লিবিয়ার নতুন ক্ষমতায় আসা লোকেরা, যারা কিনা মুহম্মর গাদ্দাফিকে খুন করেছে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য, তাদেরকেই এখন মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে অসদাচরণের জন্য কড়া সমালোচনায় পড়তে হয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুন অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় পরিষদকে দেশের যে কোন প্রজাতির মানুষের অধিকার খর্ব করা বন্ধ করতে আহ্বান করেছেন. আর নির্দিষ্ট করে বলতে হলে- দেশের কালো চামড়ার মানুষদের ও অভিবাসিত শ্রমিকদের অধিকার.

বান কী মুনের প্রকাশিত রিপোর্টে ত্রিপোলির বর্তমান সরকারের একেবারে বিধ্বংসী সমালোচনাই রয়েছে. দলিলে নির্দেশ করা হয়েছে যে, লিবিয়ার জেল গুলিতে বেআইনি ভাবে সাত হাজারেরও বেশী মানুষ বন্দী হয়ে রয়েছেন. বিশেষজ্ঞদের মতে তাদের যে ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে তা অমানবিক ও প্রায়ই তাদের উপরে শারীরিক অত্যাচার করা হচ্ছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব ঘোষণা করেছেন যে, বেশীর ভাগ বন্দীই ধরা পড়েছে আইন বহির্ভূত ভাবে, কোন রকমের অভিযোগ ছাড়াই এমনকি প্রমাণ ছাড়াই. তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই  - কালো চামড়ার মানুষ, আর তাদের মধ্যে মহিলা ও শিশুও রয়েছে.

লিবিয়ার নতুন প্রশাসনের কালো চামড়ার মানুষদের উপরে এই ধরনের বিরাগের কারণ যে, প্রথমে ক্ষমতা থেকে অপসারিত ও পরে নিহত গাদ্দাফির পক্ষে লিবিয়ার দক্ষিণের ও বিষুবরেখা নিকটবর্তী আফ্রিকা থেকে আসা কম কালো চামড়ার মানুষ যুদ্ধ করেন নি. কিন্তু যদি যাদের ধরা হয়েছে, তাদের উপরে সন্দেহ করাও যায় যে, তারা সামরিক অপরাধ করেছে, তবুও তাদের অপমান ও শারীরিক অত্যাচার করা যেতে পারে না, এই কথা উল্লেখ করে রুশ মানবাধিকার রক্ষা কর্মী ইভগেনি আর্খিপভ বলেছেন:

 "এই সব লোকেদের প্রতি মানবিক আচরণ করা দরকার. যদি সামরিক যুদ্ধের পরে ধরা পড়া লোকেরা কোন রকমের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ না করে থাকে, তবে যে কোন স্বাভাবিক দেশে তাদের রাজ ক্ষমার আওতায় স্বাধীন করে দেওয়া হয়ে থাকে. আর যদি তারা কোন অপরাধ করে থাকে, তবে তাদের বিচার করা হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায়. তদন্ত হওয়া দরকার, তার পরেই আদালত স্থির করে – এই লোকেরা দোষী অথবা নির্দোষ".

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব ত্রিপোলিকে আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার রক্ষা করে সমাজ গঠন করতে. লিবিয়ার ঘটনার চরম পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষা পরিষদের লোকেরা খবর দিয়েছিলেন যে, বিরোধী পক্ষের লোকেরা কালো চামড়ার মানুষদের হত্যা করছে, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই – দেশের নাগরিক ও অভিবাসিত শ্রমিক. আর এই প্রজাতিগত হত্যা করে সমাজ ফাঁকা করার দায়িত্ব পশ্চিমের জোট ও ন্যাটোর উপরেও পড়ে, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর মানবাধিকার কেন্দ্রের প্রধান মিখাইল সালকিন বলেছেন:

"পশ্চিম, লিবিয়াতে গণ অভ্যুত্থান আয়োজন করে ততদিন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য ছিল, যতদিন না এই দেশে আইন সঙ্গত প্রশাসন নির্বাচিত হয় ও আদালত আয়োজন করা সম্ভব হয়. আর লিবিয়াতে এখন শুধু একটাই মানবাধিকার রক্ষা কারী সংস্থা কাজ করছে - রেড ক্রস, যারা সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে দেশে দুর্ভিক্ষ না হয় ও চিকিত্সার কাজ চালানো যায়. অন্য কোন রকমের মানবাধিকার রক্ষা কারী, যারা আইন সঙ্গত কোন সহায়তা বা মানবাধিকার রক্ষার জন্য পর্যবেক্ষকের কাজ করতে পারে, তারা আজ লিবিয়াতে নেই. তাদের এখন লিবিয়াতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, কারণ তাদের দেখানোর মত এখন কিছু নেই".

বড় মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা গুলি একাধিকবার আন্তর্জাতিক কাঠামো গুলির কাছ থেকে লিবিয়ার নতুন সরকার কৃত সামরিক অপরাধের তদন্ত শুরু করা চেয়েছে. আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই কড়া অবস্থান হতে পারে যে, এই আহ্বান শোনা হয়েছে.