ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচন হওয়ার হাতে গোনা দিনগুলি শুধু বাকী. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভ্লাদিমির পুতিন মস্কো শহরে নিজেদের "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের সক্রিয় সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন.

এই সাক্ষাত্কার রবিবার ভোট হওয়ার আগে শেষবারের মতো. মনে করিয়ে দিই যে, রাষ্ট্রপতি দেশের ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী তালিকার প্রথমে রয়েছেন ও প্রধানমন্ত্রী এই দলের নেতা. দেশে রাজনৈতিক লড়াইয়ের উত্তেজনা আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একেবারে তুঙ্গে উঠেছে, আর বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির নেতারা আরও একবার বিশদ করে জানিয়েছেন বিজয়ী হতে পারলে তাঁদের মনোযোগে যে বিষয় গুলি অগ্রাধিকার পাবে, সেই গুলি নিয়ে.

দিমিত্রি মেদভেদেভের কথা অনুযায়ী, দেশের রাজনীতিতে আধুনিকীকরণের লক্ষ্য থাকবে প্রাথমিক. কিন্তু রাষ্ট্রপতির এই ধারণাতে কিছু জিনিস রয়েছে একেবারেই ব্যক্তিগত, তিনি বলেছেন:

"আধুনিকীকরণ – এটা মনোভাব. যদি এই রকম একটা বোধ কাজ করে যে, জীবনের গতিতে পরিবর্তন হতে বাধ্য, তবে, সব কাজই আমাদের সফল হবে. আমরা মনে করি যে, এই বিষয় নিয়ে কাজ করার দরকার আছে, যদি দেশের জনগন তাঁদের তরফ থেকে আমাদের এই কাজের দায়িত্ব দেন".

ভ্লাদিমির পুতিন নিজের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের পরিবর্তনের এক সামগ্রিক ধরণ রয়েছে, আর আধুনিকীকরণ – এটা দেশের ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় রাজনীতির অঙ্গ. আর বিজয় হলে তা চালিয়ে যাওয়াই হবে. তিনি বলেছেন:

"এটা শিল্প ক্ষেত্রকে স্পর্শ করে, কৃষিকেও, যদি ভোটদাতারা ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া দলের জন্য ও আপনাদের এই বিনীত সেবককে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচিত করেন, তবে সরকারের কাজকর্মের নেতৃত্ব করবেন দিমিত্রি আনাতোলিয়েভিচ. আমাদের সকলের জীবনকেই এক অন্য রেল পথের উপরে বসাতে হবে. অর্থনীতি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল, আমাদের খনিজ তেল ও গ্যাসের উপরে নির্ভরতা থেকে সরে যেতে হবে, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মডেলে উন্নয়নের পথে চলতে হবে. এর জন্য বিজ্ঞান ও শিক্ষাকেই উন্নত করতে হবে. উদ্ভাবনী ও আধুনিকীকরণের উদ্যোগ আমাদের সমস্ত সমাজের গভীরেই প্রবেশ করতে বাধ্য, এটা দেশের উন্নতির এক নতুন অধ্যায় হতে বাধ্য".

 একই সময়ে বৃহত্তম দল গুলির নেতারা – যারা "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের প্রতিদ্বন্দ্বী – তাঁরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও রাজধানীতে সক্রিয়ভাবে জনতাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন. যেমন, "ন্যায় বাদী রাশিয়া" দলের নেতা সের্গেই মিরোনভ এই সপ্তাহে প্রাক্ নির্বাচনী সফরে গিয়েছিলেন ওমস্ক শহরে, সেখানে তিনি একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে দেখা করেছেন.

রুশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গেন্নাদি জ্যুগানোভ গিয়েছিলেন সামারা শহরে. সেখানে তিনি রাজ্যের রাজ্যপাল ভ্লাদিমির আর্তিয়াকভের সঙ্গে দেখা করেছেন ও ভ্লাদিমির লেনিনের বাড়ী ও জাদুঘরেও গিয়েছিলেন. লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের এক ও অন্যতম নেতা ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি মস্কোতেই নির্বাচন প্রচার করাকে ঠিক মনে করেছেন.

২রা ডিসেম্বর – শেষ দিন, যেদিন নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোন দলের জন্য প্রচার করা যাবে. শনিবারে "নৈশ্যব্দের দিন", আর রবিবারে – সারা দেশ জুড়ে ভোট, যা ঠিক করে দেবে আগামী রুশ লোকসভার কাঠামো ও তার সদস্যদের.