৮৮টি দেশের ও ১৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বন শহরে আফগানিস্তানের প্রধান সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা শুরু করছেন: তাতে রয়েছে আন্তর্জাতিক সৈন্য বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্ন স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া ও ন্যাটো জোটের ২০১৪ সালে সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরে দেশের উন্নয়নের প্রশ্ন. রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ.

    আন্তর্জাতিক সম্মেলন "বন – ২" বহু প্রতীক্ষিত. কিন্তু সম্মেলনের শুরুর দিন যতই কাছে এগিয়ে এসেছে, ততই বেশী করে অবোধ্য ঠেকেছে প্রধান বিষয় থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই. প্রাথমিক ভাবে ধরে নেওয়া হয়েছিল যে, সম্মেলনে  সবচেয়ে বেশী মনোযোগ দেওয়া হবে জাতীয় শান্তি প্রস্তাব ও তালিবদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে. কিন্তু ফলশ্রুতি হয়েছে প্রাথমিক ভাবে আন্তর্জাতিক সমাজের আফগানিস্তানের ভবিষ্যত জীবনে অংশ নেওয়া নিয়েই. প্রশ্ন, অবশ্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ – কিন্তু শান্তির প্রয়াস বাদ দিয়ে তা নিয়ে আলোচনা, পাকিস্তান ও সেই সমস্ত তালিবদের বাদ দিয়ে কেমন যেন অদ্ভুত মনে হচ্ছে.

    আফগানিস্তান থেকে জোটের সেনা বাহিনী যে সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানা রয়েছে, কিন্তু বিদেশী সেনা উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধান হয় নি. প্রাথমিক ভাবে আমেরিকার সেনা বাহিনীর কথা হচ্ছে. বর্তমানে এই দেশে রয়েছে প্রায় এক লক্ষ আমেরিকার সেনা, এই কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আফগানিস্তান সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান ভিক্তর করোতুন বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব মিলিয়ে আগ্রহী যে, সেনা বাহিনী ফিরিয়ে নিতে. তাদের ক্ষতিই হচ্ছে. তারা এখনই স্বীকার করছে যে, সামরিক পদ্ধতিতে লক্ষ্যের সাধন হবে না. অবশ্যই তারা চলে যাবে. কিন্তু অনেকদিন ধরেই যাবে ও তা ২০১৫- ১৬ সাল পর্যন্ত চলবে. কিন্তু, তারা সেখানে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ঠিকই বজায় রাখবে. এটা ইতিমধ্যেই দলিলে লেখা হয়ে গিয়েছে, যা এই আসন্ন কালের মধ্যেই আফগান পার্লামেন্ট গ্রহণ করবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক নিয়ে".

    এই দেশে ৫টি আমেরিকার ঘাঁটি রয়ে যাবে. তাতে আর সব কিছুর সঙ্গে রাখা হবে অস্ত্র শস্ত্র, যা এই দেশ থেকে তখনই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে না. ওয়াশিংটনে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, এই ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ও বক্র ভাবে ইরানকে বন্দুকের নলের মুখে ধরে রাখতে পারবে, আর তারই সঙ্গে পাকিস্তানের পারমানবিক ক্ষমতাকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে.

    তাও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের সভাপতিত্বে বন সম্মেলনের প্রধান প্রশ্ন সামরিক নয়, দেশের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ জানিয়েছেন যে, এর আগে আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল, যাঁরা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, তাঁরা বন সম্মেলনের পরে নেওয়ার জন্য একটি দলিলের খসড়া তৈরী করেছিলেন. এটা মূল নীতি গুলির এক সামগ্রিক রূপ, যা নিরাপত্তা, সশস্ত্র বিরোধীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে তৈরী করা হয়েছিল.

    বোঝাই যাচ্ছে যে, ২০১৪ সালের পরে বিশ্বের নেতারা আফগানিস্তানকে মনোযোগের বাইরে রাখবেন না. প্রধান কাজ হল – তালিবদের সঙ্গে জনগনের যোগাযোগ ছিন্ন করা. বেকারত্ব, অন্য কোন ভাবে জীবন যাপন করার উপায় না থাকায়, দেশের জনগনের এক বিরাট অংশ তালিবান আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে. ২০২৪ সাল অবধি দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনাও রয়েছে আফগানিস্তান নিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক গঠন বিচার কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ইভগেনিয়া বইকো বলেছেন:

    "এখানে কথা হয়েছে শিল্প ক্ষেত্র তৈরী করা নিয়ে ও সামাজিক প্রয়োজনীয় উত্পাদনের ক্ষেত্র তৈরী করা নিয়ে. রাশিয়ার নেতৃত্ব এই ক্ষেত্রে খুব একটা কম গুরুত্বপূর্ণ নন, কারণ মস্কো একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, সাহায্য করা হবে ও তার মধ্যে আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে প্রশিক্ষিত মানুষ দিয়েও সহায়তা করা হবে. দশ বছর ধরেই দেখা গিয়েছে যে, নিরাপত্তা ও শান্তির প্রশ্নে কোনও বিশাল পরিবর্তন করা সম্ভব হয় নি. এটা অবশ্যই আফগানিস্তানের বেশীর ভাগ লোকই তাদের দেশে আমেরিকার সেনা বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে সব রকমের আগ্রহ হারিয়েছে বলে".

    আপাততঃ আফগানিস্তানের বেশীর ভাগ জনতাই মাদক উত্পাদনের মধ্যে নিজেদের রোজগার দেখছেন. আফগানিস্তান- বিশ্বের সবচেয়ে বড় আফিম ও হেরোইনের উত্স. রাষ্ট্রসঙ্ঘের শেষ রিপোর্ট অনুযায়ী ইউরোপ – আফগানিস্তানের হেরোইনের প্রধান গ্রাহক. তারা প্রত্যেক বছর দেড়শ টন আমদানী করছে. এশিয়ার দেশ গুলিতে ১২০ টন ও আফ্রিকাতে যাচ্ছে – ৪৫ টন. আর সমস্ত বন সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরাই বুঝতে পারছেন যে, এর থেকে বার হওয়ার পথ একমাত্র পারস্পরিক ভাবে আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব.