দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বড় ঘটনা গুলির মধ্যে বিরাট এক যুদ্ধ হয়েছিল মস্কো শহরের উপকণ্ঠে, এই ঘটনার ৭০তম বর্ষপূর্তি, যা আলাদা জায়গা নিয়ে রয়েছে, তা আজ (৫ই ডিসেম্বর)পালিত হচ্ছে. হিটলারের সেনা বাহিনী বহু ইউরোপের দেশের মধ্য দিয়ে লঘু পায়ে মস্কোর উপকণ্ঠ অবধি পৌঁছে প্রথম বড় হারের সম্মুখীণ হয়েছিল. জার্মান যুদ্ধ যন্ত্রের অপরাজেয় নামের মহিমা সারা বিশ্বের সামনেই ঘুচিয়ে দেওয়া হয়েছিল.

    বলা যেতে পারে যে, মস্কো উপকণ্ঠের যুদ্ধ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিক পরিবর্তনের শুরু, এই কথা উল্লেখ করে ইতিহাসে ডক্টরেট মিখাইল মিয়াগকোভ বলেছেন:

    "জার্মানীর সেনাবাহিনীর উপরে এমন এক ক্ষতি করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল, যা তারা এর আগে আর কোনও যুদ্ধে জানতেই পারে নি, তা সে পশ্চিম ইউরোপেই হোক অথবা পূর্বের দিকের ফ্রন্টে. তাছাড়া মস্কো যুদ্ধের হারের পরে এক সারি জার্মান জেনেরাল ঘোষণা করেছিলেন যে, সোভিয়েত দেশের সামরিক পরাজয় অসম্ভব, তাই একমাত্র পথ হল রাজনৈতিক ভাবে সমস্যার সমাধান. হিটলার বহু জেনেরালকে পদচ্যুত করেছিলেন. তার খুবই রাগ হয়েছিল – বিরক্তি হয়েছিল, তার জন্য জয়ের সারিতে ছেদ পড়েছিল. তার সেনাবাহিনী মস্কোয় ঢোকার মুখেই থামতে বাধ্য হয়েছিল, আর তারপরে তাদের মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল".

    ৫- ৬ ডিসেম্বর উল্টো লড়াইতে সোভিয়েত সেনা বাহিনী তখনকার জেনেরাল গিওর্গি ঝুকভের নেতৃত্বে ১১ হাজার জনপদ শত্রু মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল. জার্মানীর সেনা বাহিনী প্রায় পাঁচ লক্ষ সেনা হারিয়েছিল, ১৩০০ ট্যাঙ্ক, ২৫০০ কামান, ১৫০০০ বেশী সাঁজোয়া গাড়ী ও আরও বহু অস্ত্র প্রযুক্তি ক্ষয় করতে বাধ্য হয়েছিল. হিটলারের সেনা ট্রাইব্যুনাল বিচার করেছিল প্রায় ৬২ হাজার সেনা ও অফিসারের আচরণ, যারা লড়াই ফেলে পালিয়েছিল. সৈন্য বাহিনীর পদ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল ৩৫ জন উচ্চ পদস্থ নেতা.

মস্কো উপকণ্ঠের বরফ ঢাকা মাঠ ছিল জার্মান যুদ্ধ উপকরণের এক বিশাল কবরখানা. এর দৃশ্য এতটাই অভিভূত করেছিল যে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এটা সিনেমায় তুলে রাখা হবে, মিখাইল মিয়াগকোভ বলেছেন:

"৪২ সালে একটা সিনেমা হয়েছিল মস্কো উপকণ্ঠে জার্মান সেনাবাহিনীর ধ্বংস নামে. প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে যে, পরে তা কিছুটা অন্য রকম করে ইংরাজী ভাষায় ধ্বনি সহযোগে দেখানো হয়েছিল ও আমেরিকাতে ১৯৪২ সালের সেরা তথ্য চিত্র হিসাবে তা অস্কার পুরস্কার পেয়েছিল".

মস্কো শহরে ৭০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে উত্সব হচ্ছে বড় আকারেই. ভেটেরানদের সঙ্গে সাক্ষাত্কার, কনসার্ট, প্রদর্শনী সবই করা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে মস্কো মেয়র অফিসের প্রতিনিধি পাভেল বলশুনোভ বলেছেন:

"প্রায় ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ৫ থেকে ১৫ই ডিসেম্বর এক ভাল কাজের দিন গুলি নামে বিষয় করছে –তারা যুদ্ধের ভেটেরানদের সঙ্গে দেখা করছে, সৈনিক কবর গুলিতে সাফাই ও সাজানোর কাজ করছে, তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মস্কোর লড়াইয়ের যোদ্ধাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাবে".

মস্কো উপকণ্ঠে ক্র্যুকভো নামের ঐতিহ্যময় গ্রামের অল্প দূরে, যেখানে ৭০ বছর আগে খুবই কঠিন যুদ্ধ হয়েছিল, সেখানে প্রাচীন রুশ ঐতিহ্য মেনে ঠিক করা হয়েছে এক অর্থোডক্স স্মরণ গির্জা তৈরী করা হবে. এই গির্জার দেওয়াল ও চূড়া তৈরীর সময়ে প্রতিটি ইঁটের মধ্যে মৃত সৈন্যদের নাম করে আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা লিখে মেডেলে ভরে দেওয়া হবে.

যুদ্ধ শেষের বহু বছর বাদে মার্শাল ঝুকভ লিখেছিলেন: "যখন আমাকে প্রশ্ন করে আমি যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কি আলাদা করে দেখি, আমি উত্তর দিয়ে থাকি মস্কোর যুদ্ধ. সমস্ত যুদ্ধের পরে, যারা মস্কো শহরের যুদ্ধের জন্য প্রাণ দিয়েছেন অথচ পিছু হঠেন নি, যারা সেই যুদ্ধ জয়ের পরেও বেঁচে রয়েছেন, আমাদের দেশের রাজধানীতে, বীর শহর মস্কো তে শত্রুর পদ চিহ্ন পড়তে দেন নি, তাঁদের সকলের সামনেই আমি মাথা নত করি. আমরা সকলেই এঁদের সামনে চির ঋণী".