নতুন নির্বাচিত লোকসভা বা রাষ্ট্রীয় দ্যুমার নিম্ন কক্ষে বর্তমানের চারটি রাজনৈতিক দলই প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে. প্রাথমিক ভাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদ প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফল আপাততঃ তাই. সব মিলিয়ে নির্বাচন ছিল কোন বড় রকমের আইন লঙ্ঘণের প্রমাণ ছাড়াই. কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের উপপ্রধান লিওনিদ ইভলেভ ঘোষণা করেছেন যে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের কাছে ভোটের সময়ে একশর সামান্য বেশী অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে.

       ভোট দানের অধিকার প্রাপ্ত প্রায় ১১ কোটি রুশ নাগরিকের মধ্য রবিবারে ভোট দিতে এসেছিলেন শতকরা ৬০ ভাগ মতো. এখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” পেয়েছে প্রায় শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ভোট.

       লোকসভার ভোট পর্ব শেষ হয়েছে. এখনও অবশ্যই বাকী শেষ অবধি গণনা ও ফলাফল প্রকাশ, কিন্তু আগামী ষষ্ঠ লোকসভা কি রকমের হতে চলেছে, তা এখনই সব মিলিয়ে স্পষ্ট বুঝতে পারা যাচ্ছে. “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” সংখ্যাগরিষ্ঠ, তার পরেই রুশ কমিউনিস্ট পার্টি. তৃতীয় ও চতুর্থ দল, যথাক্রমে “ন্যায় বাদী রাশিয়া” ও “রাশিয়ার লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দল”. সবকটি দলই লোকসভায় প্রবেশের উপযুক্ত নূন্যতম শতকরা ৭ভাগের বেশী ভোট পেয়েছে ও তারই সঙ্গে প্রতিনিধিত্বের অধিকার রাখে. বাকী তিনটি দল “ইয়াবলকা”, “রাশিয়ার দেশপ্রেমী” ও “উচিত্ কাজের দল” নূন্যতম পরিমানে ভোট না পাওয়ায় লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না.

       “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের জন্য বর্তমানের নির্বাচন ছিল সত্যই বড় পরীক্ষা. বহু সংখ্যক জনমত সমীক্ষায় ভোটের আগে দেখতে পাওয়া দিয়েছিল যে, দলের পক্ষে পরাজয় এড়াতে পারলেও সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ কষ্টসাধ্য হবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি, “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” জয়ী হতে পেরেছে.

       দেশে যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা এই ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনের ফলে প্রকাশিত হয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার জাতীয় পরিকল্পনা ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজভ মনে করেছেন যে, এটা দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু নিয়ে এক স্পষ্ট লক্ষণ, আর নেতৃস্থানীয় দল “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” এই ভোটে অংশ নিয়েছে সত্ভাবেই, তাই তিনি বলেছেন:

       “আমরা দেখতে পাচ্ছি. ভোটের আগে প্রবল ভাবে জনমত সৃষ্টির প্রচেষ্টা হলেও বিরোধী পক্ষ অনেক বেশী ভোট পেয়েছে. শেষ অবধি ফলাফলে অবশ্য আবার পাল্টে যেতেও পারে. কিন্তু লক্ষণ পরিস্কার. সম্ভবতঃ লোকসভাতে নির্বাচিত বিরোধী পক্ষ এই ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রতিবাদ করতে যাবে না. আর আমার মতে, এই ফলাফল খুবই সম্ভবতঃ সত্যিকারের. অন্য বিষয় এখন হল যে, বিরোধী পক্ষের নেতৃত্ব তাদের এই সাফল্যের জন্য যথেষ্ট কাজ করেন নি, বলা যেতে পারে জনমত ছিল ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে”.

       রাশিয়ার অন্য আরেকজন রাজনীতিবিদ – জাতীয় জ্বালানী শক্তি নিরাপত্তা তহবিলের ডিরেক্টর কনস্তান্তিন সিমেনভ উল্লেখ করেছেন যে, ষষ্ঠ লোকসভাতে এমনকি জনপ্রিয় হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে বাম পন্থী বিরোধী দলের ব্লক তৈরী হতেও পারে, কারণ প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারে দেখা গিয়েছিল যে, লোকসভার দলগুলি খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে সরকারের বিরোধীতা করে ছিল, তাই তিনি বলেছেন:

       “এবারের নির্বাচনে “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার” বিরুদ্ধে সবকটি রাজনৈতিক দলই ছিল, যা এর আগের লোকসভা নির্বাচন গুলিতে দেখা যায় নি. গতবারে “ন্যায় বাদী রাশিয়া” দল স্পষ্টই "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলকে প্রচ্ছন্ন ভাবে সমর্থন দিয়েছিল ও বিরোধী ভোটের একাংশ জয় করে নিয়ে বিরোধী পক্ষকে লোকসভাতে বেশী ক্ষমতা পেতে দেয় নি. এবারে কিন্তু তা হয় নি, তবুও ক্ষমতাসীন দল দেখা যাচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যাতে লোকসভায় বেশী পরিমানে উপস্থিতি থাকে”.

       আরও একটি অনাপেক্ষিত ফল হয়েছে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে এই বারের ভোটের জন্য প্রশংসা পাওয়া, প্রায় প্রত্যেকেই এবারের ভোটকে বলেছেন পরিচ্ছন্ন ভোট গ্রহণ করা হয়েছে. প্রযুক্তি ও সামান্য মানবিক ভ্রান্তি, যা ভোটের ফলাফলে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে না, তাই এবারে একমাত্র লক্ষ্য করতে পেরেছেন বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা.