কোনো প্রকাশ্য শোভাযাত্রা নয়, বিতর্ক বা মিটিং নয়. ৩রা ডিসেম্বর গোটা রাশিয়ায় তথাকথিত ‘নীরবতা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে. এর উদ্দেশ্য – ভোটদাতাদের চিন্তাভাবনা করার সুযোগ দেওয়া এবং ৪ঠা ডিসেম্বর একদিনের নির্বাচনে যাতে তারা সচেতচনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে.

     সরকারীভাবে ঘোষিত ‘নীরবতা দিবসে’র মেয়াদ ২৪ ঘন্টার বেশি. বিশেষজ্ঞদের জন্য এবং যারা নির্বাচনে সাংগঠনিক কাজে অংশ নিয়েছে, তাদের জন্য আজ আরও একবার কৃতকর্মের বিশ্লেষণের দিন. কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিশনের সদস্যা ইলেনা দুব্রোভিনা বলছেন – একদিনে সারাদেশে নির্বাচন যাতে কোনোরকম বাধাবিঘ্ন ছাড়া সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য অপরিহার্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে. ---

     রাশিয়ার ভূখন্ডে ৯৬ হাজার পোলিং বুথের আয়োজন করা হয়েছে. দেশের বাইরে ৩৭০টি. সব বুথেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে. এরমধ্যে ব্যালট পেপার, যার উপর বিশেষ ছাপ আছে, যার দৌলতে জাল করা অসম্ভব হবে. বিদেশ সহ যেখানে ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হবে না, সেখানে থাকবে আধুনিক যন্ত্র.

      সরকারী তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের নির্বাচনে ১০ কোটি ৯০ লাখ ভোটাধিকারী অংশ নিতে পারে. তার মধ্যে ১৮ লাখ মানুষ বিদেশে. গতকাল জানা গেছে, যে গোয়ায় ভ্রমণকারী রুশী নাগরিকেরা এবারে ভোট দিতে পারবে. পোলিং বুথ সেখানে খোলা হচ্ছে স্থানীয় এক এ্যাডভোকেটের অফিসে. আশা করা যাচ্ছে, যে প্রায় ২ হাজার ভ্রমণকারী সেখানে ভোট দিতে আসতে পারে. কয়েকটি দেশে ভোটদাতারা আরো আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে.

     নির্বাচনের পূর্ববর্তী কয়েকদিন পর্য়বেক্ষকরাও রীতিমতো ব্যস্ত. পোলিং বুথগুলিতে পর্যবেক্ষনের কাজে অংশ নেবেন ৫ লাখেরও বেশি রুশী ও ৬৯৭ জন বিদেশী বিশেষজ্ঞ. নীরবতা দিবসের ঠিক আগে আয়ারল্যান্ড, আমেরিকা, ইস্রায়েল ও আরো একসারি দেশ থেকে আগত পর্যবেক্ষকেরা এক ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেছেন. সেখানে উদ্ধৃত আছে, যে তারা স্বাধীন ও আবেগবিহীন হয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন. এরকম তথ্যের উদ্ভব – খুব ভালো লক্ষন. কারন ইদানীংকালে বহু সংস্থা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে রাশিয়ায় নির্বাচনের অগণতান্ত্রিক চরিত্রের কথা বলতো. বলছেন রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধানে কার্যকরী জনসমাজ উন্নয়ন ও মানবাধিকার পরিষদের সদস্য লিওনিদ পলিকোভ. ---

     সমালোচনা – যখন সেটা গঠণমুলক – তা স্বাগত. কিন্তু এখানে বড় কষ্টে সেরকম সদর্থক সংলাপ করা যায়. এটা প্রথাগত সমস্যা. এবং তা ভিত্তিহীন নয়. কারন আমরা ইতিপূর্বে লক্ষ্য করেছি, যে বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার অনুপস্থিতি লুকায়নি এবং আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখে পরে বলেছে, যে রাশিয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া নাকি অগণতান্ত্রিক ছিল. বাস্তবে যাই ঘটুক না কেন, তারা তাদের মতে খাঁড়া থেকেছে.

     বিশেষজ্ঞেরা উল্লেখ করছেন, যে রাশিয়ার মতো আইনপ্রণালী ইউরোপের খুব কম দেশেই আছে, যা অনুযায়ী বিদেশী পর্যবেক্ষকদের পোলিং বুথে উপস্থিত থাকার এবং ফোটো ও ভিডিও তোলার অধিকার দেওয়া হয়. আর নির্বাচনের আগে প্রচারকালে রুশী মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থা ‘সামাজিক নিয়ন্ত্রণ’ উল্লেখ করেছে, যে সেরকম ঘটনা কম. হট-লাইনের মাধ্যমে আসা ৮০০ অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২১টি ঘটনা সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে.

    স্মরন করিয়ে দিতে চাই, যে ৪ঠা ডিসেম্বর লোকসভার নির্বাচনে ৭টি নথিভুক্ত রাজনৈতিক পার্টিই অংশ নেবে.