আমাদের গ্রহের সমগ্র ইতিহাস জুড়েই আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে. কিন্তু শুধু গত বিশ বছরে টের পাওয়া গিয়েছে মানুষের প্রভাব. উদ্বেগের কারণ হয়েছে পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের বর্জন. বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে কিয়োটো প্রোটোকল অনুসরণ করে. তারই মধ্যে বিশেষজ্ঞদের মতে সেই দলিলের বিধি নিষেধ এর মধ্যেই পুরনো হয়ে গিয়েছে. প্রয়োজন পড়েছে নতুন করে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্প নেওয়ার. কবে সেটা নেওয়া হবে? এটা একটা অন্যতম প্রশ্ন, যা নিয়ে আলোচনা করা হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত কাঠামো আইনের সমস্ত পক্ষের সতেরো তম সম্মেলনে. দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে ২৮শে নভেম্বর এই সম্মেলন শুরু হতে চলেছে.

আবহাওয়া পরিবর্তনের কনভেনশনে স্বাক্ষর রয়েছে ১৯৪টি দেশের. সুতরাং ডারবান শহরে আসছেন বাস্তবে বিশ্বের সমস্ত দেশেরই প্রতিনিধিরা. এমনকি সেই সমস্ত দেশ থেকেও, যাঁরা কিয়োটো প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেন নি, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন, এঁরা এই সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন. কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিবেশে বর্জন সমস্যা এখনও খুবই বাস্তব. তাই সম্মেলনে আলোচনা হবে হিসাবের ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে . তারই সঙ্গে অর্থনৈতিক সাহায্য করা হবে সবচেয়ে গরীব দেশ গুলিকে – যা কিয়োটো প্রোটোকলে অংশ নিয়েছেন.

কিন্তু খোলাখুলি ভাবে বলতে হলে ১৪ বছর আগে নেওয়া কিয়োটো প্রোটোকল এখন আর সমস্যার সমাধান করতে পেরে উঠছে না, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার আবহাওয়া ও জ্বালানী বিভাগের প্রধান জনসংযোগ কর্তা আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:

"নতুন চুক্তি করা দরকার. দুঃখের বিষয় হল, কাজ হচ্ছে খুবই আস্তে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছু দিন আগেই মন্তব্য করেছে যে, চুক্তি করা দরকার ২০২০ সাল অবধি নয়, বরং ২০২০ সাল থেকে. কিন্তু এটা একেবারেই করা চলতে পারে না. রাশিয়ার উচিত হবে খুবই কড়া ভাষায় বলা যে, কাজ ও চুক্তি এখনই চাই. অবশ্যই এই ধরনের চুক্তি এক রাত্রে তৈরী হয়ে যেতে পারে না. এমনকি ডারবান শহরে তো নয়ই. বরং, বলা যেতে পারে যে, ২০১৫ সালের মধ্য চুক্তি হওয়া অবশ্যই দরকার, যা দেশের পার্লামেন্ট গুলিতে স্বীকৃত হবে. অন্ততঃ তিরিশ থেকে চল্লিশটি বৃহত্ দেশের সেই চুক্তিতে থাকা দরকার".

অন্য প্রশ্ন হল – এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে কি করে মানিয়ে নেওয়া হবে. সম্ভবতঃ আবহাওয়ার উষ্ণতার কারণে একদিকে যেমন খরা হবে, তেমনই অন্য দিকে বন্যাও হবে. আর এর অর্থ হল যে, নতুন বাঁধ ও জল নিকাশী ব্যবস্থা তৈরী করতে হবে, কৃষিজাত পণ্যের রকমফের করতে হবে. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে হবে. তাছাড়া বর্বরের মতো বন ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে, তাই ককোরিন বলেছেন:

"সেই ধরনের বন রয়েছে শুধু বিষুবরেখা অঞ্চলের দেশ গুলিতে. বর্তমানে ডারবান শহরে সম্মেলনে দেখা হবে, কি করে ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, কঙ্গো ও অন্যান্য বিষুবরেখা অঞ্চলের দেশে বন সংরক্ষণ করা সম্ভব. অন্য একটি বিষয় হল – পুনরুত্পাদন সম্ভাব্য জ্বালানী শক্তির ব্যবহার বাড়ানো. তা সম্ভবতঃ হবেই. আর এটা তাড়াতাড়ি করতে পারলেই ভাল, যেন একবিংশ শতকের শেষ অবধি এর জন্য বসে থাকতে না হয়, আর মূল কাজ যেন মাঝামাঝির মধ্যেই শেষ হয়. তাহলে পরিবেশ আস্তে হলেও মানুষের প্রভাব মুক্ত হতে পারবে. আর আবার সেটা নির্ভর করবে সূর্য, পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও মাটি ইত্যাদির উপরেই".

এই সম্মেলনের কাজে প্রাণ সঞ্চার করবে গ্রীন পীস সংস্থার সক্রিয় কর্মীরা. তারা ঠিক করেছে বাঁশের হাওয়া ঘন্টা দিয়ে এক বিশাল শৃঙ্খল তৈরী করার, যা দিয়ে ডারবান শহরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে আয়োজিত পরিবেশ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের মনোযোগ পুনরুত্পাদন সম্ভাব্য শক্তির দিকে ফেরানো যায়. প্রত্যেক ঘন্টাতেই এই আন্দোলনের আলাদা কর্মীর নাম লেখা থাকবে. প্রসঙ্গতঃ যে কোন ইচ্ছুক ব্যক্তিই সবুজ শক্তির জন্য নিজেদের নাম লেখাতে পারে গ্রীন পীস আফ্রিকা সাইটে. ৯ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সতেরো তম পরিবেশ সংরক্ষণ কনভেনশনের পক্ষ গুলির সম্মেলন চলবে.