অর্থনীতিবিদেরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ইউরো মুদ্রার পতন কতটা সম্ভাব্য. গত সপ্তাহে খুবই বিতর্কিত হয়েছে ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাঙ্কের প্রাক্তন প্রধান জ্যাক আত্তালির পূর্বাভাস. তাঁর মতে ঐক্য বদ্ধ ইউরোপীয় অংশের বেঁচে থাকার মেয়াদ ক্যাথলিক বড়দিন পর্যন্ত, এক মাসেরও কম সময়. আর যদিও বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞরাই এই ধরনের পূর্বাভাসকে মনে করেছেন খুবই বর্ণহীন, ইউরোপীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে সন্দেহ তবুও বাড়ছেই. রেডিও কোম্পানী "রেডিও রাশিয়া" দেশের বিখ্যাত ও প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদদের কাছে "যদি সত্যই ইউরো অঞ্চলের পতনের প্রক্রিয়া শুরু হয় তাহলে কি হবে?", এই প্রশ্ন নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল.

    অর্থনীতিবিদেরা ২০০৮ সালের সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে গত তিন বছর ধরে খুবই অনিচ্ছা নিয়ে কোন পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন. খুবই অর্থহীণ কাজ এটা. বিগত বছর গুলির অর্থনীতি ঝটকা এতটাই গুরুতর সমস্যা গুলিকে উন্মুক্ত করেছে যে, সমস্ত ব্যবস্থা গুলির সারা বিশ্ব জুড়েই নতুন করে গঠন করা উচিত্ বলে মনে হয়েছে. কিছু বিশেষজ্ঞ তাই হয়তো গুরুত্ব দিয়েই নতুবা ব্যঙ্গ করে মনে করেছেন যে, এই পুনর্গঠনের প্রথম অধ্যায় হবে ইউরো অঞ্চলের পতন.

    কিন্তু এটা তো পরে হবে. আর শুরুতে যখন প্রথম দেশ, যেমন, গ্রীস, শেষ অবধি সাময়িক হলেও ইউরো অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করবে তখনই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে. ঋণের বাজারে এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে, বিনিয়োগকারীরা দুর্বল দেশ গুলির ঋণপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ভরসাযোগ্য বন্ড কিনতে শুরু করবে. জার্মানীর মত ভরসাযোগ্য ঋণ গ্রহীতার পক্ষেও বাজারে নতুন ঋণ পত্র বা বন্ড আনা মুশকিল হবে. আর তার মানে হল, শুরু হবে ঋণ দেওয়া নেওয়ার সমস্যা শুরু হবে. রাশিয়ার অর্থনীতি স্কুলের (বিশ্ববিদ্যালয়) রেক্টর সের্গেই গুরিয়েভ এই চিত্র অঙ্কনে কালো রঙের ব্যাপারে কার্পণ্য না করেই বলেছেন:

    "যদি গ্রীস ইউরো অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে, তাহলে তক্ষুণি বাজার ভাবতে শুরু করবে এর পরে কে? আর তারা যদি ধরে নেয় যে, এটা ইতালি, তবে তারা ইতালির বন্ড বিক্রী করতে শুরু করবে ও জার্মান কিনতে শুরু করবে. এটা একসাথে বেশ কয়েকটি দেশের বন্ডের দাম একেবারে নীচে ফেলে দেবে, যার ফলে শুরু হবে গুরুতর আতঙ্ক. ইউরোপের ব্যাঙ্ক ক্ষেত্র – ইউরো এলাকা থেকে কোন দেশের বেরিয়ে যাওয়ার পরে সবচেয়ে বেশী পরিমানে সম্ভবতঃ ক্ষতিগ্রস্ত হবে. আর সন্দেহ নেই যে, ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রশাসন চেষ্টা করে যাবে, যাতে ইউরোপের কোন একটি বড় ব্যাঙ্কও দেউলিয়া না হয়ে যায়, তা না হলে এটা খুবই গুরুতর ফল দেবে".

    কোনা বেচার সমস্যা সমস্ত আন্তর্ব্যাঙ্ক বাজারকেই বিপদে ফেলবে. আর আলাদা কিছু ঋণ দাতা সংস্থা, যারা সমস্যা সঙ্কুল দেশ গুলির ঋণপত্র কিনে রেখেছে, তাদের খুবই ঝুঁকি থাকবে ভারসাম্য হারানোর. আর এখানেই সঙ্কট গণ আতঙ্কে পরিনত হতে পারে, যখন লোকেরা নিজেদের সঞ্চয় ব্যাঙ্ক থেকে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য ছুটবে. প্রশাসনকে খুবই চেষ্টা করতে হবে দেশের জন সাধারণকে শান্ত করার জন্য, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ইভগেনি ইয়াসিন বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক গুলি খুবই স্পষ্ট করে বুঝতে পারছে যে, বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হল – আতঙ্ক. মনে করি যে, এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার করবে যে কোন রকমের ব্যবস্থা নিয়ে".

    পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যারও উদয় হবে. কি করে আবার জাতীয় মুদ্রার প্রচলন করা হবে? কি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিনিময়ের হার নির্ধারণ করা হবে? কি করে সমস্ত ঋণকে অন্য মুদ্রার হিসাবে আনা হবে? দেশ গুলি নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে কি না? সেই সমস্ত সহস্র কোটি ইউরোর কি হবে, যা প্রান্তবর্তী দেশ গুলির উদ্ধারে খরচ করা হয়েছে? বর্তমানে কাজ চলছে এমন সব চুক্তির ক্ষেত্রে কি করে ও কোন মুদ্রায় দাম দেওয়া হবে? প্রশ্ন অনেক. প্রসঙ্গতঃ, প্রাক্তন উপ অর্থমন্ত্রী আন্দ্রেই ভাভিলভ বিশ্বাস করেন যে, সেই সব বিষয়ে উত্তর খুঁজতে হবে না, কারণ ইউরো এলাকার কোন পতন হবে না, তাই তিনি বলেছেন:

    "কোন একটা দেশও নেই, যারা ইউরো অঞ্চল বা ইউরোপীয় সঙ্ঘ থেকে বেরিয়ে গিয়ে লাভ করবে. কি করে এটা ভাগ হয়ে যেতে পারে, আমি তো কোন রকমের ঘটনা পরম্পরাই দেখতে পাচ্ছি না".

    কিন্তু খুব কম বিশেষজ্ঞই এতটা আশাবাদী হয়ে ভাবতে পারছেন. ইউরোপীয় সঙ্ঘ জোড় বরাবর ফেটে যাওয়ার মতো শব্দ করছে. যখন সঙ্কট ছিল না, তখন দেশ গুলি ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও ইউরোপীয় অঞ্চলের দিকে ঝুঁকে ছিল. যে এই ভাবেই লাভজনক ও ভরসাযোগ্য হওয়া যাবে. আর যেই বিপদ এসেছে, জোটের বেশীর ভাগ অংশীদারই ঠিক করেছে চুপ করে মজা দেখার: আমার বাড়ী মাঠের শেষে, জ্বলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই কারোর জন্যই আমরা অর্থ দেবো না. শুধু দেশ গুলির পক্ষে যদি এই ধরনের মানসিকতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়, তবেই অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন যে, ইউরো এমনকি আগের থেকেও শক্তিশালী মুদ্রায় পরিনত হতে পারে.