রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা "রসঅ্যাটমের" লক্ষ্য বিশ্বের পরমাণু শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র তৈরীর বাজারের এক পঞ্চমাংশ নিজেদের হাতে নেওয়া. বর্তমানে পারমানবিক রিয়্যাক্টর বানানোর মোট বায়না জমা পড়েছে ২৯টি.

    আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমান অনুযায়ী বিশ্বের মোট নতুন কেন্দ্রের প্রয়োজন পড়বে ৩৫০টি রিয়্যাক্টরের. আর এটা "ফুকুসিমা পারমানবিক কেন্দ্রের" বিপর্যয়ের পরে বিশ্বের বহু দেশের পারমানবিক শক্তিতে আস্থা কমে গিয়েছে বলে প্রচারের মধ্যেই. বহু দেশ পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র নাকি তৈরী করা বন্ধ করবে বলেও ভাবছে. কিন্তু এই সব দেখে শুনেও বোঝা গিয়েছে যে, এই বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার কোনও লক্ষণই নেই, বরং নতুন খেলোয়াড় ঢুকতে পারে, যেমন, দক্ষিণ কোরিয়া. সুতরাং বাজার নিয়ে লড়াই আরও হবে, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের পারমানবিক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গাগারিনস্কি বলেছেন:

    "এখানে আগের মতই ফ্রান্স, আমেরিকা ও জাপান একসাথে আর আলাদা করে রাশিয়া রয়েছে, তার ওপরে এসেছে চিন ও কোরিয়া. যারা এখনও কিছু তৈরী করে নি, শুধু চেষ্টা করছে এই বাজারে ঢোকার. তাদের নিজেদের প্রকল্প আছে, যা আমেরিকার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে তৈরী".

    রাশিয়া আজকের দিনে দেশের বাইরে ১২টি রিয়্যাক্টর লাগাচ্ছে, আরও ৭টির জন্য চুক্তি রয়েছে. সুতরাং একের পাঁচ ভাগ রাশিয়া অনায়াসেই পেতে পারে. দেশের আছে খুবই সহজে বিক্রী করার জন্য সর্বাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের রিয়্যাক্টর – তথাকথিত "পারমানবিক শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র – ২০০৬ প্রকল্প". যা ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই বিশাল কেন্দ্র খোলা হয়েছে, অংশতঃ চিনে ও ভারতে, গাগারিনস্কি বলেছেন:

    "এখন ২০০৬ প্রকল্পের সবচেয়ে আধুনিক রিয়্যাক্টর তৈরী হচ্ছে. আগামী বছরে আমাদের নতুন প্রজন্মের খুবই ভাল প্রকল্প থাকবে. এটা Typed optimized informatized reactor (TOIR)".

    ইউরোপীয় পারমানবিক কেন্দ্র ব্যবহারকারী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তৈরী নিয়মের অনেক বেশী কঠোর নিয়মের মধ্যে পরীক্ষা করে তৈরী করা হয়েছে "২০০৬ পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র নামের প্রকল্প".

    বিগত সময়ে বিশেষজ্ঞরা প্রাক্তন সমাজবাদী দেশ গুলির বাজারে লড়াই নিয়ে কথা শুরু করেছেন, যেখানে আমেরিকার পারমানবিক ব্যবসা আসতে চেয়েছে. কিন্তু রাশিয়াকে এই বাজার থেকে ঠেলে হঠানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আসন্ন ভবিষ্যতে বোধহয় সম্ভব হবে না, বলেই মনে করেছেন আন্দ্রেই গাগারিনস্কি, তাই তিনি বলেছেন:

    "আপাততঃ আমরাই জিতছি. চেখ দেশে মার্কিন প্রকল্প পাত্তা পায় নি, মনে হচ্ছে বুলগারিয়াতেও পাবে না".

    চেখ ও স্লোভাকিয়া, যদি সেখানে রুশ বিশেষজ্ঞরা তেমেলিন ও মখোভিত্স পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করে দিতে পারেন, তবে তারা পারমানবিক শক্তি থেকে উত্পন্ন বিদ্যুত এমনকি রপ্তানীও করতে পারবে, যেমন জার্মানীতে, যেখানে কয়েক ধাপে সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্র বন্ধ করা হবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে.