বিশেষজ্ঞ মহলে "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী হিসাবে ভ্লাদিমির পুতিনকে নির্বাচন নিয়ে ও তাঁর পরিকল্পনা সংক্রান্ত নীতি গুলি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে. যে বিষয়ে রাজনীতিবিদেরা একমত হয়েছেন – এটা ক্ষমতার পরম্পরা সংক্রান্ত নীতি ও দেশের জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা.

    "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের প্রাক্ নির্বাচনী সম্মেলনের প্রতিনিধিদের সামনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, নির্বাচন – এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের নবীকরণের অন্যতম সম্পূর্ণ চক্র. তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য এক বিশাল অধ্যায়ের শেষ হয়েছে, এখন সময় এসেছে একবিংশ শতকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাশিয়া গঠনের. এটা দেশের সমস্ত স্তরকেই স্পর্শ করে – সাধারন মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সমাজ পর্যন্ত. ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরাই উল্লেখ করেছেন ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাবিত নীতিতে পরম্পরা রক্ষা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার নীতির কথা. "রেডিও রাশিয়াকে" বিখ্যাত ব্যবসায়ী দাভিদ ইয়াকবাশভিলি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    "ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল স্থিতিশীলতা. পুতিন ব্যবসায়ী মহলে খুবই ভাল করে চেনা মানুষ, আমরা তাঁর কাজের পদ্ধতি জানি. তাঁর অভ্যাসও জানি.আর এটা খুব ভাল ব্যাপার যে, এই ক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য কিছুই বদল হচ্ছে না. শুধু আইন ব্যবস্থায় কিছু প্রয়োজনীয় বদল আনতে হবে, যা দেশের পরিস্থিতিকে উন্নত করবে ও ব্যবসাকে আরও সক্রিয় ভাবে বাড়তে সাহায্য করবে".

    "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের সামনে রাখা একটি লক্ষ্য – এমন এক অর্থনীতি গঠন, যা দেশের কাঁচামালের ভিত্তির উপরে নির্ভর করবে না. শিল্প ক্ষেত্রে আধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তির এলাকায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার বিনিয়োগ বাজার পরিষদের সদস্য আনাতোলি আকসাকোভ মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন:

    "যদি আমরা চাই যে, দেশ আধুনিক হবে, তবে আমাদের সমস্ত কিছুই করতে হবে যাতে, কাঁচামাল উত্পাদনের ক্ষেত্র থেকে বিনিয়োগ তার পরবর্তী পর্যায়ে পরিশোধনের ক্ষেত্রে যেন ব্যবহার হয়, বিশেষ করে সেই সমস্ত ক্ষেত্রে, যেখানে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাড়তি মূল্য যোগের পরিমান বেশী".

    বেশী সমস্যার বলে বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতি সম্বন্ধে পরিস্থিতি. ভ্লাদিমির পুতিন বিখ্যাত একজন কড়া রাজনীতিবিদ বলেই, যিনি দেশের স্বার্থকেই জোর দিয়ে রক্ষা করে থাকেন. লক্ষ্যনীয় হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে নেতিবাচক গতিবিধি – কারণ রাশিয়ার অংশগ্রহণে ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী সংক্রান্ত চুক্তিতে অগ্রসর হওয়া যায় নি, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ আলেক্সেই মাকারকিন বলেছেন:

    "পররাষ্ট্র নীতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হতেই পারে, এটা এই কারণে যে, মেদভেদেভের রাষ্ট্রপতি থাকার সময়ে আমরা আমেরিকার সঙ্গে সবচেয়ে বেশী কাছাকাছি আসতে পেরেছিলাম, এক ধরনের পুনর্গঠন করা হচ্ছিল আমাদের সম্পর্কে, এবারে এই গতি বিপদগ্রস্ত হতে পারে. কারণ রকেট প্রতিরক্ষা নিয়ে কোন চুক্তি করা সম্ভব হয় নি. আর রাশিয়া এই বিষয়কে মনে করে নীতিগত ভাবে মুখ্য".

    প্রসঙ্গতঃ বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতিতে বড় কোনও পরিবর্তন বোধহয় করা হবে না. এই বিষয়ে দলের সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই বলেছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমরা সহযোগিতার জন্য তৈরী আছি ও আমাদের সমস্ত বন্ধুদের সাথেও আলোচনা করার জন্য রাজী. কিন্তু আমরা চাই না যে, আমাদের কেউ কোন রকমের মডেল জোর করে চাপিয়ে দিক আর আমাদের হয়ে আমাদের ব্যবহার বা নির্বাচন ঠিক করে দিক. আমাদের সমস্ত বিদেশী সহকর্মীদের বোধগম্য হওয়া উচিত্: রাশিয়া – গণতান্ত্রিক দেশ, এটা এক ভরসাযোগ্য, পূর্বানুমান যোগ্য সহকর্মী, তাদের সঙ্গে সহমতে আসা প্রয়োজন ও অবশ্য কর্তব্য. কিন্তু বাইরে থেকে কোন কিছুই তার উপরে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না.