রাশিয়াতে লোকসভা নির্বাচন উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হবে. একটি নতুন উদ্ভাবন যোগ হবে বৈদ্যুতিন ব্যালট বক্সের প্রসারিত ব্যবহার. সারা রাশিয়া জুড়ে কয়েক সহস্র কেন্দ্রে ও বিদেশের কিছু নির্বাচন কেন্দ্রে সেই গুলি ৪ঠা ডিসেম্বর ব্যবহার করা হতে চলেছে. এই প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের ভ্রান্তি সংক্রান্ত ভুল কমাতে সাহায্য করবে, ত্রুটি ও সুনির্দিষ্ট না হওয়া থেকে রক্ষা করবে.

     আসন্ন রবিবারে রাশিয়াতে হতে চলেছে ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচন. এই নির্বাচনে অনেক কিছুই প্রথম বার করা হতে চলেছে: তাতে রাশিয়াতে নথীভুক্ত সাতটি রাজনৈতিক দলের সব কটি যোগ দিচ্ছে, তারই সঙ্গে প্রথমবার রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ অর্থাত্ লোকসভা নির্বাচন হতে চলেছে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য – তার আগে সদস্যরা কাজ করতেন চার বছরের জন্য. বর্তমানের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশেষত্বও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় – বহুল পরিমানে প্রযুক্তিগত নতুনত্বের ব্যবহার. পাঁচ হাজার ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে বসানো হতে চলেছে বৈদ্যুতিন ভোট গণনার ব্যবস্থা. নতুন যন্ত্র ব্যালট নিয়ে বুঝে নেয় কোন দলের জন্য ভোট দেওয়া হয়েছে, যেগুলি ঠিক ব্যালট নয়, সেই গুলিকে নাকচ করে ও নিজে থেকে ভোটের ফলাফল রিপোর্ট ছেপে বার করে. পরিষদের কাজ থাকে শুধু সেই রিপোর্ট স্বাক্ষর করা, এই খবর জানিয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান মিখাইল পাপোভ বলেছেন:

     “এই যন্ত্র ব্যবস্থা ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফলাফল জানিয়ে দেবে. সুতরাং পরিষদের ভোট গণনার জন্য কোন সময় খরচ করতে হচ্ছে না. একই সঙ্গে হাতে ভোট গনণার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে, যদি তার প্রয়োজন পড়ে. এটা – বিভিন্ন ধরনের আইন ভঙ্গ, অভিযোগ. পরীক্ষার সময়ে আমরা যতই হাতে ভোট গুণি না কেন, যন্ত্রের ফল থেকে তা একবারও অন্য হয় নি. প্রযুক্তি সবসময়েই সব ঠিকই গুণেছে”.

     অবশ্যই যন্ত্রকে অন্য ভাবে গুণতে অনুরোধ করে লাভ নেই. এই ভাবেই মানুষের ভ্রান্তি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন মিখাইল পাপোভ. তা অন্য ভাবে প্রোগ্রাম করে দেওয়াও যায় না. অন্যান্য গুণের সঙ্গে এই “আশ্চর্য প্রযুক্তি” ভোটারের সঙ্গে কথাও বলতে পারে. স্নিগ্ধ মহিলা কণ্ঠে অবশ্যই বলে দেওয়া হবে না কাদের ভোট দিতে হবে. নতুন যন্ত্র নিরুত্তেজ ও স্নিগ্ধ মহিলা কণ্ঠস্বরে তাঁদের ভুল ধরিয়ে দেবে, যাঁরা ভুল ভাবে ব্যালট বক্সে ফেলতে যাবেন, যেমন উল্টো করে ফেলতে গেলে, তাই মিখাইল পাপোভ বলেছেন:

     “যন্ত্র প্রত্যেক ভোটারকে স্বাগত জানাবে, ভোট দানের জন্য ধন্যবাদ দেবে, যদি কেউ একটির জায়গায় একাধিক ব্যালট ফেলতে যায়, তবে উচ্চ কণ্ঠে জানান দেবে: “একাধিক ব্যালট, একটি করে ব্যালট বক্সে দিন”. এই কথা বাকী ভোটাররা শুনতে পেয়ে যাবেন, যাঁরা সেই সময়ে কেন্দ্রে থাকবেন, নির্বাচনী পরিষদের লোকেরা ও পর্যবেক্ষকেরা তখন ব্যবস্থা নেবেন”.

     বৈদ্যুতিন ভোট দানের ব্যবস্থা – কাগজ বিহীণ ভোটের ব্যবস্থাও করতে পারে. ভোটার তালিকায় নাম মেলানোর সময়ে ভোট দাতা একটি কার্ড পাবেন, যা এই যন্ত্র পড়তে পারে ও সেন্সর স্ক্রীণে নানা রকমের ভোটের সম্ভাবনা উল্লেখ করে দিতে পারে, ভোট দাতার কাজ বাকী থাকবে শুধু নিজের পছন্দ মতো দলকে ভোট দেওয়া ও তার প্রমাণ হিসাবে হাতে রসিদ পাওয়া, তাই মিখাইল পাপোভ বলছেন:

     “ভোটদাতারা স্ক্রীণের তথ্য ও হাতের কাগজ মিলিয়ে দেখে নিতে পারবেন ও তা দিয়ে ভরসা করতে পারবেন যে, তাঁর নির্বাচন সঠিক হয়েছে. ভোটার স্ক্রীণের কাছ থেকে সরে গেলে কাগজের রোল গুটিয়ে যাবে, যাতে পরবর্তী ভোটার দেখতে না পান, আগের লোক কাদের ভোট দিয়েছেন. এই ভাবেই ভোট দানের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে”.

এই ধরনের বৈদ্যুতিন যন্ত্র ব্যবস্থা শুধু রাশিয়াতেই বসানো হয় নি. প্রথমবার এই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবেন ভোটাররা রাশিয়ার জার্মানী, লাতভিয়া, পোল্যান্ডের দূতাবাস এবং কনসুলার দপ্তরে ও কাজাখস্থানের বৈকানুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্রে. আগে ভোটের আগে ও পরে বিদেশে বহুল পরিমানে ব্যালট পাঠানো ও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল খুবই যথেষ্ট জটিল কাজ. বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার ফলে এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট সহজ হয়েছে. কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদে আশা করা হচ্ছে যে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভোট গ্রহণ পর্ব হবে খুবই দ্রুত ও নির্বাচন কেন্দ্র গুলিতে প্রতীক্ষার সারি কমবে.