ভারত ও পাকিস্তানের শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ার অভিপ্রায়কে মস্কো সমর্থন করে. রাশিয়া মনে করে, যে উক্ত দুই দেশের সদস্যপদ সংস্থার স্থিতিকে আরও মজবুত করবে এবং ঐ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরনে সাহায্য করবে. এই কথা ঘোষণা করেছেন শাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল বারস্কি.

    কিরিল বারস্কির কথায়, ২০১২ সালের গ্রীস্মকালে চীনে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী শীর্ষবৈঠকেই সংস্থার সম্প্রসারণের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে. রুশী কূটনীতিজ্ঞের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের সদস্যপদ প্রাপ্তি সংস্থাকে মর্য়াদাসম্পন্ন আঞ্চলিক সংগঠনে পরিণত করতে পারে এবং গোটা এশিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেটা হবে মঙ্গলজনক. বারস্কি আরও উল্লেখ করেছেন, যে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্যপদ উক্ত দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নেও সাহায্য করবে. এইভাবে মস্কো বুঝিয়ে দিল, যে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্প্রসারণ হলে বিরোধ বাড়বে, এই আশংকা পুরোপুরি ভিত্তিহীন.

    এই আশংকার কারনেই আজ ১০ বছর ধরে সংস্থার স্থায়ী সদস্য দেশের সংখ্যা বাড়েনি. সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত সংস্থার স্থায়ী সদস্য ৬টি দেশের মতামত ছিল, যে আপাততঃ সংস্থার সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকা উচিত. প্রথমে বর্তমানের আকারে সংস্থার সংগঠন মজবুত করা দরকার, অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন. এই সব ব্যাখ্যার পেছনে ছিল শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মঞ্চে জটিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, যেমন ভারত ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্ককে বা উদাহরনস্বরূপ পাক-ভারতের সম্পর্ককে টেনে আনবার অনিচ্ছা – সেরকমই মনে করেন রুশী প্রাচ্যতত্ববিদ ও রাশিয়ার বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির সদস্য গেন্নাদি চুরফিন.

     ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘকাল যাবত, প্রায় স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই কাশ্মীরকে ঘিরে বিতর্ক চালাচ্ছে. বিতর্ক খুবই কড়া যা মাঝে মাঝে সশস্ত্র সংঘাতে পর্যবসিত হয়েছে.

    সংস্থার মঞ্চে শান্তিরক্ষার জন্য সাময়িকভাবে ভুলে যেতে হয়েছিল, যে সংস্থার পত্তনের সময় তার উন্মুক্ত আকারের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল. তবে রাশিয়ার বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির দূরপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সের্গেই লুজিয়ানিন বলছেন, যে প্রত্যেক শীর্ষবৈঠকেই নিয়মিতভাবে এই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হত.

      একটা দৃষ্টিভঙ্গী ছিল, যে সংস্থার সম্প্রসারণ করার দরকার নেই, বরং সংরক্ষণ করা দরকার, ছয় দেশকে নিয়েই সংস্থা চালানো যাক. কিন্তু বর্তমানে মতবদল হয়েছে, সের্গেই লুজিয়ানিন বলছেন, যে ক্রমশঃ সংস্থার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে. মতবদল করতে বাধ্য করেছে এই এলাকার জটিল পরিস্থিতি, আফগানিস্তানে নড়বড়ে অবস্থা, মাদকদ্রব্যের চোরাচালানীর মাত্রাবৃদ্ধি. ভারত হল প্রজাতান্ত্রিক দেশ, য়েখানে অবিরত জাতি ও ধর্ম নিযে রাজনীতি করার প্রচেষ্টার ও বিচ্ছিন্নতাবাদের মোকাবিলা করা হয়. ভারত নিজস্ব অভিজ্ঞতায় জানে, যে সন্ত্রাসবাদী হুমকি কি জিনিষ. এই কারনেই শাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ভারতের যোগদান একান্তই অভিপ্রেত. অন্যদিকে ইসলামাবাদ আফগানিস্তানে বিশৃঙ্খলা মেটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে এবং এই এলাকায় তার যথেষ্ট পরিমানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আছে. বিশেষতঃ পাকিস্তানের সাথে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতকে সংস্থায় গ্রহণ করবার ব্যাপারে চীনকে রাজী হতে সাহায্য করতে পারে. এই দুই মহান এশীয় রাষ্ট্রের একই আন্তর্জাতিক সংস্থার আওতায় কর্মকান্ড বেইজিং ও নয়াদিল্লীর মধ্যে গঠণমুলক সংলাপের প্রক্রিয়া সক্রিয় করে তুলতে সাহায্য করতে পারে.

      আন্তর্জাতিক স্তরে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা তার ভার বৃদ্ধি করতে পারে ভিয়েতনামকেও সদস্য করলে. শাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় রাশিয়ার সমন্বয়কারী কিরিল বারস্কি বলছেন, য়ে হ্যানয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনপত্র জমা দিতে প্রস্তুত. সুতরাং সংস্থা তার অস্তিত্বের দ্বিতীয় দশকে বিশাল পরিবর্ধনের অপেক্ষা করছে. ভারত ও পাকিস্তান সদস্যপদ পেলে সংস্থায় আরও একটি সরকারী ভাষা বাড়বে – ইংরাজী, সেই সঙ্গেই সংস্থা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার প্রভাব ব্যাপৃত করতে পারবে.