম্বর. আর এই বছরের শেষের মধ্যেই রাশিয়ার লোকসভার নতুন সদস্য সভা তৈরী হয়ে যাবে.