শনিবার ভোর রাতে আফগানিস্তান সীমান্তের পাক সেনা ঘাঁটিতে ন্যাটো বাহিনীর হেলিকপ্টার হানার ঘটনা ঘটেছে. নিহত হয়েছেন ২৮ জন পাক সেনা. এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সরকার আফগানিস্তানে অবস্থান রত ন্যাটো সেনাদের রসদ সরবরাহের সীমান্তবর্তী সমস্ত পথ বন্ধ করে দিয়েছে. খাইবার-পাখতুনওয়া (পূর্বতন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ) এবং `ফাটা` প্রদেশ সন্নিহিত এই সীমান্ত সড়ক গুলির মাধ্যমে দক্ষিণ আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটোর সেনাদের প্রায় ৮০ ভাগ রসদ সরবরাহ করা হয়. শুধু প্রজাতি অধ্যুষিত জায়গা গুলিতেই নয়, সমগ্র পাকিস্তানেই মার্কিন ও ন্যাটো বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল, জন সমাবেশ হয়েছে, দাবী উঠেছে অবিলম্বে ন্যাটো বাহিনী নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার.

এই দাবীতেই সায় দিয়ে পাকিস্তানের সরকার ১৫ দিনের মধ্যেই বেলুচিস্থান প্রদেশ থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীর পাইলট বিহীণ বিমানের ঘাঁটি সরিয়ে নিয়ে যেতে বলেছে. এছাড়া উপরোক্ত সরবরাহ বন্ধের নির্দেশও দিয়েছে. একটা ধারণা তৈরী হয়েছে যে, আবার আর একটা ভুল হয়ে গিয়েছে ধরনের কাণ্ড কারখানা দেখে পাকিস্তানের সরকার ও মানুষের এবারে সত্যই ধৈর্য্য চ্যুতি হয়েছে, তাই রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

"এই কয়েকদিন আগেও মনে হয়েছিল যে, পাক মার্কিন সম্পর্ক বুঝি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে: দুই পক্ষ থেকেই খুব কড়া ভাষায় সওয়াল জবাব হচ্ছিল, দুই পক্ষই বন্ধুত্বের ঘনত্ব নিয়ে কথা তুলেছিল. পাকিস্তানের সমাজের এই বিষয়ে কি ধারণা তা নিয়ে কথা বলাই বাহুল্য: সামাজিক পরিসংখ্যানের খবরে শতকরা ৮০ ভাগ পাকিস্তানের লোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আছেন, আর তারই সঙ্গে নিজেদের দেশের সরকারের প্রতিও, যারা তাঁদের ধারণায় মার্কিন দের উপর থেকে জোর করে বসিয়ে দেওয়া লোক. এমনকি এতদূর পর্যন্তও হয়েছে যে, ওয়াশিংটন শহরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত নাকি মার্কিন সরকারের কাছে সামরিক জুন্টা থেকে অসামরিক সরকারকে বাঁচানোর জন্য আবেদন নিয়ে পৌঁছে ছিলেন. স্ক্যাণ্ডাল হয়েছে বিরাট, আর রাষ্ট্রদূতকে পাক সরকার ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে".

প্রক্রিয়া চলছে বহু দিন ঘরে, সেই আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো জোটের সেনাদের অনুপ্রবেশের সময় থেকেই. পাকিস্তানের বহু লোকই এই অপারেশনকে দেখেছেন মুসলিম বিশ্বের উপরে মার্কিন হানা হিসাবে. পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে তালিবেরা বেশীর ভাগই পুস্তুন আর তাদের জাত ভাইয়েরা পাকিস্তানেরও নাগরিক.

এখানে মোড় ফেরানোর মত একটা মুহূর্ত ছিল এই বছরের মে মাসে, যখন মার্কিন সেনা বাহিনীর বিশেষ বিভাগের লোকেরা পাকিস্তানকে জানতে না দিয়ে সেই দেশের উচ্চ পদস্থ সামরিক বাহিনীর লোকেদের এলাকায় গিয়ে ওসামা বেন লাদেনকে মেরে এসেছিল – ছারপোকার মত. পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই অপমান কে দেশের সার্বভৌমত্ব গেল বলে ব্যাখ্যা করে দেশ জুড়ে আন্দোলন করেছে.

আর এই বারে এই নতুন করে আঘাত হানার ঘটনার পরে মার্কিন বিমান বহরের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি ও তদন্তের আশ্বাস স্বত্ত্বেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নজর পড়েছে ঘোষণার সেই অংশের উপরে, যেখানে মার্কিন বাহিনী বলেছে যে, তারা ভূমি থেকে আক্রমণের প্রত্যুত্তরে আঘাত হেনেছে, কারণ পাক বাহিনী এই খবর স্বীকার করতে রাজী নয়. তাদের দরকার দেশে দ্রুত সরকার বদল করে নিজেদের পছন্দ সই নেতাকে বসানো ও আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা ফন্দি ফিকির করে অর্থ পাওয়া. তা না হলে তারা হুমকি দিয়েছে যে, বারে আরও কড়া জবাব দেবে, এই প্রসঙ্গে ভলখোনস্কি বলেছেন:

"এই ধরনের পদক্ষেপ ন্যাটো জোটের জন্য যথেষ্ট ঝামেলার হবে, কারণ পাকিস্তানের পথ বন্ধ হলে, তাদের জন্য একমাত্র পথ খোলা থাকছে, প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির ভিতর দিয়ে পথ. সেখানেও খরচা আছে, আর তা বর্তমানের পথের দ্বি গুণেরও বেশী.

তার চেয়েও বেশী সমস্যার হল পাকিস্তান সঙ্গে আছে ধরে নিয়ে কিছু নতুন করাও যাচ্ছে না. তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশ ভেবেছে যে, আগেও এই ভাবে বিভিন্ন দেশে ও বিশেষ করে পাকিস্তানে ভুল করে অনেক সেনা খুন করা হয়েছে, তখন যদি সামান্য ভর্তুকি দিয়ে ব্যাপার মিটিয়ে ফেলা গিয়ে থাকে, তবে এখনও তা যাবে. কিন্তু তখন ভর্তুকি দেওয়ার মতো ক্ষমতা ও ইচ্ছা দুটিই ছিল, বর্তমানে আবার সেটা নেই".

তাই ভলখোনস্কির ধারণা যে, শনিবারের ঘটনা সেই শেষ টোকা হতে পারে. যার পরেই ধৈর্য্যের বাঁধে ফাটল ধরবে ও পাকিস্তান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক ভাষণ ও ঘোষণার মত এড়িয়ে যাওয়া কাজ কারবার নিয়ে পার হতে দেবে না. দেখা যাক আসলে কি হয়, হয়তো আবারও পর্বতের মুষিক প্রসব.