পার্লামেন্ট নির্বাচনের দলীয় প্রচারের চূড়ান্ত সময়ের শেষ হতে চলেছে. রাশিয়ার এই বছরের রাজনৈতিক ভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা – সর্ব্বোচ্চ আইন প্রণেতা প্রশাসনের নির্বাচন হওয়ার আর মাত্র ৪ দিন বাকী. মঙ্গলবার থেকেই (২৯শে নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় দ্যুমার সম্বন্ধে জনমত পরিসংখ্যান প্রকাশ নিষিদ্ধ হয়েছে. এই তথ্য কোথাও কোন রকমের গণ সংবাদ মাধ্যমে, এমনকি ইন্টারনেটেও প্রকাশ করা যাবে না. এই ব্যবস্থা ৩রা ডিসেম্বর তথাকথিত নৈশ্যব্দের দিনের প্রাক্ প্রস্তুতি রূপেই নেওয়া হয়েছে. আর তা আসলে একই লক্ষ্য নিয়ে যে, ভোটারেরা বাইরে থেকে কোন রকমের চাপ ছাড়াই যেন নিজেদের নির্বাচন করতে পারেন.

এই নিষেধ বহাল থাকবে ৪ঠা ডিসেম্বর মস্কো সময় রাত ৯টা পর্যন্ত, যখন রাশিয়াতে সমস্ত ভোট গ্রহণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে. তখন থেকেই রাশিয়ার নির্বাচন পরিষদ প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা শুরু করবে, সমাজ বিশেষজ্ঞরা ভোট দিয়ে বের হওয়া লোকেদের মন্তব্য থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান বা এক্সিট পোল রিপোর্ট দিতে শুরু করবেন.

আর আপাততঃ নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করে দেখা হবে সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, তাপ ও বিদ্যুত সরবরাহ, তারই সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়. আমরা এমন ভাবে সব করছি, যাতে কেউই ভোট দেওয়ার সময়ে কোন রকমের অসুবিধার মধ্যে না পড়েন, এই কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির চুরভ বলেছেন:

"রাশিয়া – বহু প্রজাতির দেশ, তাই দেশের দশটি এলাকায় ব্যালট পেপার দুই ও তার থেকেও বেশী ভাষায় ছাপা হয়েছে. যেমন, বাশকির রাজ্যে – রুশী, তাতার ও বাশকির ভাষাতে, আর মারি এল রাজ্যে রুশী, মারি রাজ্যের পাহাড়ী ও মালভুমি অঞ্চলের ভাষাতে".

ভোট গ্রহণ কেন্দ্র একই সঙ্গে খোলা হবে ১৪৫টি দেশে, যেখানে রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কে আবদ্ধ. বিদেশের কিছু দেশে, আর তারই সঙ্গে রাশিয়া দুর্গম এলাকাতেও পুরো দমে এখনই ভোট গ্রহণ পর্ব চলছে, তা শেষ হবে ২রা ডিসেম্বর. কিন্তু তার ফলাফল ৪ঠা ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপন রাখা হবে, যখন সারা রুশ দেশের লোকেরা নিজেদের নির্বাচন শেষ করবেন. বিদেশের ভোট গ্রহণ কেন্দ্র গুলিতেও রুশী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা অংশ নেবেন. রাশিয়ার লোকসভা নির্বাচনের জন্য সব মিলিয়ে ৬৪৯ জন বিদেশী পর্যবেক্ষককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে. তাঁরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের মিশন, ইউরোপীয় নিরাপত্তা সঙ্ঘ, ইউরোপীয় লোকসভা গুলির সঙ্ঘ, ইউরোপীয় সভা, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও উত্তরের সভার. এছাড়া ২০টিরও বেশী দেশের নির্বাচন পরিষদের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির চুরভ বলেছেন:

 "আমরা আশা করছি যে, ভোট গ্রহণ পর্বে নজরদারি করবেন পাঁচ লক্ষ রাজনৈতিক দল গুলির প্রতিনিধি. মনে করিয়ে দিই যে, রাশিয়ার আইন – ইউরোপের খুবই সীমিত সংখ্যক দেশের আইনের মত- যেখানে সমগ্র রাষ্ট্রীয় নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে. তাঁরা তাঁদের রুশ সহকর্মীদের মতোই সমস্ত রকমের অধিকার রাখেন, শুধু তাঁরা কোন রকমের আইন ভঙ্গ নিয়ে কোন দলিল তৈরী করতে পারেন না. একই সঙ্গে বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা সব সময়ে আমাদের আইন মেনে চলেন না. আমি একাধিকবার দেখেছি যে, তাঁরা অনেক সময়েই আমাদের ভোট গ্রহণ কেন্দ্র গুলিতে কোন জানান না দিয়ে একেবারে কাঁধে চালু ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন".

নির্বাচন পরিষদের প্রধান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ফোটো ও ভিডিও চিত্র তোলা সম্ভব, তবে তা কখনোই গোপনে নয়, কোন ব্যক্তির মুখ তাঁর সম্মতি ছাড়া দেখানোও বেআইনি.

বিশেষজ্ঞরা যেমন উল্লেখ করেছেন, সব মিলিয়ে রাশিয়ার লোকেদের নির্বাচনের প্রতি উত্সাহ বাড়ছে. আশা করা হচ্ছে যে, এবারে চার বছর আগের নির্বাচনের চেয়ে ভোটদাতাদের সংখ্যা বেশী হবে.